Home / মনের জানালা / মেয়েদের জীবন

মেয়েদের জীবন

meyeder jibonপ্রতিটা মেয়েকে জীবনে তিনটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়.. প্রথমটা হচ্ছে ‘পিরিয়ড’.. সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত মেয়েটা হঠাৎ খেয়াল করে তার শরীরে কিছু একটা পরিবর্তন হচ্ছে.. সে ভাবে তার বুঝি কোনো মরণব্যধি রোগ হয়েছে, সে হয়তো আর বাঁচবেনা.. কিন্তু তারপর মেয়েটা তার মায়ের কাছে জানতে পারে এটাই তার নারীত্বের আসল বহিঃপ্রকাশ..তার ভয়টা তখন কেটে যায়.. প্রতিমাসের কিছু নির্দিষ্ট দিনে কতোটা অসহনীয় ব্যথা তাদের সহ্য করতে হয় জানেন? এই ব্যথা নিয়েই সে ঘরের সকল কাজ করে, পড়াশোনা করে, স্কুল-কলেজে যায়..
.
দ্বিতীয় ঘটনাটি ‘বিয়ে’…!!!
একটা মেয়ে জন্মের পর থেকে যেই পরিবেশে বেড়ে উঠে, যে পরিবারের মানুষগুলো ছাড়া সে একদিনও কল্পনা করতে পারেনা, হঠাৎ তাদেরকে ছেড়ে সম্পূর্ণ অচেনা এক পরিবারে তাকে যেতে হয়.. নিজের আপন স্বত্বা কে সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে সেই অজানা মানুষগুলোকে আপন করে নিতে হয়.. এজন্যই মেয়েরা তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চায়না..
বাবা মা বিয়ের কথা বললেই এড়িয়ে যায়..
.
তৃতীয় ঘটনাটি হলো “মা” হওয়া.. মা হওয়া মেয়েদের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের ঘটনা.. কিন্তু এই প্রক্রিয়া টা তারচেয়েও অনেক কষ্টের.. নিজের আরাম-আয়েশ, ঘুম, শান্তি বিসর্জন দিয়ে কী কষ্টের সাথে সেই ১০টা মাস অতিক্রম করতে হয়, তারপর মৃত্যুর ঝুঁকি নেয়া সন্তান জন্ম দেওয়াটা কতোটা বেদনাদায়ক ঘটনা সেটা পুরুষদের বোঝবার কথা নয়..
.
মাঝে মাঝে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয় কেনো জানেন? পুরুষ হয়ে জন্মেছি বলে.. কারণ ছেলেদের জীবনে তো আর কিছুই ত্যাগ করতে হয়না..
অথচ একটা মেয়েকে জন্মের পর থেকে কষ্ট যন্ত্রণা মেনে নিয়ে শুধু ত্যাগই করতে হয়..
ছেলেদের জীবনে পিরিয়ড হয়না..যদি হতো তাহলে আমরা কতোটা অধৈর্য্য হয়ে যেতাম ভাবতে অবাক লাগে!! সামান্য হোস্টেল বা মেস এ থাকা যেখানে ছেলেদের জন্য অসহ্যকর, সেখানে নিজের পরিবার ছেড়ে অজানা পরিবারের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া ছেলেদের জন্য অকল্পনীয়!! একটু মাথা ব্যথা হলে আমরা পড়াশোনা খাওয়া’দাওয়া ছেড়ে দিয়ে অস্থির হয়ে যাই, সেখানে অসহনীয় ব্যথা সহ্য করে বাচ্চা জন্ম দেওয়া ছেলেদের জন্য কল্পনাতীত…!!
.
তারপরও ছেলেদের বোঝা উচিত,
☞ একটা মেয়ে বিয়ের সময় পিতৃভূমি ত্যাগ করে, নিজের পরিবার ত্যাগ করে তোমার জন্য..
☞ বিয়ের পর নিজের নামের শেষে তোমার নাম যোগ করে সেটাও তোমার জন্য
☞ তোমার সাথে শশুর বাড়িতে আসে, তোমার সাথে সংসার শুরু করে
☞ তোমার জন্যই সে প্রেগন্যান্ট হয়.. প্রেগন্যান্সি তার শরীর পরিবর্তন করে এবং তার আরাম হারাম করে দেয়..
☞ বাচ্চা জন্ম দেওয়ার সময় অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও..
☞ এমনকি সে যেই বাচ্চা জন্ম দেয় সেও তোমার নাম বহন করে..
☞ সে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তোমার সব কাজ করে.. রান্না করে, তোমার ঘর পরিষ্কার করে, তোমার মা বাবার সেবা করে, বাচ্চাদের যত্ন নেয়, বিপদের সময় তোমাকে সাহস দেয়, তোমার মন চিন্তামুক্ত রাখে, পরিবারের সবকিছু দেখাশোনা করে..
☞ তার শখ আহ্লাদ শরীর স্বাস্থ্য সবকিছুর কথা ভুলে গিয়ে শুধু তোমার জন্যই নিজেকে নিয়োজিত রাখে..
.
◀️সুতরাং ঐ মেয়েটা কি একটুও প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য নয়? যে মেয়ে এতোটা ত্যাগ স্বীকার করে তার সাথে মধুর ব্যবহার করা আমাদের উচিত নয় কী?
তাই সবসময় তোমার স্ত্রী কিংবা প্রিয়তমার সাথে ভালোবাসাপূর্ণ ব্যবহার করিও.. তার সবকিছুতে সবসময় Appreciate করিও..তাকে নিয়ে সবসময় গর্ববোধ করিও.. তোমার মা-বোন, নানী-দাদীর দিকে একবার তাকাও দেখবে নারীজাতি কতো মূল্যবান!! কতো সম্মানিত!! পৃথিবীর সমস্ত গুণবাচক বিশেষণ শুধু নারীর জন্যই.. “মায়াবতী” শব্দটি শুধু নারীদের জন্যই প্রযোজ্য.. পৃথিবীর সকল মায়া-মমতা নারীদের কাছেই পাওয়া যায়.. তাই নারীর এই ত্যাগ স্বীকারের জন্য তাদের শ্রদ্ধা করো.. কোনো সহানুভূতি নয় বরং তাদের প্রতি সম্মান আর ভালোবাসা প্রদর্শন করো.. কারণ একজন নারীর মাধ্যমেই তুমি পৃথিবীর আলো দেখেছো..
.
লেখকঃ Farabi Ahnaf

About Borhan Uddin

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …