Home / মনের জানালা / “ভালবাসার অনুরণন” পর্ব-২

“ভালবাসার অনুরণন” পর্ব-২

chokher bristyজাহিদ ভাই এর কথা…

সানজু যে প্রতিটা বিকালে জানালা দিয়ে আমাকে দেখত তা কখনো টের পাইনি। টাইফয়েডের জন্য তিন সপ্তাহ পর যেদিন ফিরলাম, সেইদিনই দেখলাম একটি মেয়ে অপলক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । কেমন যেন অদ্ভুত ভাললাগায় মনটা ভরে গেল। এরপর প্রতিদিনই মেয়েটাকে হাঁটতে দেখতাম। প্রতিদিনই ভাবতাম ওর সাথে কথা বলব, কিন্তু সাহসে কুলাতো না। একদিন মরিয়া হয়ে কন্টিনেন্টাল কুরিয়ারের মজিদ ভাইকে ১০০ টাকা ঘুষ দিয়ে সানজুর কুরিয়ারটা দিতে গেলাম। ওকে এবারও কিছু বলতে পারলাম না। কোনমতে মোবাইল নম্বর দিয়ে পালিয়ে এলাম। এরপরের একটা সপ্তাহ যেন জাহান্নামে কাটালাম। মোবাইল এর প্রতিটা কল এলেই চমকে উঠতাম, এই বুঝি সানজুর কল এল। ৯ দিন পর এক বিকালে ওর কল পেলাম। এরপর আর কি বলব, বলা যায় স্বর্গীয় দেড় বছর কাটালাম। কিন্তু আমাকে চুরমার করে দিলেন সানজুর বাবা। একরোখা মানুষটা আমাদের স্বর্গীয় প্রেমকে নিজ হাতে গলা টিপে মারলেন। সানজু বলেছিল পালিয়ে বিয়ে করতে কিন্তু আমি রাজি হইনি। অযথা দুঃখ বাড়িয়ে লাভ কি। তাছাড়া এরকম বিয়েতে আমার পরিবারও রাজি ছিল না। এখনও মাছ ধরি তবে সানজুর বাসার কাছে না। মাঝে মাঝে গভীর রাতে সানজুর বাসার সামনে দাড়িয়ে আমার ভালবাসার মানুষের মুখটা কল্পনা করি। কল্পনা করে বুঝতে চেষ্টা করি ভালবাসার মানুষটা কেমন আছে…

আমার কথা..
এই কথাগুলো ২০০৮ এর আগের। জাহিদভাই এখন একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মের CEO হিসাবে আছেন। তার জন্য বিয়ের পাত্রী খোজার দায়িত্ব পড়ল আমাদের উপর। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারির কোন একটা বিকালে জাহিদভাই আমাকে আর রাতুলকে ডেকে বললেন আজ ওনাকে পাত্রীপক্ষ অফিসেই দেখতে আসবে। বিকালে পাত্রিপক্ষের যে মুরুব্বী আসলেন তাকে দেখার জন্য জাহিদভাই প্রস্তুত ছিলেন না। স্বয়ং সানজু আপুর বাবা!!! সম্ভবত উনি জাহিদভাইকে আগে দেখেননি, আর দেখলেও চুল ছেঁটে ফেলায় জাহিদভাইকে চেনেন নাই। সবদিক বিবেচনা করলে জাহিদভাই এখন সত্যিকার যোগ্য পাত্র। উনি জাহিদভাইকে পছন্দ করলেন। আসলে এটা ছিল আমার আর রাতুলের প্ল্যান। জাহিদভাই অবশ্য কিছুই জানতেন না। সবচেয়ে মজা হল যেদিন জাহিদভাই পাত্রি দেখতে গেল। আমি অবশ্য সানজুআপুকে আগেই জানিয়ে রেখেছিলাম, যাতে কোন ঝামেলা না হয়। বিশ্বাস করুন বিয়ের আগ পর্যন্ত আমরা চরম টেনশনে ছিলাম, কখন কি হয়ে যায়। বিষয়টা গাঁজাখুরি মনে হতে পারে, কিন্তু ব্যাপারটা সত্যি। ২০১০ সালের ১৯মার্চের রাতে আমাদের সব টেনশন নিভিয়ে দিয়ে একটি শ্বেতসুভ্র ভালবাসা বিয়েতে রুপ নিল।

শেষ কথা…
এখনো ধানমণ্ডির জাহাজবাড়ির সামনে হাঁটতে গেলে প্রায়ই জাহিদভাই ও সানজুআপুকে পা ঝুলিয়ে লেকের পারে বসে থাকতে দেখা যায়। দেখলেই মনে হবে এরা যেন একে অপরের জন্য সৃষ্টি। অদ্ভুত ভাললাগায় মনটা ভরে যাবে আপনার। তখন মনে হবে ভালবাসা আসলেই মহান….. ভালবাসা আসলেই পবিত্র…

(এই দম্পতির জন্য আপনারা ভাল করে দোয়া করবেন।কারন তারা আগামী ২০শে ডিসেম্বর একজন রাজপুত্রকে এই দুনিয়ায় আনতে যাচ্ছে। রাজপুত্রের নাম ঠিক করার দায়িত্ব কিন্তু আপনাদের !!!!)

লিখেছেনঃ Mahmud hasan

About Aurthohin

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …