Home / মনের জানালা / নতুন সূর্য

নতুন সূর্য

new sunগ্রীন লাইন বাস এর সিট বসে আছি,মাথাটা আমার সামনের সিট এর সাথে লাগানো,বড়ই চিন্তায় মগ্ন,চিন্তায় আমার চোখ এর পাতাগুলাও বন্ধ,খেয়ালই নেই পাশের সিটটিতে এক রাজকন্যা বসে আছে!!! তার কন্ঠ কানে ভেসে আসল:

-এইযে শুনছেন?

-জি বলেন?

-আপনার কি মাথা ব্যাথা?

-ঠিক তা না..

-মাথা ব্যাথা হলে টিপে দিব?

-সাহায্যের হাতটা বাড়ানোর জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ,.
smile emoticon

-আমি কোথায় আপনাকে সাহায্যের হাত বাড়ালাম?হাত বাড়িয়ে তো মাথাটা টিপতেও বলছেন না?

-ম্যাডাম আপনার সাথে আমি কথা বলে পারি না,আপনি না জানি সারাটি জীবন আপনার উদভট লজিক দিয়া কত কিছু যে আপদার করবেন কে যানে???

-এখনও তো কিছুই আবদার করিনি,আগে তো সময়টা আসতে দাও জান..
tongue emoticon

-বাহ্..আজ পর্যন্ত ৩বছরের সম্পর্কে আপনার যে কত কিছু পূরণ করেছি তা কি জানেন???:-|

-পূরানো জিনিস নিয়া ঘাটাঘাটির অভ্যাস আমার নেই,এত টুকুই আমার মাথায় সীমাবন্ধ যে তুমি আমার জীবন..

-এ জীবন যদি কখনও হারিয়ে যায় তখনও???

ছেলেটি তখনও চোখ বন্ধ করে আছে,৫মিনিট কোন সারা পেল না,চোখ খুলতেই সে দেখতে পেল মেয়েটি বাস এর জানালার কাঁচ দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে..-কি হয়েছে মিস?

-কিছু হয়নি..(কাদোঁ কাদোঁ সুরে)

-মন খারাপ না পেট খারাপ??

-সব সময় ইয়ারকি করবা না!,.:-@

-হায় হায়!আমার রাজকুমারীর কত রাগ!?আমাকে কি তার রাগ ভাগাতে হবে??

-না,তা দরকার নেই

-রাগকে ঝেটিয়ে বিদায় করব..

-এত রাগ করি তোমার সাথে কখনও কি পারস?

-তোমার রাগ দূর করতে না পারলেও হাসাতে তো পেরেছি সোনা..
smile emoticon

মেয়েটি ঘাড় ঘুড়ালো

-তূর্য তুমি আমাকে এতটা লাভ কর তাহলে মরে যাওয়ার কথা কেন বল?

-তাহলে আমার জানটার কান্না এখানে?এমননি বলি,তানা হলে তোমার চোখ মুছে দেওয়ার কোন বাহানা যে পতাম না..

তূর্য মেয়েটির চোখ মুছে দিল,মেয়েটি কাধঁ মাথা রাখল..কিছুক্ষণ পর তূর্য বলতে লাগল..

-মেও কি ঘুমিয়ে পড়েছ?

-নাহ,কিন্তু তোমার কাধেঁ মাথা দিয়ে অনেক শান্তিতে আছি

-আমার মনে হয় আমাদের ফিরে যাওয়া উচিত,জান..

-না,আমি যাবো না,তোমার কাছে থাকব..

-জান,বুঝার চেষ্টা কর,আমরা যা করছি তা ভুল,এভাবে পালিয়ে যাওয়া সমাধান না,আর আমরা পালিয়ে কত দিন বাঁচব?আমরা কেউই আমাদের বাবামা ছাড়া থাকতে পারব না..

-আমি পারব থাকতে,.কিছু বুঝতে চাই না…

-আহা.,জেদ করে না,সবসময় তোমার জেদ আমাদের জীবনে বিপদ ডাকতে পারে,আর তোমার বিয়ে এখন কে দিবে?

-কিন্তু আব্বু যে কথায় কথায় বিয়ে বিয়ে করে!এমনকি আব্বুর কলিগের ফ্যামিলিও দেখতে আসছিল..

-তাতে কি হয়েছে?বলবা যে আমি পড়াশোনা করব..

-তারা শুনলে তো?

-তোমার বাবামা অবশ্যই শুনবে,.কখনও কি বলে দেখেছো?

-শুধু শুধু বকা খাওয়ের ইচ্ছা নাই,তারা কোন কিছুই শুনে না.

-তুমি বাচ্চা না,তোমার নিজের মত আছে,তোমার কাছে তারা এসে শুনতে চাবে না,তোমার মত তোমার পরিবারের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে..

-পারি না..

-আমাকে বলতেও পারতা,বললা তো কিছুক্ষণ আগে,ততক্ষণে কক্সবাজার এর উদ্দেরশ্য রওনা দিয়াও সারা!

-তুমি কি করতা?

-তোমার বাবামাকে বুঝাতাম

-সাহস আছে?

-তোমাকে নিয়ে এ দুনিয়া পারি দেওয়ার সাহস আছে,চল জান,ফিরে যাই..

-না যাব না!

-আমার উপর কি বিশ্বাস আছে?

-আমার থেকেও বেশী..

মেও তার বাসায় আসাতে দেখতে পেল যে তার বাবামা চুপচাপ বসে আছেন,মা কানছেন..মাকে দেখে মেও জড়িয়ে ধরে বলল,’আমি কোথাও যাব না মা,সারাজীবন তোমাদের সাথে থাকব..তোমাদের আর কষ্ট দিব না..’মা প্রশ্ন করল,’সকাল থেকে বিকাল কোথায় ছিলি?’মেও জবাব দিল,’তূর্যের সাথে পালায় গিয়েছিলাম’..পিছন থেকে তার বাবার প্রশ্ন,’ফিরে এলি কোন দুঃখে?’মেও এর উত্তর, ‘তোমাদের ভালবাসা উপলব্ধি করছি বলে’..তূর্য ঘরে প্রবেশ করল,সাথে সাথে তূর্যের জবাব,’কেউ কিছু বলার আগে আমার কথাটি শুনুন’,.তূর্য কারও উত্তরের অপেক্ষা না করে বলতে লাগল..

-পালিয়ে যাওয়া ছিল আমাদের ২জনেরই ভুল সিদ্ধান্ত,কারণ,মেও কে আপনারা বড় করেছেন ওর জন্ম থেকে,ও যেন কোন বিপদে না পড়ে সে জন্য তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন,ওকে আদর দিয়ে ভালবাসা দিয়ে মানুষ করছেন,এতই ভালবাসা দিয়েছেন যে ও কখনও উপলব্ধি করার সুযোগ পায়নি বাবামার ভালবাসা..এখন আমি তার জীবনে এসেছি ৩বছর,তাই বলে ত আমি আপনাদের কাছ থেকে আপনার মেয়েকে ছিনিয়ে আনতে পারি না,মেয়ে আপনার,ওর কিছু হলে সারাজীবন আপনাদের বুকে ব্যাথা,কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে,কারণ আপনাদের ভালবাসা পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ,ওকে যখন বুঝালাম এ ব্যাপারে,ও তখন নিজে থেকেই বলল যে,চল ফিরে যাই।

আমি অনেক গর্বিত মেওকে নিয়ে,তাই বলে এই নয় যে আমি আপনার মেয়ের দাবিদার,আপনারা আমার থেকে বেশি বুঝবেন।তবে এটা মাথায় রাখবেন,আপনার মেয়ে আজ বড় হয়েছে,নিজের সিদ্ধান্ত আছে,হুট করে চাপায দেওয়াতে আজ সমাজে নানা দূর্ঘটনা হচ্ছে যার ফলে বাবা মা মুখ দেখাতেই পারছে না,আমরা সন্তানরা কি এতটাই সার্থপর?আমার জীবনে কি লেখা আছে জানি না.,তাই বলে কোন বাবা মাকে কষ্ট দেওয়ার পক্ষপাতি আমি না,আর আমার শেষ কথা হল মেও পড়াশোনা শেষ করতে চায়.বিয়ের কথা বলে ওর মাঝে চাপ সৃষ্টি করে ওকে মানুসিক চাপ এ রাখবেন না।আমি এখন আসি,যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন তবে জানাবেন,.’

তূর্য চলে গেল..

লিখেছেনঃ Ashes Tz

About Kabir Hossain

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …