Home / মনের জানালা / “তিন পাঁকে বাঁধা” পর্ব-২

“তিন পাঁকে বাঁধা” পর্ব-২

tin pake badha(২)
.
শর্মা হাউসের কোণার টেবিলটায় অরুন বসে আছে । আজই প্রথম আমি দশ মিনিট দেরিতে এসেছি আর আজই সে সময় মত এসে আমার আগে বসে আছে । আমি ওর সামনে দরজার দিকে মুখ করে বসলাম । আমি পরিবেশ স্বাভাবিক করার জন্য বললাম –
– আজ এত আগে চলে এসেছ, ব্যাপার কী ?
– একটা কাজ ছিল, তাই আগে বের হয়েছিলাম । তোমার দেরি হল কেন ? তোমার তো কখনো দেরি হয়না !
– আর বলো না, রাস্তায় অনেক জ্যাম । কিন্তু তুমি মুখ অমন করে রেখেছ কেন ? কোন কিছু নিয়ে চিন্তিত ?
– কই, না তো ! বাদ দাও এসব কথা । কি খাবে বল ?
– তুমিতো জান, খাবার নিয়ে আমার কোন বাছবিচার নেই । অর্ডার সবসময় তুমিই কর ।
– তাও ঠিক ।
.
অর্ডার করা হয়ে গেছে । অনেকগুলো খাবারের অর্ডার করা হয়েছে । মেয়েটার এই এক স্বভাব, অনেক খাবারের অর্ডার করবে । খেতে পারবেনা সব, সবগুলো থেকে একটু করে খাবে । তবু করবে । বিল নিয়ে চিন্তা করতে হয়না তাই হয়তো এমন । এদিকে এক হাজার টাকা খোয়া দিয়ে এসেছি, বিলে কুলাবে কিনা তাই ভাবছি ।
.
ওয়েটার খাবার দিয়ে গেছে । এই খাবার কয়জনে খাওয়া যাবে মনে মনে তার হিসাব করছি । অরুন প্রতিটা আইটেম একটু করে খেয়ে আমার দিকে এগিয়ে দিচ্ছে । আমি একটা নিয়েই পরে আছি । আমার আবার স্বভাব, কোন আইটেম পুরোপুরি শেষ না করে অন্যটা ছুঁই না । এত খাবার আমার পক্ষে খাওয়া সম্ভব হয়না । অনেক আইটেম আমার আ-ছোঁয়াই থাকে ।
.
দরজার দিকে তাকিয়ে আমার প্রাণ পাখি খাঁচা ছেড়ে উড়াল দেয়ার জোগাড় । দরজা দিয়ে সেই মেয়েটা ঢুকছে যার নাম্বার আমি একটু আগে নিয়ে এসেছি । বুঝতে পারছিনা এখন আমি কী করব । উঠে যাওয়া কি ঠিক হবে !
.
আমার এই অবস্থা লক্ষ করে অরুন আমার দৃষ্টি অনুসরণ করে দরজার দিকে তাকাল । দুই জন মিষ্টি হেসে ভাব বিনিময় করল । মেয়েটি গিয়ে বসল উল্টো দিকের টেবিলে । অরুন আমার দিকে ফিরে বলল –
– এভাবে ড্যাবড্যাব করে কী দেখছিলে ?
– কী দেখব আবার ! মেয়েটা দেখতে হুবহু আমার চাচাতো বোন মাইশার মত ! তাই আশ্চর্য হয়েছিলাম ।
– মাইশা নামের তোমার চাচাতো বোন আছে জানতাম না তো !
– আমার সব কিছুই তোমার জানা নাকি !
– তাও ঠিক । সব কিছু কি আর আমি জানি !
– হুম, তাই । আচ্ছা, তুমি চেন নাকি মেয়েটাকে ?
– চিনব না কেন, ও তো আমার বান্ধবী নাফিয়া ।
– ওওওও, তাই বল ।
.
এতক্ষণে জানলাম মেয়েটার নাম নাফিয়া । আমাকে তার চোখে না পরার কথা না । যদি এদিকে চলে আসে ! তার ওপর আবার অরুনের বান্ধবী । অরুনকে এসে কিছু বললে আমাদের সম্পর্কে ঝামেলা হতে পারে । আমি ভাবছি অন্য কথা । অরুন রাগ করে চলে গেলে বিল দিতে পারবনা । এক হাজার টাকা হারিয়ে এসেছি, বিলের পুরো টাকা হবেনা আমার কাছে । ঝামেলায় পরতে হবে ।
.
পকেট থেকে মোবাইল বের করে সময় দেখার ভান করে কোন মতে একটা ফাঁকা মেসেজ পাঠিয়ে দিলাম জানের বন্ধু রাশেদকে । তারপর আবার মোবাইল পকেটে রেখে দিলাম । বন্ধু আমার মেসেজ দেখলে কল না করুক, অন্তত একটা ফিরতি মেসেজ দিবে । এটাই এখন ভরসা ।
.
একটু পরেই তার ফল পেলাম । টুং টুং করে আমার ফোন বেজে উঠল । মোবাইলটা বের করে চোখের সামনে ধরে আমি উঠে দাঁড়ালাম ।
– অরুন, আমার বন্ধু তানভীর এক্সিডেন্ট করেছে । এক্ষুনি আমাকে যেতে হবে । আমি গেলাম, পরে কথা হবে ।
.
অরুনকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আমি বেরিয়ে পরলাম । বিলের ঝামেলা এড়ানো গেল । আজ বিল অরুনই দিক । আপাতত ফোন বন্ধ রাখতে হবে । দুই বান্ধবী আলাপে আলাপে সব বলে ফেলতে পারে । ওদিকে যা হয় হোক । পরেকার ঝামেলা পরে দেখা যাবে ।

(৩)
গতকাল অরুনের সাথে শর্মা হাউসে গিয়ে বিপদে পরেছিলাম । কোন মতে বেঁচে এসেছি । কাল থেকে আমার ফোন অফ । কতক্ষণ আর এভাবে ফোন বন্ধ করে থাকা যায় ! আজ ফোন অন করলাম । দুইবার ফোন আর দুইটা মেসেজ এসেছিল । মিসকল এলার্ট চালু দেখে ফোনের ব্যাপারটা জানলাম । ফোন, মেসেজ দুটোই করেছিল অরুন । একটা মেসেজে লেখা, “তোমার বন্ধুর খবর কী ?” আরেকটায় লেখা, “কি ব্যাপার, কোথায় ডুব দিলে ?”
.
তারমানে নাফিয়া অরুনকে কিছু বলেনি । অবশ্য এখনি কিছু বলা যাবেনা, ওকে দিয়ে বিশ্বাস নেই । হয়তো সামনাসামনি ধরার জন্য এখনি কিছু বলছেনা । কয়েকদিন ওর কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে । যদি সব জেনে থাকে তবে সময় যত গড়াবে, রাগ আস্তে আস্তে কমে আসবে ।
.
রাত দশটার দিকে একটা আননোন নাম্বার থেকে ফোন আসল । ধরবনা ধরবনা করেও ফোনটা রিসিভ করে কানে নিলাম । ওপাশ থেকে একটা নারী কণ্ঠ বলল –
– হ্যালো…
.
ঘটনা কী, তা বোঝার জন্য আমি চুপ করে রইলাম ।
– কি হল, কথা বলছেন না কেন ? আমি যদি কোথাও ভুল না করে থাকি তাহলে আপনি ‘আলিফ’ তাই তো ?
– বলুন, কীভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি ?
– আপাতত কোন সাহায্য করতে হবেনা । তারপর কেমন আছেন আলিফ সাহেব ?
– আমি ভাল আছি নাফিয়া ম্যাডাম । আপনি ভাল আছেন ?
.
ফোনের ওপাশে মেয়েটার মুখের এক্সপ্রেসন দেখতে পাচ্ছিনা । অনুমান করে নিতে হচ্ছে । মেয়েটা মনে হয় সামান্য হলেও আশ্চর্য হয়েছে । সামনাসামনি থাকলে ভাল বোঝা যেত ।
– চিনতে পেরেছেন তাহলে । নামও জেনে ফেলেছেন !
– চিনবো না ! আপনাকে ভোলা যায় ! আর নাম জানা কি কঠিন কিছু ?
– হ্যা, তাও ঠিক । আচ্ছা আলিফ সাহেব, কাল সকাল দশটায় শর্মা হাউসে আসতে পারবেন ?
– কেন, বলুন তো ?
– না, কোন কারন নেই । ইচ্ছা হলে আসতে পারেন । রাখি, বাই ।
.
মেয়েটা ফোন রেখে দিল । কেমন যেন গন্ধ পাচ্ছি । কাল যে কী ঘটতে যাচ্ছে তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানে । তবে আমি যাব । এর শেষ না দেখে আমি ছাড়ছিনা ।

লিখেছেনঃ Asif Al Islam

About Kabir Hossain

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …