Home / হালচাল / ফতুয়ায় ফ্যাশন

ফতুয়ায় ফ্যাশন

1 juneপোশাক হিসেবে এই গরমে বেছে নিতে পারেন ফতুয়া।

দেশীয় মোটিফে বর্ণিল
নানা রং আর নকশায় নতুনভাবে কুর্তা বানাচ্ছে ফ্যাশন হাউসগুলো। রঙের বৈচিত্র্য আছে, তবে সব রংই হালকা। কারণ গাঢ় রঙের যেকোনো পোশাকই এই আবহাওয়ায় অস্বস্তির কারণ হতে পারে। ডিজাইনার মাহিন খান বললেন, ‘সব সময় হাল ফ্যাশনের পোশাক কিনতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তরুণীরা। সারা বছর চাহিদা থাকলেও গরমে আরামদায়ক পোশাক হিসেবে কুর্তার জুড়ি নেই। ট্র্যাডিশনাল, ক্যাজুয়াল আবার ফরমাল—যেকোনো ধরনের কুর্তাই কিনতে পাওয়া যায়। গরমে পরার জন্য এবার খানিকটা ঢিলেঢালা ভাব আনা হয়েছে কুর্তায়। কাপড় ও রং দুটোই হালকা হলে ভালো আরাম মিলবে এই সময়ে।’
গাঢ় রঙের প্যান্টের সঙ্গে চলতে পারে হালকা রঙের কুর্তাকেমন ফতুয়া?
শরীরের গঠন যেমন, তেমন ফতুয়া বা কুর্তাই বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ডিজাইনাররা। বিবিয়ানার লিপি খন্দকার বলেন, ‘ভারী গড়ন হলে হালকা রঙের সুতি কুর্তা মানানসই হবে। তবে তাদের অবশ্যই ফিটিং পরা উচিত নয়। লম্বা দেহের জন্য বড় বড় প্রিন্টের কুর্তা ভালো লাগবে। তবে উচ্চতা কম হলে সব সময় ছোট প্রিন্টের নকশা করা কুর্তা পরা উচিত। এ ক্ষেত্রে বাঁকা বা আড়াআড়ি ডোরাকাটা প্রিন্ট পরাও উচিত নয়। তার বদলে সোজা ডোরা প্রিন্ট বেছে নিতে পারেন। এতে খানিকটা লম্বা দেখাবে।’
গরম মাথায় রেখে হাতাকাটা লম্বা শার্টের মতো কুর্তা এসেছে বাজারে। এ ছাড়া চলতি ধারার সঙ্গে মিলিয়ে কুঁচি কিংবা ঘের দেওয়া কুর্তাও পরতে পারেন। আবার সোজা কাটের পাঞ্জাবির মতো কুর্তাও রয়েছে সংগ্রহে। কলারসহ এবং কলার ছাড়া দুই ধরনের কুর্তাই আছে। ‘পাশ্চাত্য ধাঁচের পোশাক তৈরির দোকানগুলোতে কুর্তায় দেখা গেল ফিউশন। কুর্তার নিচের অংশে ব্যবহার হচ্ছে এ-লাইন প্যাটার্নের নানা ধাঁচ। যেমন—ফ্লেয়ার, স্লিট, গোডেট। এ ছাড়া নিচে রুমাল কাট পোশাকটিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।’ বললেন ক্যাটস আইয়ের ডিজাইনার রুম্মাইল্লা সিদ্দিকী।
বাঙালি ঘরানার এসব ফতুয়ার কুর্তার বুকজুড়ে থাকছে ব্লকপ্রিন্ট, কারচুপি, অ্যাপ্লিক, ভরাট অ্যাপ্লিক ও এমব্রয়ডারির কাজ। এ ছাড়া সুতির ওপর স্ক্রিনপ্রিন্ট ও হালকা সুতার কাজও দেখা যাচ্ছে। আর ফিউশন ডিজাইন নিয়ে আরবান ট্রুথের সুমবাল মোমেন বলেন, ‘গরমের স্বস্তি মাথায় রেখে মেটালিক প্রিন্ট ও স্টোন ইয়োক দিয়ে বাড়তি বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে কুর্তিতে। এ ছাড়া কুর্তিতে আলাদা করে চোখে পড়ে বোতামের ব্যবহার।’ কুর্তায় কখনো হাতা, কখনো গলা, কখনোবা জমিনকে কেন্দ্র করে নকশার কাজটি হয়ে থাকে।
ফতুয়ার কাটছাঁটে এসেছে নতুনত্বরং
সাদা, হালকা বাদামি, হালকা গোলাপি, নীল, পিচ, হালকা সবুজাভ রং গরমে বেশ ভালো লাগবে বলে মনে করেন মাহিন খান। যোগ করলেন, এসবের পাশাপাশি জলপাই, সবুজ, আকাশি, হালকা হলুদ, ঘিয়া, হালকা ম্যাজেন্টা, ফিরোজা, হালকা সবুজ, পেস্ট ধরনের উজ্জ্বল কিন্তু হালকা রংগুলো কুর্তায় বেছে নিতে দেখা যাচ্ছে।
কাপড় হিসেবে সুতি তো আছেই পাশাপাশি লিলেন, অ্যান্ডি, তাঁত, হাফ সিল্ক, মসলিনের ফতুয়াও দেখা যাচ্ছে।

ফতুয়ার সঙ্গে মিলিয়ে
ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ফতুয়া যদি প্রিন্টের হয়, তবে তার সঙ্গে বেছে নিতে পারেন সাদামাটা রং। যেমন—সোনালি, রুপালি বা তামাটে রঙের লেগিংস, গ্যাবার্ডিন বা জিন্সের প্যান্ট। একরঙা কুর্তার সঙ্গে প্রিন্টেড পালাজ্জো এবং স্কার্টে আপনার ফ্যাশনটাকেই বদলে দিতে পারে। কুর্তার কাপড়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিতে পারেন সিনথেটিক কাপড়ের ওড়না বা স্কার্ফ। কুর্তা বাড়িতেই বানিয়ে নিতে চাইলে সাড়ে তিন হাত বহরের পছন্দমতো দেড় গজ কাপড় আর দেড় গজ প্রিন্টের কাপড় অথবা অন্য কোনো নকশা দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন।

কোথায় পাবেন
মায়াসির, বিবিয়ানা, ক্যাটস আই, আরবান ট্রুথ, আড়ং, নগরদোলা, রঙ, আবর্তন, কে-ক্র্যাফট, জেন্টল পার্ক, এক্সট্যাসি, ওটু, অঞ্জন’স, নিপুণসহ কমবেশি সব ফ্যাশন হাউসের শোরুমে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রকমের কুর্তা পাওয়া যেতে পারে বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, গুলশান পিংক সিটি, নিউমার্কেট গাউছিয়া, মৌচাকসহ ঢাকার বিভিন্ন শপিং মল এবং অনলাইন পেইজগুলোতে।

দরদাম
ফ্যাশন হাউসগুলোতে ফতুয়া বা কুর্তার দাম পড়বে ৭৯০ থেকে ৩ হাজার টাকা। অন্যান্য বাজার বা দোকানে মিলবে এক হাজার টাকার মধ্যেই।

About gangchil

Check Also

রসুনের উপকারিতা

সকালে খালি পেটে রসুন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। বিজ্ঞানীরা রিসার্চে প্রমাণ পেয়েছেন খালি পেটে …