Home / ব্যক্তিত্ত্ব / প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ

প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ

33_204039

প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ : প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ’র জন্ম ১৮৯৪ সালে, ভুঁঞাপুর উপজেলার বিরামদী (বর্তমানে শাবাজনগর) গ্রামে। পিতার নাম শাবাজ খাঁ, মা রতন খানম। ১৯১৯ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পাস করেন। ১৯২৩ সালে আইনে বিএল ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। আইন পাস করলেও ওকালতি পেশায় না-গিয়ে তিনি করটিয়া হাফেজ মাহ্মুদ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাজে যোগদান করেন।

করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নী একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করলে প্রিন্সিপাল সাহেব সর্বতোভাবে সহযোগিতা প্রদানে এগিয়ে এলেন। ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলো করটিয়া সা’দত কলেজ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পেলেন ইবরাহীম খাঁ। তিনি এক টানা ২২ বছর অতি সুনামের সঙ্গে এ গুরুদায়িত্ব পালন করেন।

অবিভক্ত বাংলা ও আসামে সা’দত কলেজই মুসলমান প্রতিষ্ঠিত প্রথম কলেজ এবং ইবরাহীম খাঁ-ই প্রথম মুসলমান প্রিন্সিপাল। করটিয়ায় একটি সাহিত্য পরিমন্ডল গড়ে ওঠে করটিয়া সা’দত কলেজকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যমণি ছিলেন ইবরাহীম খাঁ। এখানে পড়াতে এবং পড়তে এসে যাঁরা সাহিত্যচর্চা করেছেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই বাংলা-সাহিত্যে পরিচিত। এঁদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক কাজী আকরম হোসেন, অধ্যাপক গোলাম মকুসদ হিলালী, অধ্যাপক আজিমুদ্দিন, মওলানা আহ্সানুল্লাহ, আবুল হাশেম, আবদুল কাদের, নূরুন্নাহার, তালিম হোসেন, অধ্যাপক মুফাখ্খারুল ইসলাম, আশরাফ সিদ্দিকী, খোন্দকার আবুবকর, পিসি সরকার, ইদরিস আলী, রবিঘোষ ঠাকুরতা, খুরশীদ আহমদ, আলীম-আল রাজী, শামসুজ্জামান, মোকসেদ আলী, এএসএম আবদুল জলিল প্রমুখ। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে যাতে সাহিত্য-পিপাসা সৃষ্টি করা যায়, তার জন্য ইবরাহীম খাঁ ‘কাকলি কুঞ্জ’(১৯৪৩) এবং বড়দের সাহিত্যচর্চার কেন্দ্রস্বরূপ মহুয়া মজলিশ’(১৯৪২) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ ১৯৪৮ সালে ঢাকায় টাঙ্গাইল মাহফিল (বর্তমান টাঙ্গাইল জেলা সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তান মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ১৯৪৮ সালে ভূঞাপুর কলেজ(অধুনা ইবরাহীম খাঁ কলেজ) স্থাপন করেন। ঢাকার মীরপুরস্থ সরকারি বাংলা কলেজটি ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম এবং তাঁর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। ১৯৪৬ সালে প্রাদেশিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং একই সালে বাংলার প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫৭ তে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ১৯৬২ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (ময়মনসিংহ-২) নির্বাচিত হন। অতঃপর ক্ষমতাসীন কনভেনশন মুসলিম লীগে যোগদান। ১৯৭০-এর ৭ ডিসেম্বরের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের (কাইয়ুমপন্থি) মনোনয়নে টাঙ্গাইল জেলা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিতহন। ঢাকা ও কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটর, পাকিস্তান কৃষি ব্যাংক ও বাংলা একাডেমীরও কার্যকরী সদস্য ছিলেন। তিনি ব্রিটিশ আমলে খান সাহেব ও খান বাহাদুর এবং পাকিস্তান আমলে সিতারা-ই-ইমতিয়াজ উপাধি লাভ করেন। ১৯৬৩-তে নাটকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং ১৯৭৬-এ একুশের পদক লাভ করেন।

গ্রাম বাংলার সরলপ্রাণ মানুষের ভাষায় লেখা তাঁর ছোটগল্প, নাটক, রসরচনা স্বাতন্ত্র্যের দাবি রাখে। তিনি অনেক পাঠ্যগ্রন্থের প্রণেতা। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে নাটক : কাফেলা, কামালপাশা, আনোয়ার পাশা, রস রচনা : আলু বোখারা, উস্তাদ, মানুষ, শিশুসাহিত্য : ব্যাঘ্র মামা, সোহরাব রোস্তম, শাহনামা। ভ্রমণকাহিনী : ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র, নয়াচীনে এক চক্কর। অনুবাদ : আরব জাতি, নুরমহল, চেঙ্গিস খাঁ, বাবুর নামা উল্লেখযোগ্য। ইবরাহীম খাঁ ১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান। ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ তিনি পরলোকগমন করেন।

About akter tanjida

Check Also

শামছুল হক

শামছুল হক: ১লা ফেব্রুয়ারি ১৯১৮ সালে বর্তমান টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের শাকইজোড়া গ্রামের …