Home / মনের জানালা / প্রিয়তমেষু

প্রিয়তমেষু

priotomesho৯ মে তোমার জন্মদিন। দেখেছ ঠিক মনে রেখেছি। অবন্তী, একি এইটুকুতে অবাক হলে? হয়তো তেলেবেগুনে রেগে গিয়েই বলছ, ‘আজ সে আমাকে বার্থডের তারিখ শেখাচ্ছে! যত দিন একসঙ্গে ছিলাম তত দিন তো এসবের কোনো বালাই ছিল না! কখনো কি আমার জন্মদিনের প্রথম প্রহরে আমার জন্য একমুঠো গোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে থেকেছ? শুধু ভণিতা করে বলতে;—আজকের সকালবেলার বাতাসের আছে শুধু তোমার অধিকার/আমার নিবেদন গোলাপ রজনীহীন/আজ তোমার শুভজন্মদিন। তুমি গল্প, কবিতা লিখতে। যদি বলতাম আমাকে নিয়ে একটা কবিতা লিখে দিয়ো। উদাসপানে তাকিয়ে বলতে;—আগে জীবনানন্দ দাশ, টি এস ইলিয়ট পড়ো তারপর না হয় আমাকে পড়লে! বছরের পর বছর ধরে তোমাকেই বুঝতে পারিনি; আর জীবনানন্দ দাশ! তোমার মতো ছেলেদের ভালোবাসলে পাহাড়সম কষ্ট নিয়ে চলতে হয়। বাউণ্ডুলে, ভবঘুরে ছেলের জন্য ভালোবাসা নাই। যাও, ভাগো; ভুলে গেছি তোমাকে।’
চলেই গেছি। আমি হয়তো লুকোচুরি খেলার ছলে পালিয়ে আছি; কানামাছি খেলে আমার জীবন থেকে ভোঁ-দৌড় দাওনি কি তুমি! অবন্তী, ফুলার রোড আর ভিসি চত্বরের কথা মনে পড়ে তোমার? রোজ পড়ন্ত বিকেলে দেখা করতাম এখানে। সস্তা ঝালমুড়ি আর বাদামে কাটত আমাদের সময়। সপ্তান্তে কদাচিৎ তোমার প্রিয় আইসক্রিম। প্রায়ই তুমি পুরোনো ফ্রেমের চশমাটি খুলে মুগ্ধদৃষ্টিতে তাকাতে। আমার ভীষণ লজ্জা লাগত তখন। মনে খটকা লাগত; আমি তো সুদর্শন নই, তবুও মেয়েটি এত মুগ্ধ কেন!
আমাকে নিয়ে দুনিয়ার সব নালিশ ছিল তোমার।
অবন্তী, তোমার শেষ কথাটি আমার কানে বিষাক্ত তিরের মতো বিঁধে আছে—‘যেদিন আমি চলে যাব সেদিন তুমি আমার মর্মটা বুঝবে’। রোবট আর নিশাচর প্রাণীর মতো হয়ে গেছি আমি। তরতাজা মোটা হয়ে যাচ্ছি দিন দিন! ভালোবাসা আর ঘৃণা; একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এখন মুদ্রার পিঠটি পাল্টে দিয়েছ। প্রচণ্ড ঘৃণা করো আমায়, তাই না? যাই হোক একদিন তো ভালোবেসেছিলে আমায়। এতেই আমি তৃপ্ত। সন্তুষ্ট বটে।
তোমার কাজলকালো চোখের কোণে কি জল? আমাকে ভুলে গিয়ে তবুও আমার জন্য দুফোঁটা জল জমিয়ে রেখেছ? তোমার চোখের কোণে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু জল মুছে দিতে ভীষণ ইচ্ছা করছে।
এখন রবি ঠাকুরের মতো বলি, ‘অশ্রু আঁখি পরে যদি ফুটে ওঠে তব স্নাত চোখ।’

সংগৃহিত

About uddin rokon

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …