Home / ভূতের রাজ্য / ভয় : (৩য় পর্ব)

ভয় : (৩য় পর্ব)

voot-31যত দ্রুত সম্ভব এ এলাকাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার তীব্র তাগিদ অনুভব করে মামুন…
এই বিভিষীকাময় স্মৃতি থেকে যত দূরে সরে যাওয়া যায় ততই মঙ্গল…
হাঁটতে হাঁটতেই নিজের মনে একটু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাটির ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করে মামুন..
তার যুক্তিবাদি মন কিছুতেই অলৌকিক কিংবা ভূতুড়ে কোনো কিছুর অস্তিত্ব মেনে নিতে রাজি নয়.. অথচ মনের আরেকটি অংশ এখনও একটু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার আকষ্মিকতা এবং অস্বাভাবিকতায় আচ্ছন্ন…
নিজের মনে একে একে যুক্তি সাজাতে থাকে মামুন…
প্রথমত,,
সে রিক্সাওয়ালাকে বলেনি কোথায় যাবে তাই রিক্সাওয়ালা তাকে ক্যাম্পাসের শেষ প্রান্তে গোরস্থানের কাছে এই নির্জন স্থানে নিয়ে এসেছে.. অন্যমনস্ক ছিল বলে মামুন আগে থেকে বিষয়টি লক্ষ্য করেনি.. আর রিক্সাওয়ালাটি নিশ্চয়ই শ্বেত এবং হরমোনের জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত..
তাই তার হাতটি এমন অস্বাভাবিক ফ্যাকাসে সাদা.. এই রোগের প্রভাবেই হাতের তালুতে অস্বাভাবিকভাবে লোম গজিয়েছে,,নখগুলো হয়ে গেছে একেবারে কালচে..
নিজের মত ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে কিছুটা স্বস্তি পায় মামুন…
আচমকা বাঁশির শব্দ!!
একজন টহল পুলিশ পথ আটকায়..
কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে দুটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে মারামারির পর ক্যাম্পাসে টহল জোরদার করা হয়েছে..
বাইরের সন্ত্রাসীদের আনাগোনা ঠেকাতে রাতের বেলা সন্দেহজনক কাউকে দেখা গেলেই পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হয়,, আবার কখনো কখনো জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়…
“আইডি কার্ড”
মামুনের সামনে হাত বাড়ায় টহল পুলিশ..
একটু আগে দেখা রিক্সাওয়ালার ভূতুড়ে হাতটিই আবার সামনে হাজির হয়..
তবে এবার হাতের মালিক টহল পুলিশ..
এরপর আর নিজেকে ধরে রাখা হয়না মামুনের পক্ষে.. অমানুষিক আতঙ্কে ছুটতে থাকে…
অনেকদিন এভাবে দৌড়ানো হয়নি.. কিছুদূর যাওয়ার পরই বুকের ভেতর কেমন করতে থাকে,, তলপেটে খিঁচ ধরে যায়,,বাতাসের অভাবে ফুসফুসটি যেন ফেটে যাবে..
এসব অগ্রাহ্য করে প্রাণভয়ে ছুটতে থাকে মামুন..(সংগৃহীত}

About nishivoot

Check Also

ভয় : (শেষ পর্ব)

ছুটতে ছুটতে এক সময় দম বন্ধ হয়ে রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়… এ অবস্থায়ও কিছুটা …