Home / দর্শনীয় স্থান / চর কুকড়িমুকড়ি

চর কুকড়িমুকড়ি

285646_341845689217990_982634296_n

প্রায় চারশত পঞ্চাশ বছর আগে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে প্রমত্তা মেঘনার মোহনায় এ ভূ-খন্ডের পত্তন ঘটে। কথিত আছে পত্তনের পর প্রথম দিকে এ চরে কুকুর আর ইদুরের প্রভাব ছিল খুব বেশি। ইদুরের আর এক নাম মেকুর, আর তা থেকে এ চরের নামকরণ করা হয় ‘‘চরকুকরীমুকরী’’।
ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে ওলন্দাজ, মগ কিংবা জলদস্যুদের ঘাটি ছিল এ কুকরীমুকরী। ১৮৬৮ সালে এ চরে প্রথম সার্ভে হয়। ১৮৭০-৭৫ সালে বরিশালের জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বিভারিজ চরটি ভ্রমণ করেন। ১৯২২ সালে জার্মানির প্রিন্স ক্রাউন এ চরে বন্য মোষ শিকারে আসেন। চরটি পত্তণের পর প্রথমে মৎস্য শিকারীরা এখানে এসে বসবাস শুরু করেন। তখন এ দ্বীপটি ছিল পটুয়াখালীর গলাচিপা থানার অধীনে। পরে ভোলা জেলার লালমোহন থানার অধীনে ছিল বেশ কয়েক বছর। ১৯৭৪ সালে দ্বীপটি চরফ্যাশন থানার অধীনে আসে। চরফ্যাশন থানার বৃহত্তর চরমানিকা ইউনিয়নের অংশ হিসেবে পরিচিত ছিল এ দ্বীপ। ১৯৯২ সালে চরমানিকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পার্শ্ববর্তী ঢালচর ও পাতিলাকে নিয়ে গঠিত হয় কুকরীমুকরী ইউনিয়ন। তখন পাতিলা, ঢালচর ও কুকরীমুকরী এ তিনটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের আয়তন ছিল ৪০.৩৮ বর্গ কিলোমিটার। গত ২৫ মার্চ/২০১০ খ্রি. তারিখে কুকরীমুকরী ও পাতিলা নিয়ে নতুন করে যাত্রা শুরম্ন হয় কুকরীমুকরী ইউনিয়নের।

কুকরীমুকরী ইউনিয়নের আয়তন ৩৬.৭৯ বগ র্কিলোমিটার। তন্মোধ্যে কুকরীমুকরী দ্বীপের আয়তন ২৫ বর্গ কিলোমিটার । ইউনিয়নটির লোকসংখ্যা ১৮২৫৪ জন। স্থানীয় লোকজনের চেয়ে এ দ্বীপে বহিরাগতদের সংখ্যা বেশি। ইলিশ মৌশুমে এখানে ১০/১৫ হাজার লোকের সমাগম ঘটে। দ্বীপের অধিবাসিদের ৯৫ ভাগ জেলে।

গত ১৯৭০ এর ১২ নভেম্বর প্রলয়ংকরী বণ্যায় এ দ্বীপে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। বণ্যার পরবর্তীকালে ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এ দ্বীপ সফর করেন। এ সময় তিনি জনৈক ইসমাইল হাওলাদারের বাড়িতে আতিথেয়তা গ্রহণ করেন এবং ইসমাইল হাওলাদারের মেয়েকে তাঁর পরিধেয় শালটি উপহার দেন। ইসমাইল হাওলাদার আজও সেই শালটি সযত্নে সংরক্ষণ করছেন।

About tuhin

Check Also

জিনজিরা প্রাসাদ

যারা পূরাতন ইতিহাস জানতে এবং ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ করতে ভালবাসেন তাদের এমন একটি জায়গা নিয়ে …