Home / মনের জানালা / মুগ্ধতা

মুগ্ধতা

mugdota“আপানি ভিজে যাচ্ছেন,যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমার ছাতা শেয়ার করতে পারেন।“
কথাটা বলা ঠিক হবে কিনা তা প্রায় দেড় মিনিট চিন্তা করেছিলাম।অনেক কষ্টে শেষ পর্যন্ত বলেই দিলাম।এখন চিন্তা হচ্ছে যদি না আসে তাহলে এতগুলো মানুষের সামনে লজ্জায় পড়ে যাব।অন্যদিকে তাকিয়ে যখন নানা কথা চিন্তা করছি,খুব মিষ্টি একটা পারফিউম এর ঘ্রাণ পেলাম।চেয়ে দেখি সেই মেয়েটা পাশে এসে দাঁড়িয়েছে!সরকার উত্তরা আজমপুরে কোন যাত্রী ছাউনি দেয় নি সে কারনে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতায় মন ভরে উঠল।

মনে মনে ঠিক করছি কি বলা যায় বা আদৌ কিছু বলা উচিৎ হবে কিনা।তখনি পাশ থেকে শুনলাম,আমি যাই এবং একটা সিএনজি করে উঠে চলে গেল।মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আমি হতভম্ব। তাকিয়ে রইলাম,সে চলে যাচ্ছে এবং অবাক করা ব্যাপার তার চলে যাওয়ার পর আমি মিনিট পনের সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিলাম!

মুড অফ করে চলে আসার পর ডিসিশান নিলাম কাল আবার যাব এবং কথা বলব।কি বলব জানিনা তবে কিছু একটা বলতেই হবে।কিন্তু কিসের কি?দেখা পেলাম না।তারপর দিন আবার এবং আবার।প্রতিদিন ই মন খারাপ করে বাসায় ফেরা।এ এক অদ্ভুত যন্ত্রণা!!
কি করা যায় ভেবেই পাচ্ছিনা।

আশেপাশে যত ভার্সিটি আছে সবগুলাতে খোঁজ নিব বলে মনস্থির করলাম।নিজে নিয়মিত ক্লাসে না গেলেও আশেপাশের সব ভার্সিটি তে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে যাচ্ছি।পেলাম না কোথাও!

গেল কোথায়?দেড় কোটি মানুষের এই শহরে এক জন মানুষকে যে খুঁজে পাওয়া সম্ভব না- সে কথা আমার মাথায় কখনোই আসলো না।বরং এ কথা ভাবতে ভালো লাগত অবশ্যই তার দেখা আমি পাব এবং পেতেই হবে।

দেখা পেলাম তার শেষ পর্যন্ত।এবং এভাবে পাব কল্পনাও করিনি।ট্রেনে করে রাজশাহী যাচ্ছি এক বন্ধুর বোনের বিয়েতে।দুটা বগির মাঝখানে যে জায়গা থাকে সেখানে দাঁড়িয়ে বন্ধুরা মিলে সিগারেট খাচ্ছি।হঠাৎ চোখে বিদ্যুৎ চমকে গেল!এক অপ্সরী যাচ্ছে এবং এই অপ্সরীটি হল সেই মেয়েটি যাকে আমি পাগলের মত প্রতিনিয়ত খুঁজে বেড়াচ্ছি।বুকে বিশাল সাহস সঞ্চয় করে যখন সে আরেকটি বগি পার হতে যাচ্ছে তখন বললাম—
-এক্সকিউজ মি।চিনতে পারছেন?
-জ্বি,পারছি।একটু আগে দেখলাম আপনি ফ্রেন্ডদের সাথে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছেন।নাকি আপনি দুই মাস আগে ঘটে যাওয়া সেই সন্ধ্যার কথা বলতে চাচ্ছেন যে সন্ধ্যায় আমাকে সাহায্য করেছিলেন।
-যাক মনে আছে আপনার!আমি মনে করলাম হয়ত ভুলে গেছেন।
-না আমি ভুলিনি।আসলে সে দিন খুব তাড়া ছিল আমার।ল্যাব-এইডে গিয়েছিলাম।খুবি ঝামেলায় ছিলাম।আপনাকে সাধারণ ধন্যবাদ টুকুও দিতে ভুলে গিয়েছিলাম।সেদিনের পর আরও দুইদিন রিপোর্ট সংক্রান্ত ব্যাপারে যেতে হয়েছিল।চিন্তা করেছিলাম আপনাকে দেখলে পাওনা ধন্যবাদ টা দিয়ে দিব কিন্তু আপনাকে দেখিনি অবশ্য দেখা পাওয়ার কথাও ছিল না।

আমি মহা উল্লাসে বলে ফেললাম,

-তাই নাকি??!!!আমি ও আপনাকে অনেক খুঁজেছি।আশে পাশে যত ভার্সিটি আছে সবগুলো তে খোঁজ নিয়েছি।কিন্তু আপনার দেখা পাইনি।
আচ্ছা, আমি কি তখন খুব বোকার মত কিছু বলেছি?!আমার কথা শুনে হেসে ফেলল এবং হাসতে হাসতেই বলল
-কেন?!!
-না মানে ইয়ে ধন্যবাদ নেয়ার জন্য।আচ্ছা থাকুক ঐ কথা।শুনেছি এই ট্রেনের চা নাকি অনেক ভালো।আমি যদি আপনাকে আমার সাথে চা খেতে বলি তাহলে কি রাজি হবেন?
-আপনি কি চা অফার করছেন নাকি অফার করার অনুমতি চাচ্ছেন?
-দুটোই।
-একসাথে চা খেতে বলতে দু মাস সময় লাগল?!!!!
-আচ্ছা আর কখন ও কোন বিষয়ে এত সময় নিব না।কথা দিলাম।ও হ্যাঁ ভালো কথা,তোমার নামটাই তো জানা হল না,কি নাম তোমার?
এবার শব্দ করে হেসে উঠল।খিল খিল শব্দের সে হাসি,মনে হল এক সঙ্গে একগোছা কাঁচের চুড়ি বেজে উঠেছে।মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইলাম তার হাসির দিকে,যে হাসি এখন প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে চলেছে আমায়…………

লিখেছেনঃ Arif Adnan

About Aurthohin

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …