Home / মনের জানালা / “আড়ালের গল্প” পর্ব-২

“আড়ালের গল্প” পর্ব-২

araler golpo৩.

“আকাশলীনা” জীবনানন্দের কবিতার নামের এই রেস্টুরেন্টটি নবনীতার ভীষণ পছন্দ।অনিকেত আর নবনীতা মুখোমুখি বসে আছে।আজ নবনীতাকে বেশ হাসি খুশী দেখাচ্ছে।অনিকেতের চোখের বিস্তৃত দৃষ্টি তখন ক্রমাগত ,নবনীতার উপরে ঘুরছে। মেয়েটা এত সুন্দর কেন কে জানে!!চোখে এক ফোটা কাজল নেই,কপালটাও খালি,সেখানে ছোট্র টিপটার অবস্থান যেন একপ্রকার নিযিদ্ধই বলা চলে।চুলের হাত খোপা টা কাধেঁর উপর অবলীলায় লুটাচ্ছে।তারপরও এই মায়াময়ীর উপর থেকে দৃষ্টি সরানোর মত ক্ষমতা নেই অনিকেতের।

-ইশ!বড্ড ভুল হয়ে গেছে!
-কেন?কি হয়েছে? ভ্রু জোড়া সামান্য কুঞ্চিত করে জিজ্ঞাসা করে নবনীতা
-আজ আমার অপরাজিতা গাছটিতে ফুল ফুটেছে।
-হুম,তাতে কি হয়েছে?
-অপরাজিতা ২টি তোমার খোঁপায় লাগিয়ে দেওয়া হলনা।তাহলে বুঝতাম কে বেশি সুন্দর। নবনীতা লজ্জায় লাল হয়ে উঠে।
অনিকেত নবনীতার হাতে হাত রাখে।তারপর আস্তে করে বলে
-নবনী,,বাবা দেশে ফিরেছে কাল।এমনিতেও বাবা খুব ব্যস্ত।তবুও আজ শুধু তোমার জন্য বাবা ফ্রি হয়েছেন।একবার দেখা করবে আজ?
-আজই?? নবনীতা চমকে ওঠে
-কিন্তু অনি,আমার কিছু কথা বলার ছিল তোমাকে
-তোমার কি বিয়ের ব্যাপারে আপত্তি আছে?
-আরে বাবা,তা নয়! কিন্তু অন্য একটা ব্যাপারে….
– তাহলে অন্যকথা আজ থাক।আজ তুমি চল…প্লীজ…
-অনি একটু বোঝার চেষ্টা করো,আমি…
-আর কোন না নয় নবনী,বাবা কে আমি বলে এসেছি।প্লিজ চল…
নবনীতা আর না করতে পারেনা।উঠে দাড়ায় অনিকেতের সাথে।কিন্তু বুকের ভেতর কিছু একটা ক্রমাগত হাতুড়ি পিটিয়ে যায় তুমুল জোরে।

৪.

কৃষ্ণাদির ড্রয়িংরুমে বসে আছে অরুনিমা। -অরু আমার কথা শোন,এতে তোর কোন অসুবিধায় হবে না।কয়েক ঘন্টার ব্যাপার তো মাত্র।
-কৃষ্ণাদি, আমি পারবো না
-উফ!উনি আমাদের অনেক পুরানো ক্লায়েন্ট।উনার ডোনেশানেই তো বুটিক হাউজটা এত্ত বড় করতে পেরেছি।বেশ ভদ্রলোক তিনি,ইন্ড্রাস্ট্রিয়ান হিসেবে দেশে বিদেশে নাম ডাক তার।উনি খুশি হলে আমাদের কত লাভ হবে জানিস?
– ভদ্রলোক হলে আর…না!না! আমি পারবো না কৃষ্ণাদি।
-তাহলে তুই তোর রাস্তা দেখ বাপু।টাকা তো আর গাছের মোওয়া নয় যে চাইলেই পাবি।আর কাল থেকে আমার বুটিক হাউজেও তোর বসার দরকার নেই।
-কৃষ্ণাদি…. -আমি তোকে যা বলার বলেছি,বাকি টা তোর ব্যাপার…
অরূনিমার গলা দিয়ে কান্না দলা পাকিয়ে ওঠে।বার বার মা-ছোট ভাইটার মুখ ভেসে ওঠে চোখের সামনে।বাবার বড্ড ইচ্ছে ছিল তনয় কে ডাক্তারি পড়াবে।বাবা চলে যাওয়ার পর সে দায়িত্ব তো তারই।আজ মাত্র ৪০হাজার টাকার জন্য কি তনয় পরীক্ষা দিতে পারবেনা?কিন্তূ কোথায় পাবে এত টাকা? বুকটা হাহাকার করে ওঠে অরূনিমার।আস্তে করে বলে ওঠে,

-আমি রাজি কৃষ্ণাদি…

লিখেছেনঃ সাবিহা বিনতে রইস

About Ashiq Mahmud

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …