Home / দর্শনীয় স্থান / কুয়াকাটা সুমুদ্র সৈকত

কুয়াকাটা সুমুদ্র সৈকত

405115_296338907102002_858771368_nসাগরকন্যা পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত কুয়াকাটা সুমুদ্র সৈকত । প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্রসৈকতের বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে অবলোকন করা যায় সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য। ভোরবেলায় দেখবেন আগুনের গোলার মতো সূর্যটা ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। আবার গোধূলিতে আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে সাগরের বুকে। যদি রাতে সমুদ্রের গর্জন শুনতে চান তবে অবশ্যই যেতে পারেন সেখানে।সমুদ্র দিনের বেলা সাধারণত আশে পাশের শব্দের কারনে গর্জন শোনা যায় না। সমুদ্রের যে একটা ভয়ংকর রূপ আছে তা বোঝা যায় রাতে।রাতে সুমুদ্রের গর্জন সত্যি অনেক ভয়ংকর ।
সমুদ্রসৈকতের পশ্চিম দিকে ম্যানগ্রোভ বন শুরু হয়েছে। কাছাকাছি অবস্থিত এই সংরক্ষিত ফাতরার বন ইতিমধ্যে দ্বিতীয় সুন্দরবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এখানে রয়েছে কেওড়া, গেওয়া, সুন্দরী, ফাতরা, গরান, বাইন, গোলপাতা ইত্যাদি ম্যানগ্রোভ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং বানর, শূকরসহ অসংখ্য জীবজন্তু ও পাখি। সমুদ্রসৈকত থেকে ইঞ্জিনচালিত বোটে এক ঘণ্টার যাত্রাপথে ফাতরার বনে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ভ্রমণের ফাঁকে ঘুরে আসতে পারেন এই ফাতরার বনে ।
কুয়াকাটার ইতিহাসে মিশে আছে রাখাইন আদিবাসী সম্প্রদায়।শামুক-ঝিনুকের তৈরী বিভিন্ন সৌখিন দ্রব্যাদি, রাখাইনদের তৈরী চাদর, কাপড়, ওড়না ইত্যাদি তারা বিক্রি করেন তাদের নিজস্ব মার্কেটে । ভ্রমণের স্মৃতিকে ধরে রাখতে অল্প খরচে কিছু সৌখিন সামগ্রী কিনতে পারেন কুয়াকাটা থেকে ।
ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি বাস এখন সরাসরি কুয়াকাটা যায়। আপনি এসব বাসে গেলে আপনাকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে খুব কাছেই নামিয়ে দিবে। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা বাসে যেতে মোট সময় লাগে প্রায় ১২/১৩ ঘন্টা। আর হাতে একটু বেশী সময় থাকলে আপনি ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে খুলনায় আসার অনেক ভালো বাস পাওয়া যাবে। খুলনা থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে বাসে করে রওনা করতে পারেন। খুলনা থেকে কুয়াকাটায় যেতে সময় লাগবে প্রায় ৭/৮ ঘন্টা। আর উত্তরবঙ্গ থেকে আসতে চাইলে ট্রেনে করে খুলনায় চলে এসে কুয়াকাটার বাসে উঠে পড়লেন ।

About sumon

Check Also

জিনজিরা প্রাসাদ

যারা পূরাতন ইতিহাস জানতে এবং ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ করতে ভালবাসেন তাদের এমন একটি জায়গা নিয়ে …