Home / মনের জানালা / “নীল কষ্ট” পর্ব-১

“নীল কষ্ট” পর্ব-১

nil kosto(১)
পৃথা মাহিনকে যখন ফোন করে তখন
সময় রাত দেড়টার কিছু
বেশি। মাহিন তখন দক্ষিণ দিকের
জানালার পাশে খাটের
উপর হাঁটু মুড়িয়ে বসা।
হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। জানালার
বাইরে পূর্ণিমার আলোয় সব কিছু
পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান
কিন্তু জানালার এপাশটা অর্থাৎ
ঘরের ভেতরটা অন্ধকার।
পুরোপুরি অবশ্য অন্ধকার না,
জানালার উপরে সানশেড
না থাকায় চাঁদের
আলো সরাসরি মাহিনের
মুখে এবং গায়ে এসে পড়েছে।
মাহিনের নিজেকে ছাড়া ঘরের
আর কোন কিছুই দেখতে পাওয়ার
কথা না। অবশ্য
সে দেখার চেষ্টাও করছে না।
তার দৃষ্টি বাইরের দিকে।
সে চাঁদের আলোয় চকচক
করা শহরটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে
দেখছে। মাঝে মাঝে চাঁদটার
দিকে সরাসরি তাকাচ্ছে। একবার
তাকালে সহজে চোখ
ফেরাচ্ছে না। এ যেন কোন এক
গোপন রহস্য উৎঘাটনের
চেষ্টা। চাঁদের আলো ইতোমধ্যেই
আশপাশের
সবকিছুকে রহস্যময় করে তুলেছে।
সবকিছু কেমন যেন
ভয়ংকর সুন্দর দেখাচ্ছে। চাঁদের
আলোর একটা বিশেষত্ব
হল, তা যে কোন জিনিসকেই ভয়ংকর
সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে।
এতই সুন্দর যে চোখ
ফেরানো যায় না। সম্মোহিতের মত
তাকিয়ে থাকতে হয়।
মাহিনও তাকিয়ে আছে, আর
কিছুক্ষণ পরপর
আনমনে সিগেরেটে হালকা টান
দিচ্ছে। সে কোন
একটা চিন্তায় এতই নিমগ্ন
যে দু’মিনিট
ধরে যে সমানে ফোন
বেজে যাচ্ছে তা সে খেয়ালই করল
না।
মোবাইলের রিংটোন তীব্র
থেকে তীব্রতর হওয়ায় একসময়
সে সম্বিৎ ফিরে পেল এবং খুব দ্রুত
বালিশের পাশ
থেকে মোবাইল
ফোনটা হাতে নিয়ে রিসিভ
করে কানে ঠেকাল। কে ফোন
করেছে দেখার প্রয়োজন
বোধ করল না। ওপাশ থেকে পৃথার
কণ্ঠ ভেসে এল।
-‘হ্যালো’ ‘হুম’ ‘হ্যালো?’ ‘হুম’
-‘হ্যালো মাহিন,শুনতে পাচ্ছিস?’
-‘হুম,শুনতে পাচ্ছি, বল’
-‘শুনতে পেলে হুম-হুম করছিস কেন?
কথা বলতে পারিসনা?’
– ‘হুম’
-‘আবার হুম?তুই কি ঘুমাচ্ছিলি?’
-হুম…ইয়ে মানে, না। কি বলবি বল’
-কিছু বলবো না, এমনি ফোন করেছি,
তোর সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছা করল
তাই। কি করিস?’
-কি করি?তেমন কিছু না।জানালার
পাশে বসে হাওয়া খাই। দেখ পৃথা,
তুই যে আমাকে এমনি এমনি ফোন
করিসনি সেটা আমি খুব ভাল
করে জানি। আমার কিছু
মেয়ে ফ্রেন্ড আছে যারা রাত
বিরাতে ফোন করে আমার
সাথে কথা বলতে চায়। তুই তাদের
পর্যায়ে পড়িস না। কি কাজে ফোন
করেছিস সেটা বল’?
-আজব তো! এভাবে জেরা করছিস
কেন? ফোন করে কি অপরাধ করলাম
নাকি?’
-না, তা করিসনি
-তাহলে?তোর অন্য ফ্রেন্ডরা রাত
বিরাতে কল করতে পারে,
আমি পারি না?
-হুম, পারিস
-আবার হুম?
মাহিনের
ঠোটে হাসি ফুটে উঠে।
-আচ্ছা, আর
হুম বলবো না।তারপর বল, কি খবর?’ —
আমার কোন
খবর নাই।
খাচ্ছি দাচ্ছি ঘুমাচ্ছি। প্রতিদিন
রাত বারটার
মধ্যে ঘুমিয়ে যাই।আজকে এগারোটার
সময় বাসার কারেন্ট
চলে গেছে, এখনো আসেনি। তাই ঘুম
আসছে না। তুইতো জানিস
আমি গরমেরমধ্যে ঘুমাতে পারিনা।
বারান্দায়
বসে বসে হেডফোন
কানে দিয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীত
শুনছিলাম,
হঠাৎ তোর কথা মনে পড়ল, তাই
ফোন দিলাম। তুই তো এ
সময় ঘুমাস না। তাই ভাবলাম তোর
সাথে গল্পকরে সময়টা পার করে দেই।’
((২))
মাহিনের হাতের সিগারেট শেষ
পর্যায়ে ছিল।
সে জানালা দিয়ে সিগারেটের
ফিল্টারটা বাইরে ছুঁড়ে ফেলে বলল,
-ভাল করেছিস। আমিও
একা একা বসে আছি। সময়
কাটছে না। আচ্ছা, রবীন্দ্র
সঙ্গীত শোনার সময় তোদের আমার
কথা মনে পড়ে কেন
বল?
-তোদের মানে! আর কারও
মনে পড়ে নাকি?
-হুম।রিনা, ইমু, মিলি ওরাও রবীন্দ্র
সঙ্গীত শোনার সময়
আমাকে প্রায়ই ফোন দেয়
-জানিনা তো। তুই
ছেঁকা খাওয়া পাবলিক তো,
হয়তো তাই। রবীন্দ্রনাথ
তো আবার ছেঁকা খাওয়া গান
বেশি লিখেছেন
-মার খাবি!!তুইও কারণটা জানিস না?
ওরাও
বলল জানেনা। অদ্ভুত’
-অদ্ভুতের কি আছে? মনে পড়তেই
পারে’
-আচ্ছা বাদ দে।অন্য কথা বল। সাইফের
কি অবস্থা?কথা বার্তা হয়?’
-আছে ভালই। কথা বার্তা আর কি?
দিন নাই, রাত নাই,
আমাকে কিছুক্ষণ পরপরই ফোন দেয়।
আমি ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে প্রায়
সময়ই রিসিভকরি না। ও চায়
আমি সারাদিন ওর সাথে কথা বলি।
কিন্তু আমার একদিনে ঘণ্টা খানেকের
বেশি কথা বলতে ভাল লাগেনা।
রাত দশটার দিকে একবার কথা হয়েছে।
হয়তো দেখবি এখনো ফোন
দিয়ে বসে আছে
মাহিন
হেঁসে ফেলল,
-তাই নাকি? তুইতো দেখি সাইফের
ব্যাপারে এখনো সিরিয়াস
হতে পারলি না। এখন
না হলে কখন হবি?
-এখন যেমন
হতে পারিনি তেমনি ভবিষ্যতেও
পারবো বলে মনে হয় না।
আগে যাও কিছুটা ভাল লাগত,
ইদানিং সাইফকে আমার অসহ্য লাগে।
ওর কথা বাদ।আনিতার কথা বল। এর
মধ্যে আর কথা হয়েছে?
-না, হয়নি’
মাহিন
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ‘ওর
সাথে শেষ কথা হয়েছে প্রায়
তিন মাস আগে। তুই তো সবই
জানিস। তারপরও জিজ্ঞেস
করার মানে কি?’
-না এমনি জিজ্ঞেস করলাম।
ভাবলাম কথা হলেও তো হতে পারে।
(একটু থেমে) ওর
ব্যাপারে তোকে একটা কথা বলার
ছিল’
-বল
-না থাক
-না থাক মানে?
– না থাক।আরেকদিন বলবো
-আরেকদিনবলবো মানে? আমার
সাথে ভন্ডামি করবি না!!
কি বলবি বল’ ‘ভন্ডামি না,
সিরিয়াস!!
-কথাটা কিভাবে বলবো ঠিক
বুঝতে পারছি না’
-কিভাবে বলবি মানে? মুখদিয়ে বলবি,
খাঁটি বাংলা ভাষায় বলবি!!
-মুখ দিয়ে যে বলবো সেটা তো জানি।
আমি ভাবছি কথাটা তোকে বলা ঠিক
হবে কিনা
-দেখ পৃথা,আমাকে কখনো কিছু বলার
হলে ঠিক বেঠিক
ভাববি না,বলে ফেলবি।
আমি কথা প্যাঁচানো পছন্দ করি না।
যা বলার ভনিতা না করে বলে ফেল
– তুই কি কিছুই শুনিসনি?
-কি শুনবো?
– আনিতার
যে বিয়ে ঠিক হয়েছে এ
ব্যাপারে তুই সত্যিই কিছু জানিস না?’
-কি বললি?

লিখেছেনঃ স্বপ্ন রাজ্য

About uddin rokon

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …