Home / খেলা / সেমিফাইনাল যখন নিশ্চিত

সেমিফাইনাল যখন নিশ্চিত

u 19ড্রেসিংরুম থেকে ছুটে আসা স্রোতটা কিসের আনন্দে? যদি বলেন নেপালকে হারানোর আনন্দে, তাহলে দশে বড়জোর পাঁচ নম্বর পেলেন আপনি। নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ দল এই বিশ্বকাপে কিছুটা চমক দিয়ে থাকতে পারে। তাই বলে তাদের হারিয়ে বাংলাদেশের মতো টেস্ট খেলুড়ে একটা দেশের ড্রেসিংরুম থেকে ‘বিজয় র্যালি’ ছুটে যাবে জয়ের নায়কদের দিকে, এ কেমন কথা! জয়টা তো প্রত্যাশিতই ছিল।
জাকির হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের দিকে সতীর্থদের ওই দৌড় আসলে যতটা না নেপালকে হারানোর আনন্দে, তার চেয়ে বেশি যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার অভাবিতপূর্ব অনুভূতির। যেকোনো পর্যায়ের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এমন দিন বাংলাদেশ আগে দেখেনি। সেমিফাইনাল মানেই ফাইনালের হাতছানি, আর ফাইনাল হলো ছোটদের ক্রিকেটে বিশ্ব-শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের টিকিট। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সেটির সুবাস পেতে শুরু করার পর রক্তে উন্মাদনা আসাটাই স্বাভাবিক। যুব ক্রিকেটাররাও তো মানুষ!
তবে স্টুয়ার্ট লর মতো পেশাদার ক্রিকেট ব্যক্তিত্বরা খেলার মাঠে অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক রোবট হয়ে থাকেন। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অস্ট্রেলিয়ান পরামর্শক ম্যাচ শেষে ছাত্রদের মনে করিয়ে দিলেন, নেপালকে হারিয়ে শুধু দিনের কাজটাই শেষ হলো। আজকের দিনটি বিশ্রাম নিয়ে কাল থেকে সেমিফাইনালের ভাবনা শুরু করতে হবে। এরপর সুযোগ এলে ভাবা যাবে ফাইনাল নিয়েও। রাতের ‘স্পেশাল’ টিম ডিনারেও নিশ্চয়ই কথাটা সবাইকে আরেকবার মনে করিয়ে দিয়ে থাকবেন ল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসানই এলেন। অধিনায়ক হিসেবে তো বটেই, ম্যান অব দ্য ম্যাচ হিসেবেও। ৯৮ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর জাকির আর মেহেদী মিলেই তো জেতালেন ম্যাচ! দূর থেকে দেখে যদিও একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের যুবাদের পেয়ে বসেছে হারের শঙ্কা, ড্রেসিংরুমে নাকি মোটেও সে রকম দোলাদুলি ছিল না। কোচ মিজানুর রহমানের ভাষায়, ‘কখনোই মনে হয়নি আমরা ম্যাচ হারব। জাকিরের ওপর আস্থা ছিল, শেষ দিকেও আমাদের ভালো ব্যাটসম্যান আছে।’
বিশ্বাসটা সঞ্চারিত হয়েছে জাকির-মেহেদীর মধ্যেও। অধিনায়ক মেহেদী বলছিলেন, ‘পরিকল্পনা ছিল ১০ ওভার দেখে খেলা। আমাদের শেষের দিকের ব্যাটসম্যানরা খুবই ভালো। উইকেট হাতে রাখতে পারলে শেষের দিকে আমরা অনেক ভালো খেলতে পারি। সেটাও প্রমাণ হয়েছে। শেষ দিকে ১০ ওভারে ৭০ রানের মতো লাগত, আমরা কিন্তু ১০ বল আগেই খেলা শেষ করেছি।’
বেশি বেশি বাউন্ডারি না মেরে এক-দুই রান করে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখার পরিকল্পনাটা সাজিয়ে দেন জাকির। আগের জেতা তিন ম্যাচে ব্যাট হাতে জাকিরের ফর্ম ততটা ভালো ছিল না। কাল উইকেটে তাঁর ভূমিকা এবং রানে ফেরাটাকে তাই গুরুত্ব দিয়েই দেখছেন অধিনায়ক। তবে সবচেয়ে বড়, দলের মধ্যে থাকা বোঝাপড়াটা। এই দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় প্রায় দুই বছর ধরে একসঙ্গে খেলছেন। অধিনায়কের সঙ্গে কোচও এ ব্যাপারে একমত যে প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পেছনে বড় প্রভাবক এই বোঝাপড়া। আর তাতে চাপ জিনিসটাই জেঁকে বসতে পারেনি দলের ওপর। ‘আমরা কখনোই চাপ নিইনি। নেপাল শুরুর দিকে অনেক রান করেছে। এটা ২৭০-২৮০ রানের উইকেট হলেও আমাদের বোলাররা ভালো বোলিং করে ওদের কম রানে আটকে দেয়,’ বলছিলেন বাংলাদেশ যুব অধিনায়ক।
বোলারদের সাফল্যের সঙ্গে নাজমুল হোসেনের দুর্দান্ত ফিল্ডিং, পরে ব্যাট হাতে জাকির-মেহেদীর দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা—সবকিছুর যোগফলেই উঁকি দিচ্ছে যুব বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা। মিরপুরের দর্শকদেরও ধন্যবাদ দিলেন অধিনায়ক। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এই দর্শকদের সব সময়ই পাশে পান মাশরাফি-সাকিবরা। কাল তাঁদের সমর্থন শক্তি জোগাল যুবাদেরও। নিউজিল্যান্ড-আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হিমালয় হয়ে ওঠা নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ হেরে গেল সেই শক্তির কাছে। মেহেদীর কথায় কৃতজ্ঞতা, ‘এত দর্শকের সামনে এর আগে কখনো খেলা হয়নি। সবাই আমাদের সমর্থন জানানোয় খুব ভালো লেগেছে। এটা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। তাদের সমর্থন উপভোগ করেছি।’
ক্রিকেটে উপভোগের আদান-প্রদান দ্বিপক্ষীয়। ক্রিকেটারদের জন্য দর্শক, আর দর্শকের জন্য ক্রিকেটাররা। ১১ ফেব্রুয়ারির সেমিফাইনালেও নিশ্চয়ই সেটি আরেকবার প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে মিরপুরের দর্শক ও মেহেদীর দল।

About Rajib

Check Also

ক্যাচ  ছেড়ে ম্যাচ হাড়ল-হায়দরাবাদ

ক্যাচ ছেড়ে ম্যাচ হাড়ল-হায়দরাবাদ

ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস। কথাটার মর্মার্থ কাল হাড়ে হাড়ে টের পেল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ইনিংসের …