Home / মনের জানালা / এরেঞ্জ ম্যারেজ

এরেঞ্জ ম্যারেজ

arrange marrege“নয়ন,তুই কেমনে রাজি হয়ে গেলি এই বিয়ে টা তে..চিনিস না,জানিস না,ইভেন আগে কখনো দেখিস ও নি…একজন টোটালি আননোন মানুষ সে..কিভাবে ঘর করবি বলতো..???আই জাস্ট কান্ট ইমাজিন…”
আমার হঠাত বিয়েতে রাজি হয়ে যাওয়া তে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড কলির বলা কথা ছিলো এগুলো…
.
আমি কিছুই বলিনি…হেসেছিলাম শুধু…
.
কারন আমি আসলেই একজন অপরিচিত মানুষ কে বিয়ে করতে যাচ্ছি,বাবা মায়ের পছন্দে..
কারন আমার কোন এফেয়ার নাই..
.
এক মাস পর আমার বিয়ে..
বাবা মা পারমিশন দিছেন ওই মানুষ টার সাথে কথা বলার…যার সাথে আমার বিয়ে..
যেন আমরা একে অপর কে জানতে পারি..
.
মায়ের কথা শুনে হেসেছিলাম..
“এখন আর আমার জানা না জানা তে কি এসে যাবে মা…???”
.
মা কিছু না বলে চলে গেছিলেন…
.
যাই হোক..
দেখতে দেখতে আমার বিয়ের দিন ঘনিয়ে এলো..
.
ধুমধাম করে,সামাজিক সব রীতিমতো আমার বিয়ে হয়ে গেলো…
.
আমার বরের নাম ডাঃ হোসাইন মাহমুদ..
গাড়িতে আসার সময় ঘোমটার ফাক দিয়ে দেখলাম উনি পাশে বসা তার বন্ধুর সাথে কিছু একটা নিয়ে হাসছেন…
.
দেখে মনে হল মানুষ টা হাসিখুশি অনেক…
.
“আজ আমাদের জীবনের প্রথম রাত একসাথে..তুমি আমাকে জানোনা..আমিও জানিনা তোমাকে…তোমার ছবি দেখে আমি পছন্দ করেছি শুধু…শুনেছি তুমি তাও দেখোনি…একজন অপরিচিত মানুষ এর সাথে কেমন লাগছে তোমার নয়ন???”
.
ঘরে ঢুকেই উনি এ কথা গুলো বললেন আমাকে…
আমি কিছুই বললাম না…
.
উনি আবার বললেন…
“আজ তুমি এখানে ঘুমাও,আমি সোফায় ঘুমায়..
অন্য রুমে গেলে বাসার লোকজন ভালো চোখে দেখবেনা..
আর আমি চাইনা..
অপরিচিত থাকা অবস্থা তে তোমাকে স্পর্শ করতে…
তুমি আমার স্ত্রী…পতিতা নও..
যেদিন পুরোপুরিভাবে আমরা দুজন দুজন কে জানবো সেদিন ই একসাথে ঘুমাবো…”
.
বলে উনি হাসলেন…
আমি অবাক হয়ে গেলাম…
মনের সব ভয়,জড়তা দূর হয়ে গেল অনেকটাই…
.
শ্রদ্ধায় চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল অপরিচিত এই মানুষ টার জন্য…
.
আস্তে আস্তে দিন যত যেতে থাকলো..
এরেঞ্জ ম্যারেজ নিয়ে আমার ধারনা বদলে যেতে থাকলো…
উনি আমার অনেক ভালো একজন বন্ধু হয়ে উঠতে শুরু করলেন…
.
আমি ভালো রাধতে পারিনা…
কোন কাজ ই খুব ভালো মত করতে পারিনা…
কিন্তু উনি রাগ করেন না..
বরং আমাকে শেখান কিভাবে আরো ভালো করতে হয়..
আমি উনাকে দেখি আর অবাক হই..
একজন মানুষ এতটা পারফেক্ট হয় কিভাবে…
.
“নয়ন,তুমি আমার দাসী না..তুমি আমার স্ত্রী..সংসার তোমার যত টা..আমার ও তত টা..
তুমি মতামত জানাবা..আমিও জানাবো…কিন্তু এটা মনে করবে না আমার মতামত ই সব..
আমি ভুল হলে ধরিয়ে দিবা…”
.
আমি ধীরে ধীরে তার স্ত্রী হয়ে উঠি একজন অপরিচিত মেয়ে থেকে…
তারপর আমরা স্বামী স্ত্রী হতে পারি…
.
বিয়ের ৩ মাস পর…
.
হঠাত একদিন কলির ফোন..
“দোস্ত বিয়ে করে ফেলছি আমরা..
আমি আর সৃজন আজ কোর্ট ম্যারেজ করলাম…”
অনেক খুশি ছিল মেয়েটা…
খুশি হওয়ার ই কথা..
৭ বছরের প্রনয় আজ পরিণয় এ পরিনত হল…
অনেক শুভকামনা জানালাম…
.
কলির বাবা মা প্রথম দিকে ওদের সম্পর্ক মেনে না নিলেও বিয়ের পর আর না করেন নি..
এক মাত্র মেয়ের পছন্দ কে ফেলতে পারেন নি..
আর সৃজন পছন্দ করার মতই ছেলে..
ভালো চাকরি করে..দেখতে ভালো..পরিবার ও ভালো…
সব মিলিয়ে ভালোই কাটছিল সব..
.
কলির প্রেমের বিয়ে…
আর আমার বাবা মায়ের পছন্দে…
আমি আমার মাঝে একদিন অনুভব করি আরেকটি সত্ত্বা..
.
হুম আমি মা হতে চলেছি…
আমার স্বামী যখন এটা শুনলেন..
উনি খুশিতে আমাকে জড়িয়ে কেঁদে ফেললেন…
আমার প্রতি তার যত্ন আরো বেড়ে গেলো…
.
কলি শুনে খুব খুশি হল…
সাথে সেও আমাকে খুশির সংবাদ দিলো…
ঠাট্টা করে বললো,”দেখছিস,দুজনে মা ও হচ্ছি একসাথে..তোর আমার সব ই মিল সেই ছোট্ট বেলা থেকে..শুধু বিয়েটা বাদে..হা হা হা..”
.
একদিন রাতে কলি ফোন করে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকলো..
“নয়ন আমি ভালো নাই রে..সৃজন কেমন যেন হয়ে গেছে..ছোট ছোট কারনেই রাগ করে..গায়ে হাত ও তোলে…বিশ্বাস কর,ও আগে এমন ছিলো না…আমি বাবা মা কে কিছু বলতেও পারিনা..নিজের পছন্দে বিয়ে করেছি..কোন মুখে বলবো??”
.
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম…
এতবছর একসাথে থাকার পর ও মানুষ চেনা যায়না আজকাল….
.
এর কিছুদিন পর অভিমানী মেয়ে টা চলে গেলো না ফেরার দেশে…
.
যাওয়ার সময় ও আমার জন্য একটা চিঠি লিখে গেছিলো…
“নয়ন,আমি ভুল ছিলাম রে…
আসলে যুগের পর যুগ একসাথে থাকার পর ও মানুষ চেনা যায়না..আমি পারলাম না রে..”
.
আমি যখন চিঠি টা পেয়েছি তখন আমার কোলে আমার সদ্যজাত কন্যাসন্তান…
আমি ওর নাম দিলাম কলি…
খুব কেঁদেছি সেদিন…
.
শেষ বারের জন্য ও প্রিয় বান্ধবী কে দেখতে পারলাম না….
তবে সেদিন দ্বিতীয় বারের মত বুঝতে পেরেছিলাম…
আমি ভুল করিনি এরেঞ্জ ম্যারেজ এ…
.
চিরকালের চেনা প্রিয়জন টার প্রাণঘাতকে পরিনত হতে যেমন টা সময় লাগেনা…
.
তেমনি অপরিচিত একজন মানুষ ও জীবনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রিয় মানুষ টা হয়ে যেতে পারে নিমিষেই….
.
.
লিখাঃ শেখ তানজিলা রহমান ।”নয়ন,তুই কেমনে রাজি হয়ে গেলি এই বিয়ে টা তে..চিনিস না,জানিস না,ইভেন আগে কখনো দেখিস ও নি…একজন টোটালি আননোন মানুষ সে..কিভাবে ঘর করবি বলতো..???আই জাস্ট কান্ট ইমাজিন…”
আমার হঠাত বিয়েতে রাজি হয়ে যাওয়া তে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড কলির বলা কথা ছিলো এগুলো…
.
আমি কিছুই বলিনি…হেসেছিলাম শুধু…
.
কারন আমি আসলেই একজন অপরিচিত মানুষ কে বিয়ে করতে যাচ্ছি,বাবা মায়ের পছন্দে..
কারন আমার কোন এফেয়ার নাই..
.
এক মাস পর আমার বিয়ে..
বাবা মা পারমিশন দিছেন ওই মানুষ টার সাথে কথা বলার…যার সাথে আমার বিয়ে..
যেন আমরা একে অপর কে জানতে পারি..
.
মায়ের কথা শুনে হেসেছিলাম..
“এখন আর আমার জানা না জানা তে কি এসে যাবে মা…???”
.
মা কিছু না বলে চলে গেছিলেন…
.
যাই হোক..
দেখতে দেখতে আমার বিয়ের দিন ঘনিয়ে এলো..
.
ধুমধাম করে,সামাজিক সব রীতিমতো আমার বিয়ে হয়ে গেলো…
.
আমার বরের নাম ডাঃ হোসাইন মাহমুদ..
গাড়িতে আসার সময় ঘোমটার ফাক দিয়ে দেখলাম উনি পাশে বসা তার বন্ধুর সাথে কিছু একটা নিয়ে হাসছেন…
.
দেখে মনে হল মানুষ টা হাসিখুশি অনেক…
.
“আজ আমাদের জীবনের প্রথম রাত একসাথে..তুমি আমাকে জানোনা..আমিও জানিনা তোমাকে…তোমার ছবি দেখে আমি পছন্দ করেছি শুধু…শুনেছি তুমি তাও দেখোনি…একজন অপরিচিত মানুষ এর সাথে কেমন লাগছে তোমার নয়ন???”
.
ঘরে ঢুকেই উনি এ কথা গুলো বললেন আমাকে…
আমি কিছুই বললাম না…
.
উনি আবার বললেন…
“আজ তুমি এখানে ঘুমাও,আমি সোফায় ঘুমায়..
অন্য রুমে গেলে বাসার লোকজন ভালো চোখে দেখবেনা..
আর আমি চাইনা..
অপরিচিত থাকা অবস্থা তে তোমাকে স্পর্শ করতে…
তুমি আমার স্ত্রী…পতিতা নও..
যেদিন পুরোপুরিভাবে আমরা দুজন দুজন কে জানবো সেদিন ই একসাথে ঘুমাবো…”
.
বলে উনি হাসলেন…
আমি অবাক হয়ে গেলাম…
মনের সব ভয়,জড়তা দূর হয়ে গেল অনেকটাই…
.
শ্রদ্ধায় চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল অপরিচিত এই মানুষ টার জন্য…
.
আস্তে আস্তে দিন যত যেতে থাকলো..
এরেঞ্জ ম্যারেজ নিয়ে আমার ধারনা বদলে যেতে থাকলো…
উনি আমার অনেক ভালো একজন বন্ধু হয়ে উঠতে শুরু করলেন…
.
আমি ভালো রাধতে পারিনা…
কোন কাজ ই খুব ভালো মত করতে পারিনা…
কিন্তু উনি রাগ করেন না..
বরং আমাকে শেখান কিভাবে আরো ভালো করতে হয়..
আমি উনাকে দেখি আর অবাক হই..
একজন মানুষ এতটা পারফেক্ট হয় কিভাবে…
.
“নয়ন,তুমি আমার দাসী না..তুমি আমার স্ত্রী..সংসার তোমার যত টা..আমার ও তত টা..
তুমি মতামত জানাবা..আমিও জানাবো…কিন্তু এটা মনে করবে না আমার মতামত ই সব..
আমি ভুল হলে ধরিয়ে দিবা…”
.
আমি ধীরে ধীরে তার স্ত্রী হয়ে উঠি একজন অপরিচিত মেয়ে থেকে…
তারপর আমরা স্বামী স্ত্রী হতে পারি…
.
বিয়ের ৩ মাস পর…
.
হঠাত একদিন কলির ফোন..
“দোস্ত বিয়ে করে ফেলছি আমরা..
আমি আর সৃজন আজ কোর্ট ম্যারেজ করলাম…”
অনেক খুশি ছিল মেয়েটা…
খুশি হওয়ার ই কথা..
৭ বছরের প্রনয় আজ পরিণয় এ পরিনত হল…
অনেক শুভকামনা জানালাম…
.
কলির বাবা মা প্রথম দিকে ওদের সম্পর্ক মেনে না নিলেও বিয়ের পর আর না করেন নি..
এক মাত্র মেয়ের পছন্দ কে ফেলতে পারেন নি..
আর সৃজন পছন্দ করার মতই ছেলে..
ভালো চাকরি করে..দেখতে ভালো..পরিবার ও ভালো…
সব মিলিয়ে ভালোই কাটছিল সব..
.
কলির প্রেমের বিয়ে…
আর আমার বাবা মায়ের পছন্দে…
আমি আমার মাঝে একদিন অনুভব করি আরেকটি সত্ত্বা..
.
হুম আমি মা হতে চলেছি…
আমার স্বামী যখন এটা শুনলেন..
উনি খুশিতে আমাকে জড়িয়ে কেঁদে ফেললেন…
আমার প্রতি তার যত্ন আরো বেড়ে গেলো…
.
কলি শুনে খুব খুশি হল…
সাথে সেও আমাকে খুশির সংবাদ দিলো…
ঠাট্টা করে বললো,”দেখছিস,দুজনে মা ও হচ্ছি একসাথে..তোর আমার সব ই মিল সেই ছোট্ট বেলা থেকে..শুধু বিয়েটা বাদে..হা হা হা..”
.
একদিন রাতে কলি ফোন করে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকলো..
“নয়ন আমি ভালো নাই রে..সৃজন কেমন যেন হয়ে গেছে..ছোট ছোট কারনেই রাগ করে..গায়ে হাত ও তোলে…বিশ্বাস কর,ও আগে এমন ছিলো না…আমি বাবা মা কে কিছু বলতেও পারিনা..নিজের পছন্দে বিয়ে করেছি..কোন মুখে বলবো??”
.
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম…
এতবছর একসাথে থাকার পর ও মানুষ চেনা যায়না আজকাল….
.
এর কিছুদিন পর অভিমানী মেয়ে টা চলে গেলো না ফেরার দেশে…
.
যাওয়ার সময় ও আমার জন্য একটা চিঠি লিখে গেছিলো…
“নয়ন,আমি ভুল ছিলাম রে…
আসলে যুগের পর যুগ একসাথে থাকার পর ও মানুষ চেনা যায়না..আমি পারলাম না রে..”
.
আমি যখন চিঠি টা পেয়েছি তখন আমার কোলে আমার সদ্যজাত কন্যাসন্তান…
আমি ওর নাম দিলাম কলি…
খুব কেঁদেছি সেদিন…
.
শেষ বারের জন্য ও প্রিয় বান্ধবী কে দেখতে পারলাম না….
তবে সেদিন দ্বিতীয় বারের মত বুঝতে পেরেছিলাম…
আমি ভুল করিনি এরেঞ্জ ম্যারেজ এ…
.
চিরকালের চেনা প্রিয়জন টার প্রাণঘাতকে পরিনত হতে যেমন টা সময় লাগেনা…
.
তেমনি অপরিচিত একজন মানুষ ও জীবনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রিয় মানুষ টা হয়ে যেতে পারে নিমিষেই….
.
.
লিখাঃ শেখ তানজিলা রহমান ।

About Borhan Uddin

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …