Home / মনের জানালা / “আলোর ছায়া” পর্ব-২

“আলোর ছায়া” পর্ব-২

aloor chayaবিমূর্ত প্রেমের জোয়ারে টিএসসি,আশুলিয়া,নন্দন,বেড়িবাধ,বোটানিক্যাল গার্ডেন সব ভেসে গেল। সেই জোয়ার মিনহাজের মেডিকেল প্রস্তুতিকে ভাসিয়ে নিতে দিধা করেনি।ফলে যা হবার কথা তাই হল।৩-৪ টি ভর্তি পরিক্ষা দিয়ে কোথাও সুযোগ হল না ।স্বপ্নের রঙ্গিন দুনিয়া থেকে পাথুরে বাস্তবে নেমে এলো সে।তার এই কষ্ট দরিদ্র বাবার ক্লিষ্ট মুখ,অসুখি মায়ের কান্না দেখে আরও বেড়ে গেল।কিন্তু এই কেউ এলো না সান্তনার হাত বাড়িয়ে। হিনমন্ন হয়ে পরল সে।দুঃখ ভরা ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে ঢাকা ফিরল সে।ঢাকা এসেই অ্যান্টির তেঁতো বকার তিক্ত সাধ পেল।কথায় আছে অভাগা যেদিকে তাকায় সে দিকে সমুদ্র শুকিয়ে যায়। সপ্তাখানেক পর মেডিকেল পরিক্ষা। কিন্তু কে তাকে প্রেরনা জোগাবে?সেকি তার শেষ আশাটার জন্য কোন প্রেরনা পাবে না? এতসব ঘটনা তাকে চরম অভিমানি করে তুলল। মিনহাজ ঠিক করল এই জীবন আর রাখবেনা ।হতভাগা এই মুখকে সে লাবণ্যের সামনে হাজির করতে চাইলনা। লাবণ্য অবশ্য তাকে সে সুযোগ দিল না।সেদিন বিকালে লাবণ্য এসেই আন্টিদের বাসার ছাদে নিয়ে গেল।লাবণ্য সবই শুনল কিন্তু মুখে কিছুই বলল না। তাই মিনহাজ মনে মনে অবাকই হল।আচমকা লাবণ্য তার ধরে বলল,’মিনহাজ তুমি আমার চোখের দিকে তাকাও’ এই প্রথম লাবণ্যের হাত ধরল মিনহাজ।চোখ রেখে বলল,’মিনহাজ আমি জানি তুমি পারবে।তোমাকে আমার জন্য পারতে হবে।বাকি দিন গুলো মন দিয়ে পড়’,লাবণ্যের ছলছল চোখের দিকে তাকিয়ে মিনহাজের মনে হল সে পারবে। লাবণ্যের জন্য হলেও তাকে পারতে হবে।তার বুক থেকে হাজার মনের পাথরটা এক নিমিষেই নেমে গেল।অশ্রু সিক্ত চোখে লাবণ্য বলল ,’তুমি যদি চান্স পাও,তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহারটা আমিই দেব।
৯ই জানুয়ারী মেডিকেলের রেজাল্ট বের হল।মিনহাজ অবিশ্বাস ভাবে একটি নামকরা মেডিকালে চান্স পেয়ে গেল।মিনহাজ নিজে অবশ্য এত অবাক হল না।তার বিশ্বাস ছিল সে পারবে।রাস্তার পাশের দোকান থেকে সবার আগে লাবণ্যকে ফোন করল।ফোন পাওয়ার পর লাবণ্য কিছুক্ষন নীরব থেকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করল।বিকেলে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে দেখা হলে মিনহাজ সবার আগে তার জীবনের সবচেয়ে দামি গিফট চাইলো।লাবণ্য গম্ভীর মুখেই বলল ,’তোমার যদি আপত্তি না থাকে আগামি শুক্র বারে আমরা বিয়ে করছি।আমরা সপরিবারে ২ বছরের জন্য ফ্রান্স চলে যাচ্ছি।আমাদের বিয়ের কথা কেউ জানবে না।তুমি প্রতিষ্ঠিত হবার আগেই আমাকে পাবে।মিনহাজ সবই মেনে নিল।তাদের মধ্যে আরও অনেক স্বপ্নের কথা হল। লাবণ্য হাসতে হাসতে বলল,’আমাদের প্রথম সন্তান হবে মেয়ে,যার নাম হবে মিলা,মিনহাজের মি আর লাবণ্যের লা’……

লিখেছেনঃ মাহমুদ হাসান

About Borhan Uddin

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …