Home / অন্যান্য / ব্যবসা বাণিজ্য

ব্যবসা বাণিজ্য

পর্ব ১ঃ
টাঙ্গাইল শাড়িঃ
tat shilpo

‘‘নদীচর খাল-বিল, গজারীর বন
টাঙ্গাইল শাড়ি তার গরবের ধন।’’

প্রকৃতপক্ষে টাঙ্গাইল শাড়ি জেলার গর্বের বস্ত্ত। টাঙ্গাইলের শাড়ির কদর দেশ জোড়া। এক সময় বাংলাদেশের খ্যাতি ও গৌরব ছিল মসলিন এবং জামদানিরজন্য। তন্মধ্যে জামদানি টিকে থাকলেও মসলিন শুধু এখন ইতিহাসের সামগ্রী। তবে মসলিন ও জামদানির পর বাংলাদেশের বস্ত্র খাতে টাঙ্গাইল শাড়ি নতুনমাত্রা যোগ করতে সক্ষম হয়েছে। টাঙ্গাইল শাড়ির নক্সা, বুনন ও রঙের ক্ষেত্রে রয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। টাঙ্গাইল শাড়ি আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এমনকি ইউরোপ, আমেরিকা এবং জাপানেও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং করছে। উৎপাদনের সাথে জড়িত শ্রমিক তাঁতিদের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী টাঙ্গাইল জেলার ১২টি থানার মোট ৩৪,৬৭৮টি তাঁতে বর্তমানে প্রায় ৭৬ হাজার তাঁতি টাঙ্গাইল শাড়ি উৎপাদনের কাজে জড়িত রয়েছে। উল্লেখিত তাঁতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার তাঁত বন্ধ রয়েছে।

টাঙ্গাইল শাড়ির সাথে সংশ্লিষ্ট তাঁতিগণের প্রায় কারোরই কোন পেশাগত প্রশিক্ষণ নেই। তা সত্ত্বেও শাড়ির বুননের ক্ষেত্রে এদের দক্ষতা ও নৈপূণ্য রীতিমতো বিস্ময়কর। টাঙ্গাইল শাড়ির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এর সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থার অনুপস্থিতি। বাজারে এ-শাড়ির যথেষ্ট চাহিদা থাকলেও বিপণন ব্যবস্থাটি মহাজনি চক্রের হাতে বন্দি। মসলিনের প্রায় সমতুল্য সূক্ষ্ম ও উন্নত ধরণের শাড়ি এখনও টাঙ্গাইলের শিল্পীরা তৈরি করতে পারেন। টাঙ্গাইলের হিন্দু তাঁতিদের মৌলিক উপাধি বসাক। বাজিতপুর, নলশোধা, পাথরাইল গ্রামে এরা সংখ্যাধিক্য। কালিহাতীর বল্লা, রতনগঞ্জ মুসলিম কারিগর সংখ্যায় সহস্রাধিক। স্বাধীনতার পর ইদানীং টাঙ্গাইল শাড়ি তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে।

এক সময় শোনা যায় টাঙ্গাইলে মসলিন শাড়িও তৈরি হতো। মসলিন নামে উৎপত্তি নিয়ে মতদ্ধৈতা আছে। কারো কারো মতে ‘মসলি পত্তন’ থেকে বিদেশী বণিকগণ ইউরোপে এ-বস্ত্র চালান দিত বলে এর নাম করা হয় মসলিন। খ্রিষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীতে হামদ বা পর্তুগিজ জলদস্যুদের অত্যাচারে বঙ্গোপসাগর দিয়ে বিদেশে এখানকার বস্ত্র চালানোর অসুবিধার দরুন তুরস্কের তদানীন্তন রাজধানী ‘মোসলে’ নগরের তন্তুবায় সম্প্রদায় এখানকার বস্ত্র-শিল্পের অনুকরণে এক প্রকার কাপড় তৈরি করে এবং সেই ‘মোসলে’ নাম থেকেই ‘মসলিন’ নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে অনেকের বিশ্বাস। ধ্বংসের তান্ডবলীলায় মসলিন আজ অবলুপ্ত হয়েছে।

টাঙ্গাইল শাড়ি ছাড়া টাঙ্গাইলের বিভিন্ন গ্রামে যেমন, আদি টাঙ্গাইল, পাথরাইল, নলশোধা, আকদ, ঘারিন্দা, ছাতিহাটি, গোলরা, রামপুরা, জোয়াইর, মোমিননগর, করটিয়া প্রভৃতি এলাকায় মোটা বস্ত্র তৈরি হয়। এ-সব কাপড়ের রং পাকা এবং মজবুত। শাড়ি ছাড়াও টাঙ্গাইলের লুঙ্গি, গামছা ইত্যাদি তৈরি হয়।

টাঙ্গাইল জেলার কুটির শিল্প বলতে বর্তমানে তন্তুবায়ীদের বোঝায়; যারা হিন্দু সম্প্রদায়ের তাদেরকে তাঁতি এবং যারা মুসলিম সম্প্রদায়ভূক্ত তাদের জোলা বা কারিগর বলা হয়ে থাকে।

তামা-কাঁসা শিল্পঃ
sasha

লৌহ, তামা, পিতল, কাঁসা, স্বর্ণ ও রৌপ্য ইত্যাদি ধাতু নিয়ে যাদের জীবিকা তাদের কর্মকার বলা হয়ে থাকে। ধাতুশিল্পের দিক দিয়েও টাঙ্গাইল জেলা এক সময় প্রসিদ্ধ ছিল। এখানে অনেক স্বর্ণকার ও কর্মকার ছিল। স্বর্ণকাররা বিবিধ ধরণের অলংকার তৈরি করত। বারাতির কর্মকারেরা রকমারি পিতলের জিনিসপত্র এবং কাগমারী ও মগরার কর্মকারেরা কাঁসার জিনিসপত্র তৈরি করত। টাঙ্গাইলের কালিহাতী, ঘাটাইলের পাকুটিয়া গ্রামের কর্মকার শ্রেণী আজো লৌহজাত শিল্প দ্রব্য তৈরিতে তাদের দক্ষতা সুপ্রমাণিত। কাগমারীর ও মগড়ার কাঁসার বাসন-কোসন ছিল ভারত-বিখ্যাত। এক সময় এ-ব্যবসা ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধিশালী। দেশ ভাগ হওয়ার পর এই শিল্পের শত শত দক্ষ পরিবার ভারতে পাড়ি দিয়েছে। টাঙ্গাইলের কাগমারী, মগড়া এই দুটি গ্রামে অনেক কর্মকার পরিবার বাস করে। এদের হাতে কাঁসার বাসন ছাড়াও তামা-পিতলের বাসন-কোসন তৈরি হয়। এগুলো যেমন কারুকার্যময় তেমনি টেকসই। কাগমারী ও মগড়া গ্রামের কর্মকাররা এখনো তৈরি করে পিতলের কলসি, জগ, ঘটি, বদনা, লোটা, থালা, গ্রাস, বোল, ডেকচি, চামচ, খুন্তি,কাঁসার ঘন্টা, বাটি, পুষ্পাধার প্রভৃতি। বাদ্যযন্ত্র যেমন করতাল, ঝুনঝুনি ইত্যাদিও এখানে তৈরি হয়। বর্তমানে পিতল-কাঁসার, কাঁচামাল অর্থাৎ রং , তামা ও দস্তার উচ্চ মূল্য ও দুস্প্রাপ্যতার কারণে এ মূল্যবান ও ঐতিহ্যবাহী শিল্প ধ্বংসের মুখে। সমবায়ের মাধ্যমে এই শিল্পের উন্নয়নের প্রচেষ্টা নেয়া হলেও তেমন ফল লাভ হয়নি। কাঁসা পিতল শিল্পের উন্নয়নে প্রচুর কাঁচামাল সরবরাহ আধুনিক মেশিনারির ব্যবস্থা এবং সেই সাথে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক রুচিসম্মত জিনিসপত্র তৈরির ব্যবস্থা করা দরকার।

About Ontohin

Check Also

অ্যাপলের সিইও টিম কুক এখন ভারতে

অ্যাপল কম্পিউটার ইনকরপোরেটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক ছিলেন চীনে। দেশটির এক নতুন ব্যবসায় …