Home / মনের জানালা / স্বপ্নপুরুষের সন্ধানে পর্ব-১

স্বপ্নপুরুষের সন্ধানে পর্ব-১

shopnopurushপ্লেবয় হবার জন্য যে সাহস লাগে সেই সাহসটা আমার কখনই ছিল না।হয়তো একটু আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাস করি বলেই এই সাহস নেই।কেননা জীবনে যতবারই অন্যের কষ্টের কারন হয়েছি,ততবারই নিজেও কষ্ট পেয়েছি।এইভাবেই পার করে দিতে পেরেছি ভার্সিটি লাইফের সোনালী সময়টাকে।এই সোনালী সময়টাতেও ভালোলাগার মত কাউকে খুঁজে পাইনি।তাছাড়া রিলেশন করতেই হবে এমন কোন তাগিদ আমার কখনই ছিল না।রিলেসনে যাবার জন্য যে কাঠখড় পোড়াতে হয় সেই ধৈর্যও আমার ছিল না।এজন্যই এতোটাকাল একাকী কাটিয়ে দিয়েছি।কিন্তু ভার্সিটি লাইফ শেষ করে চাকরী জীবনে এসে এতোটা ভাবনায় পরে যাবো না।দেড় বছর হাড় ভাঙ্গা খাটুনির অবশেষে বিসিএস ক্যাডার হবার স্বপ্ন পুরন করতে পারলাম।সবকিছুই ভাল ছিল কিন্তু পোস্টিংটা পেলাম এক অজপাড়াগায়ে।তবে আমার কর্মস্থলে গিয়ে মনটা খুব ভাল হয়ে গিয়েছিল।প্রকৃতি এমন চোখ ঝলসানো সুন্দর হতে পারে আমার ধারনা ছিল না।আর আমার কলিগরাও ছিলেন খুব বন্ধুভাবাপন্ন।জাকির ভাই,ইব্রাহিম ভাই আর সজল ভাইকেতো নিজের ভাই ভাবতেই ভাল লাগতো।আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন সজল ভাই।এরকম সহজ সরল আর স্পষ্টবাদী লোক আমি খুব কমই দেখেছি।অফিসে ছিলাম আমি একমাত্র ব্যাচেলর অফিসার এবং সবচেয়ে জুনিয়র। নতুন চাকরী বলেই হয়তো কর্মস্পৃহার অভাব ছিল না।অফিসের কাজের বাইরেও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক আর সাংস্কৃতিক কাজ করতাম।আসলে ব্যাচেলর হওয়াতেও অফিস সময়ের পর তেমন কাজ থাকতো না।এইজন্যই এসব কাজে নিজেকে বেস্ত রাখতাম।পুরো কলোনিতে এজন্যই অতি অল্পসময়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠলাম।স্বপ্নেও ভাবিনি এখানে এতোটা ভালো সময় কাটবে।চাকরীর ৩ মাসের মাথায় প্রথম ছুটি নিলাম।যেদিন ছুটিতে যাবো সেদিনই ঘটলো ঘটনাটা।মোবাইল খুলে দেখি একটা অজানা নম্বর থেকে একটা রোমান্টিক ম্যাসেজ।খুব একটা অবশ্য অবাক হলাম না।ভার্সিটিতে থাকতে আমাকে পচানোর প্ল্যান হিসেবে আমার বন্ধুরা প্রায়ই এরকম টোপ ফেলত।এটাকেও আমার কলিগদের কারো রসিকতা ভেবে তেমন গাঁ করিনি।কিন্তু একটু পর দেখি মেসেজের ফুলঝুরি ছুটছে।ম্যাসেজগুলোর মধ্যে এমন কিছু তথ্য আছে যা আমার খুব কাছের মানুষরাই শুধু জানে।অথচ এই নম্বরটা খুব অল্প লোকেই জানে।টানা ১৮ টা এসএমএসের উত্তর না পেয়ে নম্বরটা থেকে কল আসলো।কিন্তু ওপাশ থেকে থেকে কারো কোন সাড়া শব্দ নাই।ফোন কেটে দিলে আবার ফোন করে একই কাজ করে।আমিও কম যাই না।ফোন রিসিভ করে টেবিলের উপর ফেলে রাখলাম।প্রায় ২০ মিনিট পর গোসল সেরে ফিরে দেখি তখনও ফোনের লাইন কাটা হয়নি।এইবার আমি অবাক না হয়ে পারলাম না।বাধ্য হয়ে পরিচয় জানতে চেয়ে মেসেজ দিলাম।উত্তর আসলো,উনি শুধু আমার কথা শুনতে চায়,আমার সাথে কথা বলার সাহস নাই।আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না এটা কে হতে পারে।আর আমার সাথে এভাবে মজা নিচ্ছে ভেবে মেজাজটা চরম খারাপ হয়ে গেলো।ঠিক করলাম এঁর শেষ আমি দেখেই ছাড়বো।তাই মেসেজ দিলাম কথা না বললে নাম্বার ব্লক করবো।ওই ওষুধে যে দ্রুত কাজ হবে বুঝি নি।অবশেষে ওপাশে একটা মেয়ের কণ্ঠ শোনা গেল।কিন্তু মেয়েটাকে আমি চিনতে পারলাম না।

কিছুক্ষন কথা বলে বুঝতে পারলাম মেয়েটাকে আমি আসলেই চিনি না।ফোনে যে দুয়েকটা মেয়ের সাথে আমি কথা বলিনা তা না।কিন্তু পরিচয়হীন অচেনা মেয়ের সাথে কথা বলার মত বোকামিটা আমি কখনই করি না।ঠিক করলাম এই মেয়েটা যেহেতু আমার এতো কিছু জানে সেহেতু উনার পরিচয় আমি যে করেই হোক বের করব।প্রায় আধা ঘণ্টা কথা বলেও তেমন কিছু বের করতে পারলাম না।সে শুধু বলল,সে আমাকে তার খুব ভাললাগে এবং এটাও জানে তার ভাললাগা সত্যি হবার সুযোগ নেই।আজকাল মোবাইল ফেসবুকের যুগে এইসব সস্তা ভালবাসার কথার কোন মূল্য নেই।কেননা আমাকে না চিনেও না দেখেই হয়তো এমনটা বলছে।আবার হয়তো মজা নেবার জন্য বলতে পারে।আমি এমনটাই ভেবেছিলাম।কিন্তু ওই মেয়ে যখন আমি অফিসে কি পোশাক পরেছি,কি গান শুনেছি বলে দিল তখন যেন হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের শক খেয়ে গেলাম।কেমন যেন ভয় ভয় লাগছিল।বুঝতে পারছিলাম মেয়েটা আমাদের কলোনিতেই থাকে এবং কোনভাবে আমাকে ফলো করে।আমি স্পষ্ট বলে দিলাম পরিচয় না দিলে ব্লক করে দিবো।মেয়েটা বাধ্য হয়ে রাজি হল।কিন্তু শর্ত দিলো তার কথা কাউকে বলা যাবে না।উত্তর শুনে অবাক হবো জানতাম কিন্তু এতোটা যে অবাক হবো ভাবতে পারিনি।জেরা করার এক পর্যায়ে সে স্বীকার করলো সে আমাদের সজল ভাইয়েরই বউ।আমার মাথায় যেন একমন ওজনের একটা পাথর দিয়ে বাড়ি দিল।নিজেকে খুব অসহায় লাগছিল।সজল ভাবীকে কখনো নিজের চোখে দেখিনি।তবে সজলভাইয়ের মুখে ভাবীর গল্প শুনেছি।স্ত্রীকে অনেক ভালবাসেন উনি।কলিগদের মুখে শুনেছি ভাবী যেমন সুন্দরী তেমনি ধার্মিক।

আমার মুখে কে যেন তালা লাগিয়ে দিলো।মুখ দিয়ে কোন কথাই সরছিল না।এখানে সবাই ভাবীদের সাথে সম্মান করে কথা বলে।এজন্যই ভাবীকে কি বলব বুঝতে পারছিলাম না।ভাবী আমার কথা শুনেছিলেন সজল ভাইয়ের মুখ থেকেই।সজল ভাই নাকি সবসময় আমার প্রশংসা করেন।আমার অফিসের জানালা বরাবর কলোনির ‘লেডিস সোসাইটি’ নামক মহিলা ক্লাব আছে।ভাবী সেই ক্লাবের সহকারী সচিব।সেই ক্লাবের পাশেই ভাবীর বাসা।ক্লাব আর বাসার জানালা দিয়েই আমার অফিস দেখা যায়।সেই জানালা দিয়েই আমাকে ফলো করেন।অন্যভাবীদের মুখে প্রশংসা শুনেই আমার সম্বন্ধে কৌতুহল হয়েছিল।সেই রাতে ভাবী অনেক কথাই বলেছিলেন।আমি কেমন যেন অপরাধবোধে ভুগছিলাম।ভাবীকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করছিলাম।কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিলো না।রাগে দুঃখে নিজের চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা করছিলো।যেই সজল ভাই আমাকে নিজের ভাইয়ের মত জানেন,সেই সজল ভাই যদি এই কথা জানেন তাহলে কি ভাববেন ভেবেই আমার অসহায় লাগছিলো।ভাবী বলে বকা ঝাড়িও দিতে পারছিলাম না।শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বললাম আমার কথা না শুনলে সজল ভাইয়ের কাছে সব বলে দিব।ভেবেছিলাম এই কথায় কাজ হবেই।কিন্তু এটাও যে বুমেরাং হবে কল্পনা করিনি।ভাবী বললেন তিনি এসবের পরোয়া করেন না।এই কথা শুনে আমার অন্তরাত্মা মনে হয় কেপে উঠলো।নিজেকে এরকম অসহায় বোধহয় কখনই লাগেনি।যদিও এই ঘটনায় আমার কোন হাত নেই কিন্তু কোনভাবে যদি ফাঁস হয় তবে আমার এতদিনের মানসম্মান ধুলোয় লুটোবে।

লিখেছেনঃ মাহমুদ হাসান

About Kabir Hossain

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …