Home / দর্শনীয় স্থান / মির্জাপুরের দৃষ্টিনন্দন মন্দির

মির্জাপুরের দৃষ্টিনন্দন মন্দির

mirzap_111340

ভ্রমণ প্রিয় মানুষদের জন্য নিয়ে এলাম একটি সুন্দর, মনোরম ভ্রমণের জায়গা, বিশেষ করে হিন্দুদের জন্য অতি প্রিয় একটি জায়গা হচ্ছে মন্দির ।
সেরকমই একটি প্রাচীন দৃষ্টিনন্দন মন্দির এর কথা নিয়ে এলাম আপনাদের সামনে ।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রায় আড়াই শত বছরের প্রাচীন শ্রীশ্রীরাধা কালাচাঁদ বিগ্রহ মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

নিপুণ কারুকার্য সমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন প্রায় ৬০ফুট উঁচু এই মন্দিরটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য দেশের অন্যতম ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে রূপ নিয়েছে।

মন্দিরটিতে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। আগামী ৯মে মন্দিরটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

জানা গেছে, বাংলা ১১৯৫ সালে এ উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবী রাম মোহন সাহা ও গৌর মোহন সাহা মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এখানে গীতাপাঠ, মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী ও দোলযাত্রাসহ সারা বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলতো। এর আগে মন্দিরটি দুইবার সংস্কার করা হয়। এলাকার সমাজ হিতৈষী ব্যক্তিরা মন্দিরটিকে বাংলাদেশসহ দেশ বিদেশে অন্যতম কারুকার্য সম্মৃদ্ধ ঐতিহাসিক মন্দির হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

চার বছর আগে ৬০ ফুট উঁচু মন্দিরটি নতুন রূপে নির্মাণ কাজ শুরু করেন তারা। এর আগে বাংলাদেশ ও ভারতসহ বেশ কিছু দেশের মন্দির পরিদর্শন করে মন্দিরটির নকশা তৈরি করা হয়। মন্দিরটি নির্মাণে ভারতের মুর্শিদাবাদ থেকে কারুশিল্পী আনা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিল্পীর ও দেশের নাম করা কারুশিল্পীদের সহযোগিতা নেয়া হয়েছে মন্দিরটি নির্মাণে। মন্দিরটির মধ্যে বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিকৃতি সম্বলিত কারুকার্য নিপুণভাবে তৈরি করা হয়েছে। পূর্নার্থী ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার জন্য মন্দিরটির সোনালী রং দেয়া হয়েছে। দূর থেকে মনে হয় এটি একটি স্বর্ণ খচিত মন্দির। অনেকে এই মন্দিরটিকে স্বর্ণ মন্দির হিসেবেও আখ্যা দিয়ে থাকেন। মন্দিরটি নির্মাণ করতে এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে অন্যতম উদ্যোক্তা সুরঞ্জন শেঠ তাপন জানিয়েছেন।

সমস্যা:

ঐতিহাসিক কালাচাঁদ মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করে দৃষ্টি নন্দন করা হলেও মন্দিরটি ঘিরে রয়েছে নানাবিধ সমস্যা। এরমধ্যে প্রধান হচ্ছে মন্দিরে যাতায়াতের রাস্তার সমস্যা। মন্দিরে প্রবেশের জন্য একটি রাস্তা থাকলেও সেটা অত্যন্ত সরু ও কাঁচা। এছাড়া মন্দিরের সামনে নাট মন্দির, ভক্তদের থাকার ঘর, ভোগঘর এবং পানীয় জলের সমস্যা।

মন্দির কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়দেব চন্দ্র সাহা ও সম্পাদক চিত্তরঞ্জন সাহা বলেন, দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তদের আসার সু-ব্যবস্থার জন্য মন্দিরের পূর্বপাশ দিয়ে পুকুরের পাড় ঘেষে একটি রাস্তা নির্মাণ জরুরি। এছাড়া মন্দিরের সামনে নাট মন্দির নির্মাণসহ অনেক উন্নয়ন কাজ করা প্রয়োজন। এতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তারা উল্লেখ করেন।

এ এলাকার বাসিন্দা মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা.দুলাল চন্দ্র পোদ্দার বলেন, মন্দিরটি এলাকাবাসীর নিজের প্রচেষ্টায় পুনর্নির্মাণ করছে। তবে এই প্রাচীন মন্দিরটি ঘিরে যে সমস্যা রয়েছে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে এলাকার জনপ্রতিনিধিও মন্দিরটির উন্নয়ের জন্য সহযোগিতার আশ^াস দেন। এ ব্যাপারে জামুর্কী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল বলেন, মন্দিরটির উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

সংরক্ষিত

About Borhan Uddin

Check Also

জিনজিরা প্রাসাদ

যারা পূরাতন ইতিহাস জানতে এবং ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ করতে ভালবাসেন তাদের এমন একটি জায়গা নিয়ে …