Home / ভূতের রাজ্য / উলঙ্গ মানুষ

উলঙ্গ মানুষ

botনুরুল হক সাহেবের বাড়িটা দুর থেকে বাগান বাড়ির মত লাগে ।বিভিন্ন রকমের গাছ গাছালি দিয়ে চারদিক ঘেরা,সামনে পিছনে দুইটা পুকুর ।পনের
কামরা বিশিষ্ট একটা বড় আধুনিক দালান যেখানে শুধু পাঁচটি প্রানী বাস করেন । উনি,উনার বউ,দশ বছরের ছেলে আসিফ,সাত বছরের মেয়ে সাবিনা এবং কাজের মহিলাজলিকার মা । নুরুল হক সাহেবের পাঁচ ভাই,বাকী চার ভাই পরিবার সহ আমেরিকাতে থাকেন । উনি ও একবার আমেরিকাতে গিয়েছিলেন,ভাইয়েরা চেয়েছিলেন উনি ও যেন উনার ফেমিলি নিয়ে আমেরিকাতে উনাদের সাথে স্হায়ীভাবে থাকেন । কিন্তু উনার আমেরিকা ভাল লাগেনি,তাই দেশে ফিরে এসেছেন ।

উনি প্রায়ই একটা কথা বলেন,উনার বাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও নাকি উনি শান্তিতে ঘুমাতে পারেন না । তাই উনি উনার পরিবার নিয়ে দেশে থাকেন । নুরুল হক সাহেব মানুষ হিসাবে কেমন সে সম্পর্কে কেউ কোন সঠিক ধারনা দিতে পারে না । একেকজন একেক কথা বলে । তবে উনার সুনামের চেয়ে দূর্নামই বেশি প্রচলিত । একবার নাকি উনি উনার বাড়িতে এক চোর ধরে,চোরকে নিজ হাতে জবাই করে ফেলেন । প্রতি মাসে নাকি উনার বাড়িতে একটা আসর বসে,যেখানে মদের নেশা চলে আর বাজার থেকে
মেয়ে আনা হয় । যদিও এর কোন সত্যতার প্রমান এখনও বাস্তবে পাওয়া যায়নি.।

আসিফ ক্লাস ফাইভে,সাবিনা ক্লাস থ্রিতে পড়ে । ওদের স্কুলে,মক্তবে নিয়ে যাওয়া আসার জন্যে জলিকার মাকে রাখা হয়েছে বাড়িতে । ঘরের অন্যন্য কাজ ও করে । ও প্রতিদিন সকালে নুরুল হক সাহেব ও উনার ঘুমে থাকতে থাকতে আসিফ ও সাবিনা কে মক্তবে দিয়ে আসে । মক্তবে দিয়ে এসে সকালের নাস্তা শুরু করে ঘরের যাবতীয় কাজ শেষ করে আবার ওদের মক্তব থেকে নিয়ে আসে । এভাবে জলিকার মার প্রত্যহ দিন শুরু হয় জলিকার মা একটু অদ্ভুদ টাইপের মহিলা । ও খুব কম কথা বলে,কাজ ছাড়া কারো সাথে কথা বলে না । সবসময় একা একা থাকে । এরকম থাকার পিছনে কিছু যুক্তি আছে । ওর তের বছর বয়সে বিয়ে হয়,সতের বছর বয়সে ও বিধবা হয় । ওর স্বামী সাপের কামড়ে মারা যায় । ওর
মেয়ে জলিকা বার বছর বয়সে মারা যায় । কেউ জানে না ও কিভাবে মারা গেল । ওর লাশ পাওয়া গিয়েছিল গ্রামের দক্ষিন দিকে এক পরিত্যক্ত পুকুরে ভাসা অবস্হায় ।

জলিকার মূত্যু নিয়ে একটা কথা প্রচলিত আছে,সেটা হল কে বা কারা নাকিজলিকাকে ধর্ষন করে মেরে পুকুরে লাশ ফেলে দিয়েছে । যদিও এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি । এরপর থেকে নাকি জলিকার মা এরকম কিছুটা অস্বাভাবিকের মত হয়ে গেছে । জলিকার মা প্রতিদিনের মত আসিফকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে মক্তবে নিয়ে যাওয়ার জন্যে । আসিফ ঘুম থেকে হাত মুখ ধোয়ে মক্তবে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুত হয়ে জলিকার মাকে জিজ্ঞেস করে সাবিনা কোথায়, ও প্রস্তুত হয়েছে কিনা । জলিকার মা বলে ভাইজান আইজ আপারে একটু দেরিতে নিয়া যামু, উনার একটু শরীর খারাপ,আপনাকে দিয়া আইস্যা উনারে নিয়া যামু ।উনি আরেকটু ঘুমাক । আসিফ আর কিছু না বলে জলিকার মার সাথে মক্তবের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল ।

ঘর থেকে বেরুতেই আসিফের কেন জানি ভয় লাগল,তার মনে হল এখন ও সকাল হয়নি,রাত এখন ও বাকি । আসিফ জলিকার মাকে জিজ্ঞেস করল বুয়া আমার মনে হচ্ছে এখন ও সকাল হয় নি । সে সাথে সাথে বলে উঠল কি বলেন ভাইজান,দেখেন না চারদিক কেমন ফরসা । আসিফ আর কিছু না বলে ওর সাথে হাঁটতে লাগল । মসজিদের কাছে পৌছতেই হঠাৎ আসিফ দেখে জলিকার মা তার পাশে নাই । সে থতমত হয়ে চারদিক তাকাল । দুইবার বুয়া বুয়া বলে ডাকল । দেখে তার চারপাশে কেউ নাই,চারদিক নিরব । সে সাথেসাথে বোঝে নিল,এখন ও সকাল হয়নি,চারদিক এত আলোকিত কারন আজ ভরা পূনিমা । আসিফ ভয়ে কাঁপতে লাগল । চিৎকার করতে চাচ্ছে কিন্তু মুখ থেকে কোন শব্দ বের করতে পারছে না ।তার হাত পা শক্ত হয়ে আসছে ।কোনরকম বাড়ির দিকে রওয়ানা দিল ।

এমন সময় পিছন থেকে শুনতে পেল ঘোড়ার ডাকের মত শব্দ,পিছনে মসজিদের দিকে তাকিয়ে দেখে একটা উচু উলঙ্গ মানুষ তার দিকে দৌড়ে আসছে,যার মুখ ঘোড়ার মত । সামনে চেয়ে দেখে হাজার হাজার ভেড়া তার দিকে তেড়ে আসছে । কান্না জড়ানো গোঙ্গানির শব্দে,উপরের দিকে চেয়ে দেখে তার ঠিক মাথার উপরে কে যেন সাদা কাপড় পরে ঘোমটা দিয়ে শূন্যে বসে আছে । তার দু পা সাপের মত কি একটা পেছিয়ে নিচ্ছে,পানিতে ডুবলে যে রকম শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে সে রকম যেন তার ও শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে । পরেরদিন সকালে আসিফ কে মসজিদের পাশে অজ্ঞান অবস্হায় পাওয়া যায় । আর সাবিনাকে অজ্ঞান অবস্হায় পাওয়া যায় পুকুর পাড়ে । জলিকার মাকে কোথাও খোজে পাওয়া যায় না । দুই দিন পর জলিকার মার লাশ পাওয়া যায় গ্রামের দক্ষিন দিকে এক পরিত্যক্ত পুকুরে যেখানে তার সুন্দরী মেয়ে জলিকার লাশ পাওয়া গিয়েছিল । (সংগৃহীত)

About nishivoot

Check Also

ভয় : (শেষ পর্ব)

ছুটতে ছুটতে এক সময় দম বন্ধ হয়ে রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়… এ অবস্থায়ও কিছুটা …