Home / ব্যক্তিত্ত্ব / চলে গেছেন কিন্তু রেখে গেছেন তার কর্ম

চলে গেছেন কিন্তু রেখে গেছেন তার কর্ম

মফিজ্ঞুদ্দেনপ্রফেসর ড. আহমেদ, মফিজউদ্দীন

শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী। তিনি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার গাংগাইর গ্রামের সরকার বাড়ী নামে পরিচিত এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৪২ ও ১৯৪৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে রসায়ন শাস্ত্রে যথাক্রমে বি.এসসি অনার্স ও এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৪৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভ্যানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি হতে তিনি পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন।

মফিজউদ্দীন আহমেদ ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে একজন সিনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীকালে তিনি প্রফেসর পদে পদোন্নতি লাভ করেন। অর্গানিক কেমিস্ট্রি বিষয়ে শিক্ষাকতা ও গবেষণা ব্যতীত বিভিন্ন পদাধিকারে যেমন, ১৯৫৪ হতে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমানে জহুরুল হক হল) প্রভোস্ট, ১৯৬১ হতে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রী সংক্রান্ত বিষয়ে (তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে) প্রথম উপদেষ্টা এবং ১৯৬৩ হতে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট হিসেবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। প্রফেসর আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সিনেট ও সিন্ডিকেটের সদস্যরূপে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষামূলক ও প্রশাসনিক কর্মকান্ডে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তিনি বহুদিন ধরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়এর সিনেট ও সিন্ডিকেটের সদস্য ছিলেন এবং আমৃত্যু তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেন।

প্রফেসর আহমেদ মাতৃভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক পাঠ্য-পুস্তক রচনার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি কলেজ পর্যায়ে, বিশেষ করে সরকারি কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তাঁর গবেষণা কাজের বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি জার্নাল ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।

১৯৬৯ সালে তিনি পাকিস্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অন্যতম সদস্য, ১৯৭০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর হতে ১৯৭২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রথম উপাচার্য এবং ১৯৭৩ হতে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সকল পদে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে তিনি তাঁর মূল শিক্ষকতা পেশায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান। ড. আহমেদ ১৯৮৭ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গঠিত একটি জাতীয় শিক্ষা কমিশনের নেতৃত্ব দেন এবং দেশে বিদ্যমান শিক্ষা পদ্ধতির সংস্কারের জন্য কতিপয় সুপারিশ পেশ করেন। এ কমিশনের কতিপয় সুপারিশ বর্তমানে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।

প্রফেসর আহমেদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদে দেশ-বিদেশের উল্লেখযোগ্য বহু সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি ১৯৬৩-১৯৬৯ সালে পাকিস্তান বিজ্ঞান উন্নয়ন সমিতির সহযোগী সাধারণ সম্পাদক, পাকিস্তান বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির ফেলো, ভারতীয় রসায়ন সমিতির ফেলো, আমেরিকান রসায়ন সমিতির ফেলো, আমেরিকান বিজ্ঞান উন্নয়ন সমিতির ফেলো, বাংলাদেশ বিজ্ঞান উন্নয়ন সমিতির সভাপতি (১৯৭৯-১৯৮০), বাংলাদেশ বিজ্ঞানী ও বৈজ্ঞানিক পেশা সমিতির সভাপতি (১৯৮১), বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমীর সেক্রেটারি (১৯৮২), কোষাধ্যক্ষ (১৯৮৪) এবং সহ-সভাপতি (১৯৮৬) ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষকতা পেশা হতে অবসর গ্রহণের পর ১৯৮৪ সালে প্রফেসর মফিজউদ্দীন আহমেদকে প্রফেসর এমিরিটাস পদে নিয়োগ করা হয়। ওই পদে থেকে তিনি আমৃত্যু শিক্ষাদান ও গবেষণা ক্ষেত্রে অবদান রাখেন। শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে তাঁর অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রফেসর মফিজউদ্দীন আহমেদকে ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক তমগা-ই-পাকিস্তান খেতাব, ১৯৮৬ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার এবং ১৯৮৮ সালে কেমিক্যাল সোসাইটির পদক প্রদান করে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। প্রফেসর মফিজউদ্দীন আহমেদ ১৯৯৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।

About Habib

Check Also

গজনবী, স্যার আবদুল করিম

গজনবী, স্যার আবদুল করিম (১৮৭২-১৯৩৯) একজন পর্যটক, অবিভক্ত বাংলার মন্ত্রী, বঙ্গীয় শাসন পরিষদের (Bengal Governor’s …