Home / মনের জানালা / অবাক তুমি

অবাক তুমি

obak tumiদুইজনের ভিতর এক ক্লাসের পার্থক্য। আমি যে কিনডার গার্ডেন এ পড়তাম ওইটার স্পোর্টস ডে তে গেলাম। ওখানে ও আমাকে প্রথম দেখে। আমি আগেই ওকে চেহারায় চিনতাম… কারন আগে এক সাথে পড়েছি। ও ঐদিন আমার পিছন পিছন আমাদের বাসায় আসে। আমি পাত্তা দেই না তখন। এর পর থেকে যেখানেই যাই ওর সাথে দেখা হয়। এক দৃষ্টিতে তাকায় থাকে। আমি খেয়াল করলাম ব্যাপারটা। ঢাকা স্টেশন থেকে ম্যাথ কোচিং সব যায়গায় দেখি ওকে। আস্তে আস্তে এমন এক সময় আসল যখন আমি নিজেই ওকে খোঁজা শুরু করি। যেখানে যাই ওকেই খুঁজি।

কিছুদিন যায়। ওকে আর আগের মত সবখানে দেখি না। তখনই কোন কিছুর অভাব অনুভব করি। কোন কোচিং এও ওকে দেখতাম না। তখন ও যে টিচার এর কাছে পড়ত সেখানে ভর্তি হই। কিন্তু তারপরেও ওকে কোথাও পেলাম না। নামায পড়া শুরু করি। ওকে যেন দেখতে পাই শুধু এই দুয়াই করতাম। ঠিক এর পরের দিনই ওর আর আমার কোচিং একসাথে ছুটি হয়। অনেক দিন পর আবার দেখা হয়।

একদিন ও প্রপস করার ট্রাই করে। কিন্তু ঐ আমি স্কুল ড্রেস পড়া ছিলাম। আর কোচিং থেকে স্কুলেই যাচ্ছিলাম। তাই ওকে দেখে দৌড় দেই। মজার ব্যাপার হল তখনও ও আমার নামই জানে না।

একদিন নাম জানল আর আমাকে দেখলেই খালি নাম ধরে ডাকত। ভয়ে কিছুই বলতাম না। কারন কেও যদি জানে তাহলে আমি শেষ। কিছুদিনের মধ্যেই ওকে ফেসবুক এ পাই। কিন্তু ওকে কিছু বলার সাহস পাইনা। প্রতিদিন ওর প্রফাইল দেখি। কিন্তু কিছু করিনা।
এরপর এই জানুয়ারীতে ওকে সাহস করে দিলাম পোক। সাথে সাথে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট + মেসেজ। আমাকে বলে আমি সেই “আনুভা” নাকি। আমি রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করিনা আপুর ভয়ে। আপু ওকে চিনত। যদি এইসব জানে তাহলে আমাকে খেয়েই ফেলবে। ওকে শুধু মেসেজ দেই আর বলি যে আমিই সেই আনুভা। ও তো খুসিতে আটখানা… ও তখন এস এস সি পরীক্ষা দিবে। আমি আরেকটা আই.ডি. খুলি। যেখান থেকে শুধু ওর সাথেই কথা বলতাম। আমি মোবাইল ইউস করতাম না। তাই ফেসবুকেই ওর সাথে কথা বলি। এর মধ্যেই ও প্রপস করে। শুরু হয় আমাদের রিলেশন। ওর জন্য আমি লুকিয়ে মোবাইল নেই। এর কিছুদিন পর বাসা থেকেই মোবাইল দেয়। সারাদিন ম্যাসেজিং চলত। আম্মু একসময় বুঝতে পারে আমি কিছু একটা করতেসি। তখন মোবাইল নিয়ে নেয়। আমি আবার মোবাইল নেই। সব কিছুই ভাল ভাবে চলছিল। সব সময় কথা হত। আমি ওকে অনেক লাভ করি। সেও আমাকে অনেক লাভ করে। একদিন আমি আর ও দুইজন মিলে কিছু ছবি তুলি। ও ফেসবুকে ছবিগুলো দিতে চায়। আমি নিষেধ করি। আমি ওকে একটা নির্দিষ্ট গ্রুপ এ দিতে বলি যার এডমিন আমি। কিন্তু ও সেই কথা শুনে না। অনেক যায়গায় ছবিগুলো ছড়ায়ে পরে। আমার বোনও দেখে ফেলে। আমার আপু ওকে ফোন দিয়ে অনেক বকে। আমিও ওকে ফোন দিয়ে অনেক কান্নাকাটি করি। আপু আমাকে ওর সাথে ব্রেকআপ করতে বলে। কিন্তু তারপরেও আমি ওর সাথে রিলেশন রাখি। কারন আমার কাছে ও ই ছিল সব। আমি ওকে নিয়েই সুখী ছিলাম। সব সময় ওর খবর নিতাম। ও ঠিকমত বাসায় গেল কিনা, ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করল কিনা। ওর খবর না পেলেই টেনশন শুরু করতাম।

হঠাৎ ওকে একবার আমার সন্দেহ হয়। ওর ফেসবুক আই ডি তে আমি লগ ইন করি। ঢুকে দেখি একটা মেয়েকে ও I lv u বলে। এছাড়া আরও অনেক কিছু দেখি যেইটায় আমার অনেক খারাপ লাগে। আমি ওকে আমার সাথে আর কথা বলতে নিষেধ করি। ও বলে ও নাকি শুধু ফাজলামি করত ঐ মেয়ের সাথে। ওটা নাকি সিরিয়াস না। আমি মেনে নিলাম। কিন্তু খুব কষ্ট হত এমন করতে দেখলে। ওকে আমি অনেক না করতাম। এমন করতে অনেক মানা করতাম। কিন্তু ও পাত্তা দিত না। বলত…ধুর, তুমি চিন্তা কর না, এইটা শুধুই ফাজলামি। এস .এস.সির পর ও ঢাকায় চলে যাওয়ার জন্য ঠিক করল। ঢাকার কলেজ এ ভর্তি হতে চাইল। যেদিন ও চলে যাবে ঐ দিন ওকে ধরে অনেক কান্নাকরি। ওকে বলি জান তুমি প্লিজ চেঞ্জ হয়ে যেও না। ও বলে কিছুই হবে না…

ঢাকা যাওয়ার পর সারাদিন এ কাদতাম। একটা জিনিসই ভয় লাগত। ওর ফ্লারটিং। আমি খুবই কষ্ট পেতাম। ও তাও করত। ও আমাকে বলত জান তোমার হাসি খুব ভাল লাগে…তুমি আমার সুইটু এঞ্জেল…… ২ মাস আগে কি হল বুঝলাম না… একটু কেমন যেন… টাইম কম দিত। তেমন কথা বলত না। আমাকে বলল জান আমাকে ভুলে যাও। আমি এটা শুনে খুবই ভেঙ্গে পরলাম। আমি তো শুধু ওকেই ভালবাসতাম… তাও কেন এমন করত……

এই শব-এ-বরাত এ ওর অনেক জ্বর হয়। নামায পড়তে পারেনা। ওকে জিজ্ঞেস করি তুমি কি চাও। কেও মনে হয় বিশ্বাস করবে না ঐ দিন আমি নিজের জন্য কিছুই চাইনি… সারারাত ওর জন্যই দুয়া করি।

২ মাস আগে ওকে দেখি একটা মেয়েকে I lv u বলতে। কষ্টে আমি কি করব বুঝি না, বুকের ভেতর দিয়ে একদম সব ভেঙ্গে যায়… রাগে ওকে রিমুভ করে দেই। ওকে বলি আর কথা বলবা না আমার সাথে। ফোন ও করবা না। এরপর ও অনেক রিকুয়েস্ট করে। আমি ওকে বলি ঐ মেয়েকে রিমুভ করতে। আমাকে বলে যে ও রিমুভ করবে। এর পর সব কিছু ঠিক মতই চলে। হঠাৎ কি হল জানিনা… এক দিন ও বলে ব্রেক আপ কর। আর ভাল লাগেনা। আমার চারিদিক অন্ধকার হয়ে যায়, ভিতর দিয়ে সব শেষ হয়ে যায়। অনেক রিকুয়েস্ট করে ওকে রাজি করাই। কিন্তু পরের দিনই ও আবার ওর মত পাল্টায়। বলে ওর পক্ষে রিলেশন রাখা সম্ভব না। আমার সব সপ্ন শেষ হয়ে যায়। সারাদিন কিছুই খাইনা। এত দুর্বল হয়ে যাই যে সেলাইন দিতে হয়। আমি জানিনা আমার দোষ কি। তাও ওর কাছে লাস্ত চান্স চাই। কিন্তু ও আমার সাথে কথাই বলতে চায় না। আমি প্রায় মরার মত ছিলাম কয়দিন তখন ওকে অনেক বকি। ও আমার সাথে কেন এমন করে। কিন্তু ও আমাকে কোন কারন ছাড়াই ছেড়ে দেয়…

অনেক চেষ্টা করে এই নভেম্বর এর ৩ তারিখ ওর এক ফ্রেন্ড এর হেল্প নিয়ে ওর সাথে দেখা করি। ওর জন্য ঐ দিন একটা কবিতা লিখে নিয়ে যাই আর ২ টা গোলাপ নিয়ে যাই। কিন্তু ও কিছুই নেয়না। বলে যে ওর অন্যখানে রিলেশন আছে। আমার সব শেষ হয়ে যায়। কাঁদতে কাঁদতে বাসায় চলে আসি। গোলাপ দুইটা একটা বাচ্চা কে দিয়ে দেই… সব সপ্ন আমার চোখ দিয়ে পানির মত পরছিল…

আমি জানিনা “”মেহরাব”” কেন আমার সাথে এমন করল। ও বলে আমি নাকি মিত্থুক। এর পরেও আমি ওর ছবি দেখি, ওর জন্য দুয়া করি… ওকে ফোন দিলে ও আমাকে গালি দেয়। দূরে সরিয়ে দেয়। তারপরেও আমি কেন জানি কান্না করি ওর জন্য। এক সময় ও আমার চোখ মুছে দিয়ে কাঁদতে নিষেধ করত… এখন তার জন্যই আমাকে সারাদিন কাঁদতে হয়….

লিখেছেনঃ Tahsfia Binte Zahir Anuva

About Borhan Uddin

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …