Home / ব্যক্তিত্ত্ব / কবি রফিক আজাদ

কবি রফিক আজাদ

কবি রফিক আজাদের জন্ম ১৯৪১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার গুণী গ্রামে। বাবা সলিম উদ্দিন খান ছিলেন একজন সমাজসেবক এবং মা রাবেয়া খান ছিলেন আদর্শ গৃহিণী। দুই ভাই-এক বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ।

১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় শ্রেণির শ্রেণির ছাত্র রফিক আজাদ ভাষা শহীদদের স্মরণে বাবা-মায়ের কঠিন শাসন অস্বীকার করে খালি পায়ে মিছিল করেন। ভাষার প্রতি এই ভালোবাসা পরবর্তী জীবনে তাঁকে তৈরি করেছিল একজন কবি হিসেবে, আদর্শ মানুষ হিসেবে। ১৯৫৬ সালে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় একবার বাবার হাতে মার খেয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন বাড়ি থেকে। উদ্দেশ্য, পি সি সরকারের কাছে ম্যাজিক শেখা। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাঁকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

রফিক আজাদ বাংলা একাডেমির মাসিক সাহিত্য পত্রিকা উত্তরাধিকার এর সম্পাদক ছিলেন। রোববার পত্রিকাতেও তিনি নিজের নাম ঊহ্য রেখে সম্পাদনার কাজ করেছেন। তিনি টাঙ্গাইলের মওলানা মুহম্মদ আলী কলেজের বাংলার প্রভাষক ছিলেন। রফিক আজাদ ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা৷ তাঁর চার ছেলে ও দুই মেয়ে। এক মেয়ে আগেই মারা গেছেন।

কবির প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে অসম্ভবের পায়ে, সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে, চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া, পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি, প্রেমের কবিতাসমগ্র, বর্ষণে আনন্দে যাও মানুষের কাছে, বিরিশিরি পর্ব, রফিক আজাদ শ্রেষ্ঠ কবিতা, রফিক আজাদ কবিতাসমগ্র, হৃদয়ের কী বা দোষ, কোনো খেদ নেই, প্রিয় শাড়িগুলো প্রভৃতি।

কবি রফিক আজাদ ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ২০১৩ সালে একুশে পদক পান। এ ছাড়া হুমায়ুন কবির স্মৃতি (লেখক শিবির) পুরস্কার (১৯৭৭), আলাওল পুরস্কার (১৯৮১), কবিতালাপ পুরস্কার (১৯৭৯), ব্যাংক পুরস্কার (১৯৮২), সুহৃদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), কবি আহসান হাবীব পুরস্কার (১৯৯১), কবি হাসান হাফিজুর রহমান পুরস্কার (১৯৯৬) ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা (১৯৯৭) লাভ করেন।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে জানুয়ারির ১৫ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি হন কবি রফিক আজাদ। ওই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে এই মুক্তিযোদ্ধা কবি চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিএসএমএমইউর চিকিৎসক হারিসুল হক বলেন, রফিক আজাদ ৫৮ দিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। ১১ মার্চ শুক্রবার সকাল থেকে তাঁর রক্তচাপ পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে ক্রমান্বয়ে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে।

১২ মার্চ শনিবার বেলা দুইটা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল (ইন্না লিল্লাহি…. রাজিউন) করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

 

About টাঙ্গাইল ইনফো

Check Also

শামছুল হক

শামছুল হক: ১লা ফেব্রুয়ারি ১৯১৮ সালে বর্তমান টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের শাকইজোড়া গ্রামের …