Home / মনের জানালা / “আলোর ছায়া” পর্ব-১

“আলোর ছায়া” পর্ব-১

aloor chayaএই নিয়ে তিনবার হল।কিন্তু সবুজের জন্য কাজটা করতে পারল না মিনহাজ।আবার নিচে তাকাল মিনহাজ।মানুষগুলোকে কতো ছোট্ট দেখাচ্ছে।২০ তালা বিল্ডিং এর ছাদ থেকে এরকমই মনে হবার কথা।মিনহাজের মনে হল সেও ক্ষুদ্র একজন।এই জগতে তার কোন প্রয়োজন নেই।পরক্ষনেই মনে পরল ছোট্ট ভাইটির কথা,অসুস্থ মায়ের কথা।মিনহাজ বুঝতে পারছে না,সে কি করবে।চোখ বুঝলেই দুঃসহ সৃতিগুলো তারা করে ফিরছে তাকে।লাবণ্যর সাথে তার প্রথম পরিচয় মেডিকেল কোচিং এ।আর দশটা ছেলের যেভাবে প্রেম হয় তার ক্ষেত্রে সেটা হয়নি।লাবণ্যকে প্রথম দেখেই মনে হয়েছিল আল্লাহ যেন ওকে মিনহাজের জন্যই তৈরি করছেন।লাবণ্যের মা প্রায়ই ফোন করতেন মিনহাজের আন্টিকে।একদিন ফোন রিসিভ করতে গিয়ে আচমকা পরিচয় হয়ে গেল লাবণ্যের সাথে।পরের দিন মিনহাজ আবার ফোন দিল।কেউ কোন কথা বলছিল না।মিনহাজ ও কি বলবে বুঝতে পারছিল না।এভাবে ১ মিনিট ৪২ সেকেন্ড পার হয়ে গেল।অবশেষে নিরবতা ভেঙ্গে মিনহাজ ই প্রথম কথা বললো,’আমি কি কারো সাথে কথা বলছি?’ওই দিন ওই পর্যন্তই ।ওই রাতে মিনহাজের চোখের দু পাতা এক হল না।লাবণ্যের মুখটা সে কিছুতেই ভুলতেই পারছিল না। বইয়ের পাতা থেকে শুরু করে নামাজের সিজদা সব জায়গা … সব জায়গাই লাবণ্যের ছবি ।
একদিন মিনহাজ বই পরছিল। ঠিক তখনি একটা ফোন এল।আশপাশে কেউ না থাকায় সেই ফোন রিসিভ করলো। ওপাশে লাবণ্যের কণ্ঠ সুনে হিতাহিত শুন্য হয়ে গেল।মেয়েলি কণ্ঠটি বলল,’আমি কি কারো সাথে কথা বলছি?’মিনহাজের মনটা অদ্ভুত শান্তিতে ভরে গেল। সেদিনের ৫ মিনিটের সংলাপ তাকে অন্য একটা পৃথিবীতে নিয়ে গেল ,যেখানে শুধু লাবণ্য নামের মেয়েরাই থাকে।মাঝে মাঝে লাবণ্য তাকে ফোন করে শুধু একটা কথাই বলে,’আমি কি কারো সাথে কথা বলছি?’তারপর ফোনটা রেখে দেয়।একদিন আলাপ চারিতার মাঝে রান্নার কথা আসলো।মিনহাজ লাবণ্যকে জিজ্ঞেস করল সে কি রাধতে পারে।লাবণ্য বলল সে শুধু নুডুলস রান্না করতে পারে।মিনহাজ হঠাত বলে বস্ল,’আমি সারা জীবন তমার হাতের নুডুলস খেতে চাই,তুমি কি খাওয়াবে আমাকে?’…লাবণ্যের দুচোখ বেয়ে শুধু অশ্রু ঝরছিল……যে কান্না পরম আরাধ্য ভালবাসাকে নিজের মত করে বুঝে পাওয়ার কান্না।এরপর মিনহাজ লাবণ্যের জুটি পিছে ফিরে তাকায়নি….

লিখেছেনঃ মাহমুদ হাসান

About Borhan Uddin

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …