Home / মনের জানালা / অবাক তুমি সোহানা

অবাক তুমি সোহানা

2২০১০ এর ১৬ই ফেব্রুয়ারী।

রাতের বেলা পড়াশোনা করছে সোহান। ১ এপ্রিল তার HSC পরীক্ষা। স্বপ্ন আছে SSC এর মত HSC তেও জিপিএ ৫ পাওয়ার।

হঠাৎ তার মামার ফোন আসল। Conference এ তার হবু মামীর ফ্রেন্ড সোহানা। সোহানাও পরীক্ষা দিবে তাই মামা দুই জনের পরিচয় করিয়ে দিল। সোহানার হেল্প ও সাজেশন্স চাই। এক রাতেই সোহানাকে বেশ হেল্প করল সোহান। সোহানা Impressed. পরদিন সকালে সোহানা সুইট মেসেজ দিয়ে সোহান এর ঘুম ভাঙ্গাল। যে ছেলে ১০ টার আগে ঘুম থেকেই উঠে না , সে সকাল ৭ টায় উঠে সোহানা কে বিভিন্ন ভাবে পড়াশোনায় সাহায্য করতে লাগল। এভাবেই দুইজন একে অপরের সাথে ধীরে ধীরে পরিচিত হতে লাগল।

এরই মাঝে সোহানার পরিচয় হল সোহানের ফ্রেন্ড আপনের সাথে। “GooD BoY” সোহান এখন পড়াশোনা ফেলে সারাক্ষণ সোহানার সাথেই কথা বলে। সোহান এর স্বভাবতই জানতে ইচ্ছে হয় সোহানা দেখতে কেমন। একদিন সোহান সোহানাকে এই কথা জিজ্ঞেস করেই বসে। সোহানা বলে সে অনেক সুন্দরি। সোহান এর মামাও তাই বলে। সোহান নিজেই বুঝতে পারে যে সে ধীরে ধীরে সোহানার প্রতি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সোহানা সোহান এর মোবাইল এ ২২০০ টাকা ফ্লেক্সি করে।

অবশেষে সোহান সোহানাকে ৩০ মার্চ প্রপস করে। সোহানা ‘হ্যাঁ’ না বললেও ‘না’ বলেনা। তবে তাদের মধ্যে প্রতিদিনের মত কথা বার্তা চলতে থাকে। পরীক্ষা শেষ হয় ১৮ই মে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরদিনই সোহানা সোহানকে বলে তাদের মাঝে যা ছিল তা শুধু ফ্রেন্ডশিপ। এ কথা বলে সে তার মোবাইলও বন্ধ করে দেয়। সোহান টি&টি তেও ফোন করতে পারেনা। ভয়ে মামাকেও বলতে পারেনা।

সিগারেট খাওয়া শুরু করে। Practical পরীক্ষা গুলো যা তা দেয়। এভাবে চলতে থাকার পর ৩ জুলাই সোহানা ওকে আবার ফোন দেয়। ফোন করে বলে যে সোহানা ওকে শুধু টেস্ট করে দেখল। সোহান ওকে কিছু বলেনা। কোন প্রশ্নও করেনা। সব কিছু মেনে নেয়। ১৫ জুলাই Result বের হয়। সোহানা পায় ৪.৭ এবং প্রেমের ফলস্বরূপ সোহান পায় ৩.৫। সোহান এর পরিবার ওকে অনেক মারধর করে। ওর মা কসম দেয় সে যেন ওই মেয়ের সাথে আর কথা না বলে। মায়ের আদেশ অমান্য করে সোহান। অন্যদিকে সোহানা ওকে বলে সে এই সম্পর্ক আর রাখবেনা। সোহান এর রেজাল্ট দিয়ে সে কোন কিছু করতে পারবে না।

সোহান এর বাবা মা ওকে কসম দিয়ে একটি প্রাইভেট ভার্সিটির ফার্মেসীতে ভর্তি করিয়ে দেয়। বলে সে আর কোন দিন প্রেম করতে পারবেনা। সে করেও নি। কিন্তু এর পরেও সে সোহানাকে ভুলতে পারেনি।

১০ নভেম্বর সোহানা ওকে আবার ফোন দেয়। সে বলে ওর সাথে আপন এর সম্পর্ক হয়েছে। তারা দুই জন মিলে সোহান কে সে——ই ২২০০ টাকার জন্য চাপ দেয়!! সোহান অনেক কষ্ট করে টাকা যোগাড় করে দেয়। এর পর আবার যোগাযোগ বন্ধ। সে তার ভার্সিটিতে সবাইকে রূপসী সোহানার কথা জানায়। ভালই রেজাল্ট করতে থাকে ও। এর সাথে সাথে সে মনে মনে সোহানার ছবি আঁকতে থাকে। সে কেমন সুন্দর? সারিকা? দিপিকা? আকসারা?

১৩ই মার্চ! আবার ফোন দেয় সোহানা। বলে যে তার সাথে আপন এর সম্পর্ক নাই। সে আবার ওকে চায়। ২৭ তারিখ সোহান এর First Semester পরীক্ষা। সোহান এর মনে পরে এক বছর আগের কথা। সব কিছু মনে করে সে নিজেই ফোন কেটে দেয়।

১৩ই মে তাদের আবার প্রেম হয়। ভাল হয় সোহান এর Result. সোহানা বার বার বলে একটি Private ভার্সিটি তে পরে তুমি কি করবে!! ভেঙ্গে যায় সোহানের মন। ২৯ তারিখে সোহানা তাকে Facebook এ অ্যাড করে। সোহানের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরে। এই ছবিই কি সে মনে মনে এঁকেছিল ?? সোহান কোন দিনই ওর রূপ কে ভালবাসেনি। কিন্তু সোহানা কেন ওকে মিথ্যা বলল!

সোহান ওর মামা কে জিজ্ঞেস করলে মামা বলে আমি তো মজা করসিলাম। সোহান এর পরেও সব মেনে নেয় কিন্তু সোহানা আবার সেই Dialogue টা দিয়ে ব্রেক-আপ করে…”Private এ পড়ে তুমি কি করবে?”

এদিকে সোহানের 2nd semester এর result দেয়। অনেক খারাপ হয়।

আর কতদিন এভাবে চলবে??

সোহানা কি শুধু আসবে আর যাবে??

আমার প্রেম কি ভুল ছিল??

সোহানা কি ঠিক ছিল??

এখন আমি কি করব??

দিয়েছেন- Wonderboy Likhon

About Kabir Hossain

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …