Home / মনের জানালা / স্বপ্নপুরুষের সন্ধানে পর্ব-২

স্বপ্নপুরুষের সন্ধানে পর্ব-২

shopnopurushভাবীর ‘অত্যাচার’ বন্ধ হল না।প্রতিদিন মোবাইলে একটু পরপরই ভাবির ম্যাসেজ আসতো।এইরকম গায়ে পরা মেয়ে জীবনে কম দেখিনি।তাদের ছুড়ে ফেলার ভালো কৌশলও আমার জানা আছে।কিন্তু ভাবী বলে কোনভাবেই কিছু বলতে পারছি না আবার সহ্য করতে পারছি না।এই ঘটনার মাঝেই সজল ভাইয়ের সাথে প্রতিদিন দেখা হতো।ওনার সহজ সরল হাসি আর আন্তরিকতা দেখে খুব মায়া হতো।এমন একটা ফেরেশতার মতো লোকের স্ত্রী কেন এমন হবে।খুব ইচ্ছে হত সজল ভাইকে সব খুলে বলি।কিন্তু ভেবে দেখলাম এতে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।একটা সুন্দর সাজানো সংসার এর জন্যই ভেঙ্গে যেতে পারে।অনেক ভেবে চিনতে ঠিক করলাম যা করবার আমাকেই করতে হবে।অফিসে বসে বসে ভাবছিলাম কিভাবে ভাবীকে বুঝাবো।ঠিক তখনি যাকে দেখবো তাকে দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করিনি।ভাবী আমার অফিসে সশরীরে চলে আসলেন।প্রথমে অবশ্য বুঝতে পারিনি এটাই ভাবী।এসেই বললেন তিনি লেডিস সোসাইটির সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামের ব্যাপারে কথা বলতে এসেছেন।কিন্তু এটা যে আমার কাছে আসার একটা বাহানা সেটা বুঝাই যাচ্ছিলো।ভাবীকে একটা কথাই বারবার মাথায় ঘুরছিল যে আমি আমার ২৭ বছরের জীবনে এতো সুন্দরী খুব কমই দেখেছি।এতোই সুন্দরী যে বেশীক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না।

সজল ভাই অনেক সুপুরুষ আর ভালো মানুষ।সুতরাং ভাবীকে কষ্টে রাখার প্রশ্নই আসে না।এতো সুন্দর সংসার রেখে যে মেয়ে এইসব চিন্তাভাবনা করে সে নিশ্চিত করে মানসিকভাবে অসুস্থ।এজন্যই ভাবী যে ৩৪ মিনিট আমার অফিসে ছিলেন,ততক্ষন ওনাকে আর ঘাঁটালাম না।এরপর আরও ২ বার ভাবী এসেছিলেন।আগেই বলেছি ভাবী এমনি সুন্দরী যে কোন ছেলের মাথা নষ্ট হতে বাধ্য।ভাবী যদি নিয়মিত এভাবে আসা শুরু করেন অথবা ফোনে কথা শুরু করেন তবে আমার সমস্ত প্রতিরোধ ভেঙ্গে যেতে বেশি সময় লাগবে না।আমি বিশ্বাস করি ‘instict’ নিয়ে কাউকে বিশ্বাস করা উচিত না, এমনকি নিজেকেও না।এই ব্যাপারটা যদি আমি বাড়তে দেই তাহলে সজল ভাইয়ের সাথে প্রতারনা করা হবে।সিদ্ধান্ত নিলাম যে করেই হোক এই ঘটনার একটা সুরাহা করতেই হবে।তাতে যদি ভাবীর সাথে রাফ হতে হয়,তবে তাই হবো।ওইদিন রাতেই ভাবীকে আমি নিজেই ফোন দিলাম।বুঝানোর ফাকে ফাকে ওনাকে মনে করিয়ে দিলাম ওনার স্বামী,সংসার আর অনাগত ভবিষ্যতের কথা।সেদিন ভাবী আমার কথার কোন প্রতিবাদই করলেন না।শুধু শুনে গেলেন।আমি ভাবলাম ভাবীকে যুক্তির জোরে পরাজিত করতে পেরেছি।কিন্তু এরপর এমন কিছু বললেন যা আমি আগে কখনও ভেবে দেখিনি।ভাবীর কথাটা উনার হুবহু তুলে দিচ্ছি।

‘’প্রত্যেকটা মেয়েরই একটা স্বপ্নপুরুষ থাকে।কিশোরী অবস্থায় সেই স্বপ্নপুরুষটা দেখতে কেমন হবে,কিভাবে কথা বলবে,তার প্রতি কেমন কেয়ারিং হবে,এগুলোই শুধু ভাবে।সেই স্বপ্নপুরুষের সাথে সারাদিন আনমনে কথা বলে,কল্পনার রাজ্যে ভেসে বেড়ায়।খুব কম মেয়েই বাস্তবে স্বপ্নপুরুষের সন্ধান পায়।আর সন্ধান পেলেও জীবনসঙ্গী হিসেবে পায় না।তারপরেও মানুষের জীবনে প্রেম আসে।স্বপ্নপুরুষের ছিটেফোটাও যদি কারো মাঝে খুজে পায় তবে তার কাছেই অর্পণ করে ভালবাসার ফুল।সজলের মাঝে আমিও আমার স্বপ্নপুরুষের কিছুটা খুজে পেয়েছিলাম।এইজন্যই সজলকেই ভালবেসে বিয়ে করেছি।আপনাকে আমি প্রথম দেখি রাশেদ ভাইয়ের সাথে।উনার সাথে হেসে হেসে কিজানি বলছিলেন।জীবনের সবচেয়ে বড় চমকটা আমি বোধহয় সেদিনই পেয়েছিলাম।আমার স্বপ্নপুরুষটা যেভাবে হাসে,আপনার হাসিটাও ঠিক তেমনি।সেইদিন থেকে নিজের অজান্তেই আপনাকে ফলো করতে লাগলাম।মাত্র ৭ দিনের মাঝেই আমি দিশাহারা হয়ে গেলাম।আপনি বিশ্বাস করবেন না জানি,আমার ভাললাগার মানুষটাকে যেভাবে কল্পনা করেছি,আপনি ঠিক হুবহু সেরকমই।সবকিছু জেনে,সবকিছু বুঝেও আমি কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেলাম।আপনার সাথে কথা বলার ভয়ঙ্কর লোভ হলো।নিজের চোখে দেখার অদ্ভুত সাধ জেগে উঠলো।মানসম্মানের মাথা খেয়ে আমি নিজেকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম।আপনি হয়তো আমাকে দুশ্চরিত্রা মেয়ে ভাবছেন।ভাবাটাই খুব স্বাভাবিক।তবে এটা ভাববেন না আমি আপনাকে নিজের করে পেতে চাই।আমি আমার স্বামীকে অনেক ভালবাসি।তাকে আমি কোনভাবেই কষ্ট দিতে পারব না।আপনাকে এইরকম ভাবে ভাল লেগে যাওয়ায় খুব অনুতাপ হয়েছিল।কিন্তু এখন আর আমার অনুতাপ করি না।আমার অদ্ভুত ভালোলাগাটা কোনভাবেই আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না।আর আমাকে নিয়ে কখনই দুর্ভাবনায় ভুগবেন না।আমার স্বপ্নপুরুষটার অসম্মান আমি কখনই করতে পারব না।আমার ভাল লাগাটা আমার মধ্যেই লুকিয়ে রাখবো।সেটাকে কখনোই অপবিত্র হতে দিব না।তবে আপনাকে আমি বোধহয় কখনই ভুলতে পারব না। আজ থেকে আপনাকে কখনই আর বিরক্ত করবো না।‘’

ভাবীর সাথে দেখা হয় না প্রায় সাড়ে ৬ বছর।ওই ঘটনার পর অনেক তদবির করে ওখান থেকে ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছিলাম।ভাবী তার কথা রেখেছেন।আর কখনো ফোন করেননি।জানিনা ভাবী এখন কোথায় আছেন।ভাবীর ভয়েই সজল ভাইয়ের সাথে আর সম্পর্কটা রাখা হয় নি।এখনো সরকারী কাজে ওই এলাকায় গেলে ভাবীর কথা মনে পরে।তখন নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করি দুনিয়াতে কতই না অদ্ভুত মানুষ আছে…

লিখেছেনঃ – মাহমুদ হাসান

About Kabir Hossain

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …