বালক

balokদিনটা ঠিক ২৭তারিখ হবে।
আমার খুব করে মনে আছে।
আনন্দের চাদরে সেদিন ঢাকা পড়েছিল সমস্ত নগরী।
শহরের ছোট একটা বাড়ির ছাদের এক কোণে বসে,
কাঁচের আবরণে ডাকা চশমার গ্লাস ভেদ করে নিবির ভাবে ডুবে ছিলাম মোবাইলের স্ক্রিনে।
নিজ আখিঁতে দর্শন করতেছিলাম কোনো এক অভাবনীয় ঘটনা।
.
.
আমি নিজে ছিলাম নিষ্ক্রিয় দর্শকের মতো।
কারন আমলকির ডালের হাওয়া লেগেছে আমার মনের আঙ্গিনায়।
আমাকে প্রায় নিশ্চল করে রেখেছিল।
কিন্তু কর্মচঞ্চল অসাধারন নগরবাসীর প্রাণবন্ত গতিকে
কোন ক্রমেই মন্থর করতে পারেনি আমি।
.
একটু বেশি সাদামাটা মনে বাস করেছি নিজের মাঝে।
এইতো নিত্য দিনের প্রতিনিয়ত ঘটমান চিরায়িত অতি
সাধারন চিত্র।
.
কিন্তুু সেদিন আমার জীবনটা অসাধারণ করে তুলেছেন সৃষ্টিকর্তা।
আমার হিয়ার মাঝে বেধে দেয় এক অন্যরকম সুর।
যার কোনো তাল নেই।
তালহীন সুর তবুও বেশ মধুর।
.
বার বার অংকিত হয় আপন মনের রং তুলি দ্বারা।।।।
.
ছাদের একপাশে বসে,জবার লোহিত বর্ণরে
পাপড়ির পানে অপলোক দৃষ্টিতে তাকিয়ে
দুচোখ লোনা ধারায় টলমল করে।আর ভাবে সেই সুসময়ের কথা ।
.
মেহেদী গাছে কিশলয়
গুলোর পানে তাকালে,মনের দুঃখ হয়ে যায় স্বচ্ছ
জলের ন্যায়। গাছের শাখা নুইয়ে পরেনি বলেই আমিও
অটুট আছি আমার স্থানে।
পথের পানে খাড়া দৃষ্টিতে
চেয়ে আছি,তুমি আসবে বলে……!!!

আর যেদিন তুমি সত্যি আসলে,আমায় ভালবাসি বললে।
আমি নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারিনি।
সেদিন,সেই তারিখ তোমার মনে নেই।
আমি জানি।
তোমার মনে থাকার কথাও না।
.
ভালোবাসার প্রথম বাক্যটি আমি বলেছি বলে হয়ত।
আমার জমাট বাধা রক্তের ন্যায় জীবনকে যে আলোকময় করেছে তাকে ভুলব কি করে???
তাইতো প্রতিটি মুহুর্ত মনে করি।
.
তুমি আজ অনেক দূরে তাই কাছে থাকা প্রকৃতির মাঝে তোমার মিল খুজি।
তোমার সাথে গেথে দেই কচি বাতাবী লেবুর মত তোমার কচিঁ মুখটি।
আমি তোমাকে আমার বাস্তবে ভাবি।
স্বপ্ন নয়।
আজ সেই দিনটি।
তোমাকে পাওয়ার সেই দিন।
বালক থ্যাংকস আমার জীবনে আসার জন্য।

লিখেছেনঃ  ফারজানা আক্তার লিনা

About Sayeed

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …