Home / মনের জানালা / “তিন পাঁকে বাঁধা” পর্ব-৩

“তিন পাঁকে বাঁধা” পর্ব-৩

tin pake badha(৪)
দশটা বেজে গেছে । নাফিয়া নামের মেয়েটা আজ দশটায় আমাকে শর্মা হাউসে আসতে বলেছে । কেন আসতে বলেছে জানিনা । আমি এখন শর্মা হাউসের পাশের গলির একটা চায়ের দোকানে বসে আছি । একবার খোঁজ নিয়ে আসা দরকার । আমি উঠে দাঁড়ালাম ।
.
শর্মা হাউসের দরজা থেকে ভেতরে উঁকি দিলাম । ভেতরে সবাইকে ঠিকমত দেখা যাচ্ছেনা । তবে আশার কথা হচ্ছে, কোন টেবিলেই দুটি মেয়ে বসা নেই । আমি ভেতরে ঢুকে পরলাম ।
.
ভেতরে কোণার দিকে যেতে দেখি অরুন বসে আছে । সাথে একটা ছেলে । দুজনই একই দিকে বসা । দেখে আশ্চর্য হচ্ছি, তবে সেটা এখন প্রকাশ করা যাবেনা । অরুনের দিকে তাকাতেই দুজনের চোখে চোখ পড়ল । আমি মিষ্টি হাসার চেষ্টা করলাম । কতটুকু কি হল জানি না । কিন্তু অরুন হাসতে পারল না । কেমন যেন অপ্রস্তুত ভাব চোখে মুখে । এদিকে আমার ফোন বেজে চলেছে । আমি ওকে অস্বস্তিকর অবস্থায় না ফেলে বাইরে বেরিয়ে পড়লাম ।
.
নাফিয়া ফোন দিয়েছে । আমি হাঁটতে হাঁটতে ফোন ধরে বললাম –
– হ্যালো…
– আলিফ সাহেব, আপনি ভিক্টোরিয়ায় আসুন । আমি বসে আছি ।
.
আমি কিছু না বলে ফোন রেখে দিলাম । দেখি ভিক্টোরিয়ায় গিয়ে, ওখানে আবার কী অপেক্ষা করছে আমার জন্য ।
.
ভেতরে ফাঁকা দেখে একপাশের টেবিলে বসে আছে নাফিয়া । আমি গিয়ে তার সামনের চেয়ারটায় বসলাম । প্রথমে মুখ খুলল নাফিয়া –
– স্যরি, কালকে ভিক্টোরিয়া বলতে ভুলে শর্মা হাউস বলে ফেলেছি । তখন খেয়াল ছিলনা ।
– ওওও, তাই ?
– হুম ।
.
দুজনে আবার চুপ হয়ে গেলাম । দুই মগ কফি চলে এসেছে । মনে হয় আগেই অর্ডার করা ছিল । আমি কফির মগ নিয়ে তাতে ছোট একটা চুমুক দিলাম ।
– আচ্ছা ম্যাডাম, আপনি প্ল্যান করে এমন করেছেন, তাই না ?
– কই, না তো ! আমি আবার কী করলাম !
– না, কিছু না । আপনি আবার কী করবেন !
.
আবার দুজনে চুপ হয়ে গেলাম । কথা আগাচ্ছেনা খুব একটা । কফি প্রায় শেষ হয়ে এসেছে । আমি আবার বললাম –
– আচ্ছা, সত্যি করে বলুনতো, কেন আপনি এমন করেছেন ?
– সত্যি শুনতে চান ?
– হ্যাঁ, শুনতে চাই । সে জন্যই তো জিজ্ঞেস করছি ।
– অরুন আমার বান্ধবী । তবে ততটা ক্লোজ না । ওর আগে থেকেই এমন স্বভাব । ছেলেদের ভাঙিয়ে খায় । আমার আবার এসব ভাল লাগেনা । অনেকবার বুঝিয়েছি ওকে, কিন্তু কাজ হয়নি । এবার ওকে শিক্ষা দেবার একটা সুযোগ পেয়ে ছাড়তে পারিনি । আর আপনিও বোকা, গার্লফ্রেন্ড কত জনের সাথে কী করে কিছুই জানেন না ।
.
আমি অপলক তাকিয়ে ছিলাম নাফিয়ার দিকে , কতক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম জানি না । ঘোর ভাঙল নাফিয়ার ডাকে –
– এই যে মিস্টার, এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন ?
– না মানে ভাবছি, কীভাবে এত কিছু করলেন আপনি !
– আপনি বোকা দেখে আপনার কাছে কঠিন মনে হচ্ছে ।
– হতে পারে । আপনি আমার নাম্বার পেলেন কীভাবে ?
– আপনি তো দেখা যায় আসলেই বোকা ! অরুন আমার বান্ধবী, আপনার নাম্বার জোগার করা কি কঠিন কিছু ? ওর ফোনের ডায়াল লিস্ট থেকে চুরি করেছি । আর আজকের ব্যাপারটা ওর ইনবক্স থেকেই জানতে পারি ।
.
আমি যতই শুনছি, ততই অবাক হচ্ছি । বুদ্ধি আছে মেয়েটার । আমি বললাম –
– আপনি তো দেখা যায় ভাল চালাক ! চোরও আছেন !
– কী বললেন ! আমি চোর ! কী চুরি করেছি ?
.
আমি মুচকি হেসে বললাম –
– হ্যাঁ, আপনি চোর । এই তিন দিনে অনেক কিছু চুরি করে ফেলেছেন ।
.
মেয়েটা কিছু না বলে আমার দিকে তাকিয়ে রইল । হয়তো আমাকে বোঝার চেষ্টা করছে । আমি বললাম –
– চুরি করার দরকার কী, মালিক যখন সেধেই দিতে চাচ্ছে !
– তাই !
– হ্যাঁ, তাই ।
.
চেয়ে দেখি নাফিয়া মুচকি মুচকি হাসছে । মনে হয় গ্রীন সিগনাল পেয়ে গেছি । আমি বললাম –
– কী হল, মালিক দিতে চাইলে নেবে ?
– কী ?
– সব ।
– নিতে পারি তবে শর্ত আছে ।
– কী শর্ত ?
– রাস্তায় এখন থেকে কিছু পড়ে থাকলে সেদিকে তাকানো যাবে না ।
– আর কী ?
– কারো উপকার করা যাবেনা । বিশেষ করে সে যদি হয় মেয়ে ।
– আর ?
– আর রিক্সায় চলা যাবেনা, অটোতে চলতে হবে ।
– আর কিছু ?
– না, আপাতত এতেই চলবে । রাজি থাকলে ‘এক’ চাপুন, রাজি না থাকলে ‘দুই’ চাপুন ।
.
আমি হেসে ফেললাম । নাফিয়াও যোগ দিল আমার সাথে । মেয়েটার রস বোধ আছে বলতে হয় । আমি বললাম –
– আচ্ছা, ঐদিন আমার এক হাজার টাকা নিয়ে নিলে কেন ?
– কেন নিয়েছিলাম সেটার ব্যাখ্যা আমার কাছেও নেই । সূত্র তৈরির অদৃশ্য ইশারায় মনের অজান্তে করে ফেলেছিলাম হয়ত । কেন, তোমাকে টাকাটা ফেরত দিতে হবে ?
– না দিলেও চলবে । মালিক তো সব দিতেই চাচ্ছে ।
.
দুজনে কখন ‘আপনি’ থেকে ‘তুমিতে’ নেমে গেছি বুঝতে পারিনি । নাফিয়া মনে হয় ব্যাপারটা লক্ষ করেনি । ভালই লাগছে । যতই মেয়েটাকে জানছি ততই অবাক হচ্ছি । নাফিয়া বলল –
– আচ্ছা, গতকাল ফোনে আমাকে চিনলে কীভাবে ? আর আমার নামই বা জানলে কীভাবে ?
আমি মুচকি হেসে বললাম –
– আমাকে তুমি বোকা বল, তুমি নিজেই তো বোকা ! অরুন তোমার বান্ধবী হলে তোমার নাম নাম জানা কি কোন ব্যাপার ? আর কণ্ঠ শুনেই তোমাকে চিনতে পেরেছি ।
– ওওও, আচ্ছা । আমার কিন্তু আরেকটা নাম আছে । বাসার সবাই ডাকে ।
.
আমি জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে বললাম –
– কী নাম ?
-‘গিনি’ ।
– বাহ্‌ ! সুন্দর নাম তো !
– আচ্ছা বলতো ‘গিনি’ নাম কেন ?
– ছোট বেলায় মনে হয় তোমাকে গিনিপিগের মত দেখতে লাগত ।
.
মেয়েটা কটমট করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । ভীষণ রাগিয়ে দিয়েছি মেয়েটাকে । রাগের চোটে মেয়েটা আঙ্গুল ফোটাচ্ছে । ওকে রাগান্বিত দেখতে আমার ভাল লাগছে । আগুন চোখ নিয়ে দেখছে আমাকে মেয়েটা । আর আমি মুচকি মুচকি হাসছি । রাগ দিয়েই শুরু হোক নাহয় নতুন অধ্যায় ।

লিখেছেনঃ Asif Al Islam

About Kabir Hossain

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …