Home / মনের জানালা / “তিন পাঁকে বাঁধা” পর্ব-১

“তিন পাঁকে বাঁধা” পর্ব-১

tin pake badha(১)
আজকে আমার অরুনের সাথে দেখা করার ডেট । সকাল এগারোটায় দেখা করার কথা শর্মা হাউসে । এখন দশটা বাজে । আমি বেরিয়ে পরেছি । যদিও আমার এখান থেকে যেতে ২০ মিনিটের মত লাগে, তবুও আমি সব সময় আগেই বের হই । আগে গিয়ে বসে থাকতে আমার ভাল লাগে । বসে বসে আশেপাশের মানুষদের কান্ড কারখানা দেখার আলাদা মজা আছে । তাছাড়া রাস্তায় হয়তো পেয়ে যেতে পারি আকর্ষণীয় কিছু । এ জন্য আমি সব সময় আমি আগে বের হই ।
.
ঢাকায় না থাকলেও যানজট আমাদের শহরকেও ছুঁয়েছে । ঢাকার মত রাস্তায় প্রাইভেট কারের সারি দাড়িয়ে না থাকলেও প্রায়ই অটো আর রিক্সার সারি দাড়িয়ে পরে রাস্তায় । নড়াচড়ার আর নাম নেই ।
.
২০ মিনিটের রাস্তা । ৩০ মিনিট যাবত আমি রিক্সায় বসে আছি । প্রতি মিনিটে চার পাঁচ কদম করে রিক্সা আগাচ্ছে । রোদ এখনো ততটা তেঁতে উঠেনি । আমি আয়েশ করে বসে আশেপাশের লোকজন দেখছি । এখন একটা সিগারেট হলে বেশ হত । কিন্তু এখন সিগারেট খাওয়া যাবেনা । অরুনের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি, সিগারেটের গন্ধ পেলে ঝামেলা করবে । মেয়েটা সবসময় বেশি টাইট দিয়ে রাখার চেষ্টা করে ।
.
পাশের রিক্সায় এক মেয়ে এক পিচ্চিকে নিয়ে বসে আছে । রিক্সার হুড উঠানো, আমি শুধু পিচ্চিকে দেখতে পাচ্ছি । একটু আগে ফুটপাত দিয়ে এক হাওয়াই মিঠাই ওয়ালা চলে গেল । পিচ্চিকে মেয়েটি ধরে রাখতে পারছেনা । বারবার কোল থেকে পিছলে নেমে যেতে চাইছে । আর মেয়েটি টেনে তোলার বৃথা চেষ্টা করছে । বেচারি পিচ্চিটাকে নিয়ে ভাল ঝামেলায় পরেছে । আমার ওদের এই দৃশ্য দেখতে মজাই লাগছে । আমি কিছুক্ষণ এদের কারবার দেখে অন্যদিকে মাথা ঘোরালাম ।
.
ইতিমধ্যে রিক্সা ১০-১২ কদম এগিয়েছে । আমার সামনে ডাইনে রিক্সায় একটি মেয়ে বসে আছে । মেয়েরা সাধারণত রিক্সায় হুড উঠিয়ে বসে । কিন্তু মেয়েটির রিক্সার হুড নামানো । আমি তাকিয়ে রইলাম মেয়েটির দিকে । মেয়েটিও দুই পলক তাকাল আমার দিকে । মাঝে মাঝে বাতাস এসে তার খোলা চুল উড়ছে । চোখে সানগ্লাস, ঠোঁটে গোলাপি রঙের লিপস্টিক । আমার বুকের বাম দিকে মোচড় দিয়ে উঠল ।
.
রিক্সাটি আমার রিক্সা ক্রস করে কয়েক কদম এগিয়ে গেল ।
.
আমি আর থাকতে পারলাম না । নেমে পরলাম রিক্সা থেকে । মেয়েটির রিক্সা ফলো করে হাঁটতে লাগলাম । হাঁটছি আর কীভাবে কি করা যায় তা নিয়ে ভাবছি । ভাবতে ভাবতে মানিব্যাগ থেকে এক হাজার টাকার একটা নোট বের করে মেয়েটির দিকে এগিয়ে গেলাম । গিয়ে বললাম-
– এই যে, হ্যালো আপু…
– জ্বি, আমাকে বলছেন ?
– হ্যা, আপনাকেই বলছি ।
-বলুন ?
– আপনি অনেক সুন্দর ।
.
মেয়েটি বিরক্তি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল-
– এটা বলার জন্য ডাক দিয়েছেন ?
আমি মুচকি হেসে হাতের টাকা দেখিয়ে বললাম-
– আপনার টাকা পরেছিল, সে জন্য ডাক দিয়েছি ।
মেয়েটি কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে হাত বাড়িয়ে বলল-
– দিন ।
.
আমি কিছু না বলে টাকাটা দিয়ে দিলাম । বুঝতে পারিনি যে মেয়েটা টাকাটা নিয়ে নেবে । তাহলে ছোট নোট বের করতাম ।
.
মেয়েটার রিক্সা কিছুটা এগিয়ে গেল । সামান্য ধন্যবাদ পর্যন্ত না দিয়ে মেয়েটা আমার এক হাজার টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছে । এখন আমার টাকাটার জন্য কষ্ট হচ্ছে । গতকালই এক বন্ধুর কাছ থেকে ধার করেছি । .
মেয়েটার মায়ায়ই হোক আর টাকার মায়ায়ই হোক, আমি আবার মেয়েটাকে ফলো করে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে লাগলাম । জ্যামের জন্য রিক্সা খুব আস্তে আস্তে আগাচ্ছে । এত আস্তে হাঁটতে আমার অসুবিধা হচ্ছে । বারবার পেছন থেকে ধাক্কা খাচ্ছি ।
.
লক্ষ করলাম রিক্সাটি আস্তে আস্তে ফুটপাতের দিকে সরে আসছে । এক সময় আমার পাশে এসে থামল । আমিও হাঁটা থামিয়ে দাড়িয়ে পরলাম । অন্যদিকে তাকিয়ে বিল্ডিং দেখতে লাগলাম । মেয়েটি আমাকে ডাক দিল –
– এইযে হ্যালো, এদিকে…
– জ্বি, আমাকে বলছেন ?
– আপনি দেখছি কখন থেকে আমাকে ফলো করছেন । ব্যাপার কি বলুন তো ?
.
আমি আশ্চর্য হবার ভান করে বললাম –
– কই, না তো !
– কিছু বলবেন ?
.
আমি আমতা আমতা করে বলে ফেললাম –
– আপনার ফোন নাম্বার দেয়া যাবে ?
– কেন, বলুন তো ?
– না মানে আবার যদি কিছু পাই তাহলে পৌছে দিতাম ।
.
মেয়েটা রাস্তায় এত লোকের মাঝে হো হো করে হেসে দিল । মানুষজন কেমন চোখে আমাদের দুই জনের দিকে তাকাচ্ছে । কোন মেয়ে এভাবে হাসতে পারে আমার জানা ছিলনা । আমি অপ্রস্তুত হয়ে বললাম –
– স্যরি ।
মেয়েটি হাসি থামিয়ে বলল –
– আচ্ছা ঠিক আছে, লিখুন…
.
মেয়েটি নাম্বার বলল । আমি মোবাইল বের করে তুলে নিলাম । জ্যাম ততক্ষণে হালকা হয়ে এসেছে । মেয়েটি রিক্সা নিয়ে আমাকে পাস করে চলে গেল । আমি পেছন থেকে যতক্ষণ দেখা যায়, রিক্সার দিকে তাকিয়ে রইলাম । মেয়েটি এত সহজে নাম্বার দিয়ে দেবে ভাবিনি । ভুল নাম্বার দিতে পারে, পরে ফোন দিয়ে নিশ্চিত হতে হবে । এখন হাতে আর সময় নেই । এগারোটা বেজে গেছে । এগারোটায় অরুনের সাথে দেখা করার কথা । বাকী পথটুকু হেঁটে যেতে দশ মিনিটের বেশি লাগার কথা না । আমি হেঁটেই রওনা দিলাম ।

লিখেছেনঃ Asif Al Islam

About Kabir Hossain

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …