Home / মনের জানালা / “আড়ালের গল্প” পর্ব-১

“আড়ালের গল্প” পর্ব-১

araler golpo১.
আয়নার সামনে দাড়িয়ে অপলক ভাবে নিজের দিকে তাকিয়ে আছে মেয়েটি।ঠোটের বা পাশ টা বিশ্রী ভাবে ফুলে উঠেছে।গলায় হালকা একটা ক্ষতের চিহ্ন।মেয়েটি ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে বিছানায় পড়ে থাকা মধ্যবয়স্ক লোমশ শরীরটা একবার দেখেই চোখ ফিরিয়ে নেয়।তার পুরো শরীর গুলিয়ে বমি আসতে চায়।দাতে দাত চেপে সহ্য করার বৃথা চেষ্টা করে একবার।পরক্ষনেই ওয়াসরুমের দরজা খুলে বেসিনে হড়হড় করে বমি করে ফেলে।পরিশ্রান্ত মুখটাই বার বার ঠান্ডা পানির ঝাপটা দেয়।তারপর চুল টা কোনরকম ঠিক করে বাইরে বের হওয়ার প্রস্তুতি নেয়।
-অরুনিমা,চলে যাচ্ছ?
লোকটি জেগে উঠেছে।
-হুম।একটা মিষ্টি হাসি দেয় মেয়েটি।
-তোমার কন্ট্যাক্ট নাম্বার টা কি দেওয়া যাবে? এরপর দরকারে সরাসরি তোমার সাথে যোগাযোগ করবো।এতে অবশ্য তোমারই লাভ ডার্লিং,কাউকে তোমার টাকার ভাগ দিতে হবেনা।

কথাটি বলতে বলতে লোকটি উঠে এসে অশ্লীল ভাবে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে হাতের মধ্য মোটা চকচকে নতুন টাকার বান্ডিল ধরিয়ে দেয়। মেয়েটি মিষ্টি হেসে রির্টান কিস দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তার চিত্কার দিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে হয়।তবে হাতের মধ্যে শক্ত টাকার বান্ডিলটি কান্না রোধ করে দাড়ায়।নিজেকে সামলে নেয় মেয়েটি।কেবল ২ফোটা অশ্রু চিবুক বেয়ে বিলাসবহুল হোটেল করিডরের চকচকে মেঝেতে অবলীলায় লুটিয়ে পড়ে।

২.

কলিংবেল টা পর পর কয়েকবার বেজে উঠেছে। নবনীতার উঠতে ইচ্ছে করছে না।জানালা গলে ঢুকে পড়া শরত্ এর সিগ্ধ রোদ তাকে স্নান করিয়ে দিচ্ছে অনেকক্ষন ধরেই।আজ ২মাসপর এত বেলা পর্যন্ত ঘুমাচ্ছে সে।গত ২টি মাস পুরো পৃথিবীকে একপাশে সরিয়ে রেখে শুধু পড়াশুনায় করেছে। কাল চতুর্থবর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। অনেকদিন পর ছুটি পেয়ে ঘুমহীন চোখ দুটো যেন গত ৬০দিনের ঘাটতিকে কাটিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। আবার সেই বিশ্রী ককর্শ কন্ঠে বেজে ওঠে কলিংবেল।নবনীতা আলস্য ছেড়ে উঠে আসে। দরজা খুলতেই বাসার দারোয়ান হাতে একটি বড়সর প্যাকেট ধরিয়ে বিদায় নেয়। প্যাকেটের গায়ে এক কোনে ছোট্র করে ‘অনি’ লেখা টা হুট করেই সব ক্লান্তিকে সরিয়ে ফেলে। সুন্দর ফুল তোলা ঝকমকে র্যাপিং করা প্যাকেটটি ছিড়তে ইচ্ছে হয়না নবনীতার।ও জানে এর ভেতর কি আছে।

আজ অনিকেতের সাথে দেখা করার দিন।গত ২ মাসে মাত্র ৩বার নবনীতার সাথে অনিকেতের দেখা হয়েছে,সে দেখাও মিনিট কয়েকের জন্য।নবনীতা নিজেই বলেছিলো,পরীক্ষার ২টো মাস সে তার মত থাকতে চায়,তারপর ভাবা যাবে সবকিছু। অনিকেতও মেনে নিয়েছিলো তার কথা। পরীক্ষা শেষে এখন নবনীতার অফুরন্ত সময়। র্যাপিং করা প্যাকেটটি সযত্নে খুলতেই বের হয়ে আসে আকাশরঙা জামদানী শাড়িটা। অনিকেত কে কথায় কথায় একবার বলেছিলো নবনীতা,জামদানী তার ভীষণ প্রিয়।সেটি মনে রেখেই অনি শাড়ীটা পাঠিয়েছে।শাড়ীটি ছুঁয়ে দেখতেই একটা মুগ্ধ করা ভাল লাগা ভর করে নবনীতার উপরে,সেই ভাল লাগার সিগ্ধতায় আয়নার মত চোখের পর্দার ভেসে ওঠে অনিকেতের মুখ টা।

অনিকেতের সাথে নবনীতা প্রথম দেখা হয়েছিল হেমন্তের এক পড়ন্ত বিকেলে।নবনীতা তখন তার ডিপার্টমেন্টের কালচারাল প্রোগ্রামে গান গাইতে মগ্ন।আর অনিকেত শখের ফটোগ্রাফার।এক বন্ধুর অনুরোধে সেই প্রোগ্রামে ছবি তুলতে এসে হুট করেই ক্যামেরা লেন্সের ফোকাসটা স্থির হয়ে যায় নবনীতার উপর।তারপর একটু একটু আলাপ-চারিতা…পরিচয় পর্ব।অতঃপর মন দেওয়া নেওয়াটাও ঘটে যায় অগোচরেই।অনিকেত নবনীতার বছর দুয়েকের সিনিয়র হওয়া ভার্সিটি পাস করেছে তার আগেই। নবনীতা জানে এবার অনিকেতের সাথে দেখা হলেই বিয়ের কথাটি বলবে সে।আর সে কারণেই নবনীতার বেশকিছু সময়ের দরকার ছিল।কথাটি মনে করেই হালকা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নবনীতা।খুব সাবলীল নদীর মত বেয়ে চলা তার জীবনেও ঢেউয়ের মত কিছু কিন্তু যে লুকিয়ে আছে তা অনিকেতের সম্পূর্ন অজানা।

লিখেছেনঃ সাবিহা বিনতে রইস

About Ashiq Mahmud

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …