Home / মনের জানালা / অপেক্ষা

অপেক্ষা

tyyuuuitgfgজীবনে কখনো প্রেম আসবে, ভাবিনি। আমার ভাবনার সীমানা ছাড়িয়ে আমার জীবনে ও প্রেম এসেছিল…

আট বছর আগের কথা। আমি তখন এইচ এস সি পরীক্ষার্থী। সাইন্স নিয়ে পড়ি। ভালো ছাত্র ও বলা যায়!!! আমার কাছ থেকে সবার A+ ই প্রত্যাশা ছিল। তাই পড়ার চাপ টা ও ছিল খুব বেশি। আমার বন্ধুরা যখন আড্ডা দিয়ে সময় কাটাত, আমি তখন পড়ার টেবিল এ অতি মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করছি! অনেক সময় খুব খারাপ লাগত। কিন্তু পড়াশোনা ঠিক মত না করলে আমি ও যেন মনে শান্তি পেতাম না।

পরীক্ষা খুব কাছে। তাই খুব বেশি করে পড়ছি। প্রতিদিন রাত ২ টা ৩ টা পর্যন্ত পড়তাম। আমার প্রস্তুতি টা খুব ভালো ছিল, অন্তত আমার তাই মনে হচ্ছিল। পরীক্ষার আগের দিন রাত বেশি না জেগে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরের দিন বাংলা পরীক্ষা।

সকালে আরও কিছু টা পড়ে সবার কাছে দোয়া চেয়ে পরীক্ষার জন্য রওয়ানা হলাম। রিকশায় করে যাচ্ছি। পরীক্ষার হল আমাদের বাড়ির বেশ কাছেই। ১০ মিনিট লাগত পৌছতে। তো, রিকশাতে করে যাচ্ছি। হঠাৎ আমার ডান দিকে চোখ পড়লো। আমি যা দেখলাম, তাতে কোনোভাবেই চোখ চোখ ফেরাতে পারছিলাম না। আমি একটা মেয়ে কে দেখলাম। আমি ভাবলাম, মানুশ কি এত অপরূপ সুন্দর হতে পারে? পরীক্ষার চিন্তার বদলে এই প্রশ্নই আমার মাথায় ঘুরতে লাগল।

আমি কিছুতেই ওই মেয়েটার মুখ ভুলতে পারছি না। জীবনে কোন মেয়ের দিকে তেমন ভাবে তাকাই নি। কিন্তু মেয়ে টি কে দেখার এক আশ্চর্য ইচ্ছা আমাকে পেয়ে বসল। কিন্তু বেশিক্ষণ সেই দেখা টা স্থায়ী হয় নি, ওর রিকশা আগে আগেই চলে গেল। মেয়েটাকে দেখে মনে হল, ও ও পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। ভাবলাম, যদি ও আমাদের সেন্টার এ পরীক্ষা দেয়, তবে ওকে আবার দেখতে পারব। তো, সেন্টার এ পৌঁছলাম। এদিক সেদিক তাকাতে থাকলাম। এক হল থেকে আরেক হল এ যাচ্ছি, যদি মেয়ে টি কে দেখতে পাই… কিন্তু কোথাও পেলাম না। বিসন্ন মনে নিজের হল এ ঢুকলাম। ঢুকেই আমি অবাক!!! আরে!!! ও তো এখানে!!! দেখলাম আমার পেছনের বেঞ্চ এ ও বসেছে!!! আমি বোঝাতে পারব না তখন আমার কি ভালো লাগছিল। জানি না কেন আমি এত খুশি হয়েছিলাম। আমি কি ওকে ভালবেসে ফেলেছি?

হয় তো তাই। প্রথম দেখাতেই প্রেম!!! ব্যাপার টা অনেকটা সিনেমার মত হয়ে গেল, তাই না???!!!

যা ই হোক, আমি ওর সামনে বসেছিলাম। পরীক্ষা শুরু হতে তখন ও আধা ঘণ্টা দেরি। ওর সাথে ওর ভাই ছিল। আমি শুধু চিন্তা করছি, কখন ওর ভাই টা যাবে, কখন ওর সাথে কথা বলব!!! পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট আগে ওর ভাই চলে গেল। আমি সুযোগ পেলাম!!! ভাবলাম, কাজে লাগাতেই হবে!!!

আমি ওর সাথে কথা বলা শুরু করলাম………

-হাই, আমি স্বপন, তুমি?

-হ্যালো, আমি মিম।

-তুমি কোন কলেজ থেকে এসেছ?

ও ওর কলেজ এর নাম বলল। আমি ও বললাম। এই ভাবে ২ ৩ মিনিট কথা বললাম। তারপর পরীক্ষা শুরু হল। প্রশ্ন দেখে আমার কাছে বেশ সহজ ই মনে হল। ও ও দেখলাম বেশ খুশিতেই প্রশ্ন পড়তে শুরু করল।

তো, পরীক্ষা দিচ্ছি, হঠাৎ খেয়াল করলাম, ও কি যেন পারছে না, মনে করার চেষ্টা করছে। আমি ওকে বললাম, হেল্প করতে পারি?

ও প্রশ্নটা বলল… আমি জানতাম, তাই ওকে বলে দিলাম। ও যে তখন কি খুশি হয়েছিল!!!

তখন থেকেই আমরা প্রায় বন্ধু হয়ে গেলাম। ও কিছু না পারলে আমায় জিজ্ঞেস করত, আমি না পারলে ওকে জিজ্ঞেস করতাম। বলা বাহুল্য, যত টুকু মনে হল, ও বেশ ভালো ছাত্রী।

এই ভাবে আমি সবকটি পরীক্ষা দিয়ে দেই। আমার মনে হল, বেশ ভালো হয়েছে আমার পরীক্ষা, তাই আমি সন্তুষ্ট ছিলাম, মনে হল মিম ও ওর পরীক্ষায় সন্তুষ্ট।

আমি মনে মনে ওকে ভালবাসতাম। পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার পর তো ওর সাথে দেখা হবে না!!! তাই ওর ফোন নাম্বার আর বাড়ির ঠিকানা টা নিয়ে নিলাম। তার পর থেকে ওর সাথে প্রায় ই ফোন এ কথা বলতাম। আমি বেশ ভালো বন্ধু হয়ে গেলাম। বিভিন্ন নোট, বই আনার বা ওকে দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার ওর বাড়িতে ও গেছি, কারন ও ও সাইন্স এর ছাত্রী ছিল আর আমি মেডিকেল এ ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদি ও রেজাল্ট বের হয় নি, তবে আমি জানতাম যে আমি এ+ ই পাব।

তো, এই ভাবে চলতে থাকল। আমি তখনো ওকে আমার ভালবাসার কথা বলতে পারি নি। হয় তো বলতে সাহস ই হয় নি। এক সময় আমাদের রেজাল্ট বের হল। আল্লাহর রহমতে আমি আর মিম, দুই জন ই এ+ পেলাম। আমি আমার রেজাল্ট এর জন্য যতটা না খুশি হয়েছি, ওর রেজাল্ট জেনে তার চেয়ে অনেক বেশি খুশি হয়েছিলাম। খুব বেশি ই ভালোবেসে ফেলেছিলাম ওকে। আমার বই এর আনাচে কানাচে ওর নাম লিখে রাখতাম। হাত কেটে রক্ত দিয়ে ওর নাম লিখেছি অনেক বার। কতবার চেষ্টা করেছি ওকে বলতে যে আমি তোমাকে ভালবাসি, কিন্থু একবার ও বলতে পারি নি।

তো, সরকারি মেডিকেল এ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলাম। ওকে বলেছিলাম, বেশ খুশিই হয়েছিল ও…

ওকে আমি ভালবাসি, খুব খুব খুব বেশি ভালবাসি। অনেকদিন এই কথা টি লুকিয়ে রাখলেও বেশি দিন লুকতে পারি নি। একদিন খুব বেশিই সাহস করে ওকে বলে দেই কথা টি।

ওর উত্তর ছিল, “তোমার মত বোকা হাদা রাম আমি কোথাও দেখিনি, এত দেরি করে কথা টি বললে কেন?”

আমি চুপ হয়ে রইলাম। কোন কথা বললাম না। ও বলল, রাতে ফোন এ উত্তর দেবে। তো আমি ওর ফোন এর জন্য অপেক্ষা করে রইলাম। কিন্তু ও ফোন করল না। একটা মেসেজ পাঠিয়ে দিল, তাতে লেখা ছিল, I LOVE YOU!!!

আমি কত টা খুশি হয়েছিলাম বলে বোঝাতে পারব না। আমি ওকে ফোন করে বললাম মুখ এ বলতে, ও বলল, স্বপন শোন, লজ্জা বলে একটা ব্যাপার আসে, ভুলে যেয়ো না… আমি বললাম, ঠিক আছে, ঠিক আছে!!!!!!!!

তার পর থেকে শুরু হল আমার প্রেম। ভালবাসি, এই কথা টা তার পর যে কত বার বলেছি, গননা করে বলা মুশকিল!!!

ওকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন মনে একে ফেলি। জীবন কে নতুন ভাবে সাজাই……।।

যত কথা মনে ছিল, সব ওকে বলতাম, ও ও আমাকে ওর সব কথা বলত। খুব ভালবাসতাম ওকে, জানতাম ও ও আমাকে ভালবাসে…

এই ভাবে দিন চলে যেতে লাগল… একদিন দুইদিন করে ৩ বছর কেটে গেল…… আমাদের ভালবাসা যেন আগের থেকে ও গভীর হয়ে গেল। ওকে নিয়ে অনেক দিন ঘুরে বেরিয়েছি… দিগন্তজোড়া মাঠ হাত ধরে পাড়ি দিয়েছি… আমরা আমাদের সম্পর্কের কথা আমাদের কারো মা বাবাকেই বলি নি। এমন কি আমাদের কাছে কিংবা দুরের কোন বন্ধু ও জানত না আমাদের সম্পর্কের কথা……

একদিন ও আমাকে জরুরি প্রয়োজনে একটা জায়গায় দেখা করতে বলল… আমি দেরি না করে সেখানে গেলাম…।

ও আমায় বলল, স্বপন, আমি জানি তুমি আমাকে খুব ভালোবাসো, এবং তুমি ও জানো আমি তোমাকে কতখানি ভালবাসি। যদি আমার জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তুমি করবে?

আমি বললাম, তোমায় ভালবেসেছি, তোমার জন্য যত দিন ই হোক না কেন, আমি অপেক্ষা করব…

ও বলল, “আগামীকালই আমি আমেরিকা চলে যাচ্ছি। সাথে আমার সমস্ত পরিবার ও যাচ্ছে। কিন্তু স্বপন, তুমি আমায় ভুল বোঝো না। তুমি চিন্তা কর না, আমি বছরখানেকের মধ্যেই ফিরে আসব। আমি আমার মা বাবাকে তোমার কথা বলব। আমি জানি তারা রাজি হবেন। তার আগে তুমি আমার জন্য একটু অপেক্ষা করতে পারবে না?

মিম এর কথা গুলো শুনে খুব কষ্ট হচ্ছিল আমার। কিন্তু আবেগ কে নিয়ন্ত্রন এ এনে ওকে বললাম, ঠিক আছে, তুমি যাও, খুব ভালবাসি তোমাকে, আমায় কখনো ভুলো না…… তাড়াতাড়িই ফিরে এস। আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব……।।

————— ওর সাথে সেটিই ছিল আমার শেষ কথা। আজ পাঁচ বছর হয়ে এল… কিন্তু ও ফিরে আসে নি… ওর সাথে আমার আর কোন যোগাযোগ ও হয় নি। ওখানে গিয়ে ও একটা ফোন ও করে নি আমাকে। ওর কোন রিলেটিভ কে আমি চিনতাম না যার কাছ থেকে ওর কোন খবর নেব বা নাম্বার জোগাড় করব।

জানি না, ও হয় তো মা বাবার চাপে অন্য কাউকে বিয়ে করতে হয়েছে, হয়তো বহু দুরের কারো জন্য নয়নের জল ফেলেছে, কাউকে বলতে পারে নি……।।

আবার বলছি, খুব ভালবাসতাম তোমাকে, খুব বেশিই ভালবাসতাম। এখন ও ভালবাসি।

খুব বেশি বিশ্বাস করতাম তোমাকে, এখন ও করি…

আর সেই বিশ্বাস থেকেই বলছি, যত দিন বেঁচে আছি, শুধু তোমাকেই ভালবেসে যাব।

থাকব শুধু তোমারই অপেক্ষায়… যদি ফিরে আসো, একটু ভালোবাসো……………

————————————০০—————————————–

এটি আমারই এক বন্ধু আদিয়ান এর বড় ভাই এর জীবনে ঘটে গেছে। ওর মুখ থেকেই ঘটনা টি শোনা… আমি যতটুকু পেরেছি, , সাজিয়ে, গুছিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি। কোন ভুল হয়ে থাকলে প্লিজ ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

দিয়েছেন তাওকির…

About Kabir Hossain

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …