Home / ব্যক্তিত্ত্ব / বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী

বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী

bicharpoti

বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীঃ আবু সাঈদ চৌধুরীর জন্ম ৩১ জানুয়ারি ১৯২১ মানিকগঞ্জ জেলার এরাচিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে। তার পিতার বাড়ি কালিহাতির নাগবাড়িতে। পিতা স্পিকার আব্দুল হামিদ চৌধুরী, মাতা শামসুন নেছা চৌধুরী। শিক্ষা জীবনে তিনি কলিকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ (১৯৪০) পাশ করেন, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও ল পাশ। লন্ডনের লিস্কস ইন থেকে ১৯৪৭ সালে ব্যারিস্টারি পাশ করে দেশে ফিরে আসে। তিনি খ্যাতনামা ছাত্রনেতা ছিলেন। আবু সাঈদ চৌধুরী প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (১৯৪০), নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক (১৯৪০), নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের ব্রিটিশ শাখার সভাপতি (১৯৪৬) ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি ১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের এডভোকেট জেনারেল নিযুক্ত হন। ১৯৬১ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক পদে এবং স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান ১৯৬২ সালে। তিনি পাকিস্তান শাসনতন্ত্র কমিশনের সদস্য (১৯৬০-৬১) ও কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের সভাপতি (১৯৬৩-৬৮) ছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ১৫ মার্চ ১৯৬৯ সালে তিনি জেনেভায় অবস্থানকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের গুলিতে হত্যঅর প্রতিবাদে জেনেভা থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে তিনি পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘে অবস্থা করছিলেন। ২৫ মার্চের কালরাত্রির বিবরণ বিবিসিতে জেনে পাকিস্তান সরকারের পক্ষত্যাগ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বিশ্বব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন। আবু সাঈদ চৌধুরী ২৩ এপ্রিল ১৯৭১ প্রবাসে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ পান। লন্ডনে আবু সাঈদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানেই স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিষদের কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। স্বাধীনতার পর তিনি ১৯৭২ সালে ১২ জানুয়ারি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। ১৯৭৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ এবং একজন কেবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদায় সরকারের আন্তর্জাতিক বিষয়াদির বিশেষ প্রতিনিধি নিযুক্ত। ১৯৭৫ এর ৮ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাকশাল দলীয় সরকারের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন দপ্তরের মন্ত্রী নিযুক্ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিহত হবার পর খোন্দকার মোশতাক আহমদের মন্ত্রীসভায় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী (২০ আগস্ট-৬ নভেম্বর ১৯৭৫) ছিলেন। ১৯৭৮ এ জাতিসংঘের সংখ্যালঘু বৈষম্য প্রতিরোধ ও অধিকার সংরক্ষণ কমিশনের সদস্য নির্বাচিত। ১৯৮৫-১৯৮৬-তে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। উদার গণতন্ত্রী, মানবতাবাদী ও বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের প্রতি আস্থাশীল এ বুদ্ধিজীবী বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেশীকোত্তম উপাধি ও কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টর-অব-ল ডিগ্রি লাল করেন।

About Ashiq Mahmud

Check Also

শামছুল হক

শামছুল হক: ১লা ফেব্রুয়ারি ১৯১৮ সালে বর্তমান টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের শাকইজোড়া গ্রামের …