Home / সর্বশেষ / টাঙ্গাইলে দরজিকে কুপিয়ে হত্যা

টাঙ্গাইলে দরজিকে কুপিয়ে হত্যা

nikhil_111245

দেশে একের পর এক হত্যাকান্ড হয়েই চলেছে । গত ২২ এপ্রিল হতে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ টি খুন হয়েছে, এর মধ্যে অধিকাংশগুলোই কুপিয়ে হত্যা করা । এর ই ধারাবাহিকতায় এবার কুপিয়ে হত্যা করা হল টাংগাইলের গোপালপুরের নিখিল চন্দ্র জোয়ারদার নামক এক দরজিকে ।
জানা যায়, গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে গোপালপুর পৌর এলাকার ডুবাইল বাজারে দরজি নিখিল চন্দ্র জোয়ারদারকে লোকজনের সামনেই হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করার অভিযোগে ২০১২ সালে নিখিল (৫০) গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
ঘটনার ছয়-সাত ঘণ্টার মধ্যেই হত্যার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। বিশ্বের বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর ইন্টারনেটভিত্তিক তৎপরতা নজরদারি করা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েবসাইট সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এ তথ্য জানিয়েছে। সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এক টুইটার বার্তায় আইএস পরিচালিত আমাক নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানায়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ায় নিখিল চন্দ্রকে হত্যা করা হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ কলাবাগানে বাসায় ঢুকে মার্কিন সাহায্য সংস্থার কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তাঁর বন্ধু মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গত ২২ এপ্রিল থেকে আট দিনে এ নিয়ে একই ধরনের পাঁচটি হত্যাকাণ্ড ঘটল।
নিখিল চন্দ্র ওই বাজার এলাকার মৃত নলিনীকান্ত জোয়ারদারের ছেলে। তিনি নিজের বাড়ির সামনে দরজির দোকান চালাতেন।
পুলিশ ও নিখিলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে নিখিল দোকান খোলেন। ১২টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন তরুণ ওই দোকানে আসে। তারা ‘কথা আছে’ বলে নিখিলকে দোকান থেকে ডেকে রাস্তার পাশে নিয়ে যায়। কথা শুরুর একপর্যায়ে তারা চাপাতি দিয়ে নিখিলের মাথা ও গলায় আঘাত করতে থাকে। নিখিলের চিৎকার শুনে তাঁর স্ত্রী আরতি জোয়ারদার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।
আরতি বলেন, বের হয়েই তিনি দেখেন দুই তরুণ নিখিলকে কোপাচ্ছে এবং একজন মোটরসাইকেলে বসে আছে। আরতি এ সময় এগিয়ে যেতে চাইলে তাঁকে রক্তমাখা চাপাতি দিয়ে ভয় দেখানো হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে মৃত্যু নিশ্চিত করে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলের কাছে থাকা এক ব্যক্তি ইট হাতে তাদের দিকে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা ককটেল মারার ভয় দেখায়।
চলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা একটি ব্যাগ ফেলে যায়। পরে পুলিশ ওই ব্যাগ থেকে চারটি ককটেল-জাতীয় বস্তু ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করে বলে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. আসলাম খান জানিয়েছেন।
গতকাল বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, নিখিলের দোকানের কাছেই পড়ে রয়েছে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ। কয়েক শ মানুষ ভিড় করেছেন সেখানে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যও রয়েছেন সেখানে। নিখিলের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তাঁর স্ত্রী আরতি ও দুই মেয়ে টুলটুলি ও লিপি চন্দ্র বন্যা আহাজারি করছেন।
আরতি বলেন, তাঁর স্বামীর কোনো শত্রু ছিল না। কেন তাঁকে খুন করা হলো, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। মেয়ে টুলটুলি জোয়ারদার বলেন, যারা তাঁর বাবাকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে জেল খাটিয়েছিল, সেই গোষ্ঠীই তাঁর বাবাকে হত্যা করতে পারে।
সড়কের পাশে পড়ে আছে নিখিল চন্দ্র জোয়ারদারের মৃতদেহ (ছবিতে নেই)। তাঁর পাশে আহাজারি করছেন তাঁর স্বজনেরা। গতকাল বিকেলে তোলা ছবি l প্রথম আলোহত্যাকাণ্ডের পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। র্যা ব-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শাহাবুদ্দিন খান, টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এসপি) সঞ্জয় সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসলাম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
র্যা ব-১২-এর ৩ নম্বর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী প্রথম আলোকে বলেন, পারিবারিক শত্রুতা, জমি নিয়ে বিরোধ ও জঙ্গিবাদ—এই তিন বিষয় সামনে রেখে তাঁরা ঘটনার তদন্ত করবেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, নিখিল অত্যন্ত নিরীহ ছিলেন। ২০১২ সালে ডুবাইল বাজারে আড্ডা দেওয়ার সময় মহানবী (সা.) সম্পর্কে তিনি নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলকারীরা তাঁকে মারধর ও দোকান ভাঙচুর করেন। পরে মামলা করা হলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। কিছুদিন জেল খাটার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপরও এলাকায় ফিরতে তাঁর সমস্যা হচ্ছিল। পরে এলাকার লোকজনের সঙ্গে সমঝোতা করে তিনি বাড়িতে ফেরেন।
নিখিলের মেয়ে লিপি চন্দ্র বন্যা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে ইসলাম অবমাননা করে যে মন্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তাঁর বাবার বিরুদ্ধে আনা হয়, সেটি মিথ্যা। মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তার করে। ২৪ দিন পর তিনি ছাড়া পান।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, উগ্রপন্থীরাই যে নিখিলকে খুন করেছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।
তথ্যসূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো ।

About Ontohin

Check Also

thander

বজ্রপাত কেড়ে নিল ৫ জনের প্রাণ

গত কয়েক দিন ধরেই প্রচুর বৃষ্টি এবং সেই ঝড় হচ্ছে । সাথে বজ্রপাত তো আছেই …