Home / ভূতের রাজ্য / পাহারাদার

পাহারাদার

vootঘটনাটি যিনি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন । তিনি একজন বাজার পাহারাদার । রাতের বেলা বাজার পাহারা দিয়ে আসছেন তিনি প্রায় ৩৬ বছর । নাম বুরহান মিয়া । তিনি দীর্ঘ দিন যাবত রাতে বাজার পাহারা দেবার পেশায় থেকে বেশ কিছু ভয়ংকর কিংবা ভৌতিক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন । যার ব্যাখা তিনি নিজেও এখনো জানেন না ।
তার মুখে বলা ঘটনাটি হুবুহু আপনাদের সামনে তুলে ধরছি… আমি মোঃ বুরহান মিয়া । আমার বাড়ি বর্ডার এর কাছেই । বর্ডার এর কাছে একটি বাজার আছে । আমি গত ৩৬ বছর ধরে এই বাজার পাহারার চাকরী করি । একদিন রাতের বেলা । আমি রোজ দিন কার মতন বাজার পাহারা দিতে ছিলাম …
সেদিন ছিল পঞ্চমী । আকাশে কি সুন্দর চাঁদ ভেসেছিল । আমার স্পষ্ট মনে আছে আকাশে কোন মেঘ ছিল না । আমি সিগেরেট জ্বালিয়ে আকাশের চাঁদের দিকে তাকিয়ে গুনগুন করছিলাম । বাজারের আশে পাশে তেমন একটা বসতি নেই । পাহাড়ি এলাকা । বাজার শেষ হলেই সব কিছু নির্জন হয়ে পড়ে । আগে সরফ মিয়া নামে একজন লোক ছিল সারাদিন চা বিক্রি করে রাতে চায়ের দোকানেই ঘুমাত । লোকটা মরে গেছে প্রায় এক বছর!
হঠাৎ সরফ মিয়ার কথা মনে পড়ে কেমন যেন ভয় ভয় করতে লাগল । কানের কাছে টুং টুং করে সরফ মিয়ার চা বানানোর শব্দ মনে হয়ে গেল । মনে হল যেন অদৃশ্য সরফ মিয়া এখনো তার চায়ের দোকানে চা বানিয়ে যাচ্ছে যন্ত্রের মতন ।
আমি সরফ মিয়ার কথা ভুলতে গলা ছেড়ে গান ধরলাম । এমন সময় দেখলাম সরফ মিয়ার চায়ের ভাঙ্গা দোকানে কে যেন গুটিসুটি মেরে বসে আছে! আমি চাঁদের জোছনার আলো সেখানে পৌছায় না । যায়গাটার কাছেই বড় একটা বট গাছ আছে । যায়গাটায় বট গাছের ছায়া এসে পড়েছে! আমি গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
*.কে এখানে? কে তুমি?
একটা শ্যামলা রঙের মলিন মেয়ে মুখ তুলে তাকাল আমার দিকে । মেয়েটার ভেতর কোন আকর্ষন নেই । সাধারন একটা মেয়ে । অতি সাধারন রোগা শ্যামলা । মেয়েটা গলা ভাঙ্গা আওয়াজে বলল,
*.আমি!
*.আমি কে?
*.আমি নিলুফার ইয়াসমিন । বয়স সতের । বাড়ি শান্তিপুর । আমি ক্লাস নাইনের ছাত্রী । আমার বাবা নুরুল ইসলাম । পেশায় মাস্টার!
মেয়েটার একসাথে বলা কথায় আমি যতটা না অবাক হলাম! তার চেয়ে বেশী অবাক হলাম এটা শুনে যে সে নুরুল মাস্টার এর মেয়ে । নুরুল মাস্টার অত্র অঞ্চলের বিশিষ্ট একজন ব্যাক্তি । তার বাড়ির সবাই পর্দা করে । তার মেয়েকে সেই জন্য আমার দেখা হয় নি । আমি কোমল গলায় বললাম,
*.আপনি এখানে কি করছেন গো আপা?
*.আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি! এখন বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পাচ্ছি না এমন সময় সরফ মিয়ার গলার আওয়াজ শুনতে পেলাম । স্পষ্ট সরফ মিয়ার গলার আওয়াজ “এই চায়ে গ্রম!” আমি ঝট করে পেছনে তাকালাম । নাহ কেউ নেই! আমি সম্ভবত ভুল শুনেছি! আমার কেমন যেন নেশা নেশা লাগছে! আমি মেয়েটির দিকে হাত বাড়িয়ে বললাম,
*.এসো আমি তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিব!
মেয়েটি আমার হাত ধরতেই আমার সমস্ত শরীর যেন শিতল হয়ে গেল । আহ কি শিতল মেয়েটার হাত । একটু আগে যে মেয়েটাকে আপা বলে সম্বোধন করেছি আমি সে মেয়েটার প্রতি আমার কেমন মায়া জন্মে গেল । আমি মেয়েটাকে পথ দেখিয়ে দিতে হাঁটতে লাগলাম । একসময় বাজার পেছনে ফেলে মাঠের ভেতর দিয়ে হাটতে লাগলাম । আমার মনে হল পুরো বাজার ভর্তি যেন মানুষে! দূর থেকে আমি ভরা বাজারের আওয়াজ শুনতে পেলাম! মানুষে যেন বাজার এই মধ্য রাতে গমগম করছে!
মেয়েটির হাত ধরে আমি হাঁটতে লাগলাম । হাটতে হাটতে এক সময় নদীর পাড়ে চলে আসলাম । নৌকা করে নদী পাড় হতে হবে । তারপর শান্তিপুর । আমি পেছনে ফিরে তাকালাম! কিন্তু মেয়েটা নেই! আশ্চর্য মেয়েটা নেই? ভূত না তো? আমার কেমন যেন ভয় ভয় করতে লাগল! আমি দৌর দিলাম । দৌড়াতে দৌড়াতে দেখলাম অনেক দূরে আগুন জ্বলছে! হিন্দুদের শস্মান সম্ভবত ।
কিছু লোক দেখলাম । আমি ভাবলাম ওদের কাছে গেলে একটু রক্ষা পাব । এরা হিন্দু মানুষ । মড়া পুড়ানো এদের কাজ । এদের আমরা বলি ডোম । আমি শস্মানে গিয়ে লোক গুলোর পাশে যেতেই দেখলাম লোক গুলকে আমি চিনি । এরা সবাই সরফ মিয়া । সবার চেহারা এক । সবাই সরফ মিয়া । আমি আরও চমকে গেলাম সব গুলো সরফ মিয়া একত্রে মেয়েটার লাশ আগুনে পুড়াচ্ছে । যেটাকে হিন্দুরা চিতা বলে! আমি মেয়েটির দিকে তাকাতেই মেয়েটার আগুনে গলে যাওয়া মুখ নিয়ে বীভৎস ভাবে আমার দিকে চোখ মেলে তাকাল! আমি চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারালাম!
এরপর দিন জ্ঞান ফেরার পর আমি নিজেকে হাসপাতালে আবিস্কার করি । আমি প্রায় তিন দিনের মতন জ্ঞান হারানো অবস্থায় ছিলাম । এরপর কবিরাজ আমাকে তাবিজ কবজ দেন । আর খোঁজ নিয়ে জানতে পারি শান্তি পুড়ে নুরুল মাস্টারের মেয়ে নিলুফার ইয়াসমিন এক হিন্দু ছেলেকে ভালবাসত । পরিবার সেই ভালোবাসা মেনে নেয় নি । তাই নিলুফার নিজের গায়ে কেরোসিন ডেলে পুড়ে মরেছিল! আর সরফ মিয়াকে দিয়ে সেই কেরোসিন তেল মিথ্যা বলিয়ে কিনিয়েছিল নিলুফার ইয়াসমিন!

About talgachervot

Check Also

ভয় : (৩য় পর্ব)

যত দ্রুত সম্ভব এ এলাকাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার তীব্র তাগিদ অনুভব করে মামুন… এই বিভিষীকাময় …