Home / মনের জানালা / ”সেই দিনের প্রতীক্ষায়” পর্ব-২

”সেই দিনের প্রতীক্ষায়” পর্ব-২

sei diner protikkhayএর দু সপ্তাহ পর অভি এখন চিটাগাং।
” ইইইইই করো তো সবাই! ” -নিজেও হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে অরন্যা। জেলেপাড়ার কিছুটা কাছে নদীর পাড়ে ওরা। মাঠের পাশ দিয়ে গেছে নদী। মাঠের বাঁ দিকে দু এক মিনিট হেঁটে জেলেপাড়া। ওখানকার বাচ্চাগুলো মাঠের একটা পুরোন চায়ের দোকানে খেলছিল একটু আগে। এখন, কেউ মাথায় তাদের ঝুরিগুলোকে ক্যাপ বানিয়ে আবার কেউ কেউ ফিল্মের নায়ক নায়িকার মতো দাঁড়িয়ে অরন্যার ক্যামেরায় ছবি তোলাচ্ছে। ওদের সাথে অরন্যা নিজেই যেন বাচ্চা হয়ে গেল। অভি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। ঠোটের কোণে ক্ষণে ক্ষণে হাসি ফোটে ওঠে।
অরন্যার থেকে একট্টু দূরে দাঁড়ায়। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি।
” ওই! কি দেখস? ” -বাচ্চাগুলোর থেকে অভির দিকে সরে আসে অরন্যা।
-” অরো, আমরা বাসায় কখন যাবো রে? ”
” তা তো জানি না। ওরা বলসে ওদের বাসায় যাইতে। ওরা খাওয়াবে। ”
-” কি??? থাপ্পড় খাবি কিন্তু! চিনি না, জানি না ওদের। আর ওরা আমাদেরকে কিভাবে খাওয়াবে? ” -অরন্যার কথা শুনে অভি চরম ক্ষেপে যায়।
” উফ্! ঐটা আমি জানি। তুই আন্টিকে কল করে বলে দে দুপুরে আমার সাথে খাবি। আর ফিরতে বিকাল হবে। ” -নিজের কথা শেষ করে অরন্যা আবার চলে যায় বাচ্চাগুলোর মাঝখানে।
প্রায় ১০/১২ টা বাচ্চা ওকে ঘিরে। সবার বয়স ৫-৮ এর মধ্যে হবে। অভি ওর মাকে কল করে অরন্যার কথা বলে। ওপাশ থেকে মা অভির কথায় উত্তর হিসেবে বড় করে কয়েকবার হাসলেন। অরন্যার কান্ড শুনে শুধু এটুকু বললেন, “” বেশি বৃষ্টিতে ভিজবি না তোরা। আর পারলে ওকে বাসায় আনিস আজকে। “”
অভি পারত কল না করে চলে যাওয়ার জন্য জোর করতে। কিন্তু কোন এক কারণে সে তা’ই করল যা অরন্যা বলল। মেয়েটা অদ্ভূদ। ওর একটা বাক্য শুনেই কিভাবে জানি মানুষ ওর সাথে মিশে যায়। দুপুর তখন সাড়ে বারোটা। আকাশ ভারি মেঘে ঢাকা তখনো বৃষ্টি থেমে গেছে প্রায়। কেমন জানি সন্ধ্যাবেলার মত। জায়গাটা থেকে একটু দূরে গিয়ে কথা বলছিলো অভি তাই এখন কাছে যায়।
-” তো, প্ল্যান কি এখন? ”
” আন্টি হ্যাঁ বলসে নাহ? আমি জানতাম! ”
-” হুমম। কি করব এখন? কই যাবো? ”
” জানি না। দাঁড়া ওদেরকে জিজ্ঞেস করি! ”
বাচ্চাগুলো এতক্ষন নিজেদের মধ্যে কি জানি অলোচনা করছিলো। মেয়েটা ওদের মধ্যে মিশে গেলো। তারপর সবাই একমত হলে আবার অভির কাছে ফিরে আসে।
” আমরা ফাবিহাদের বাসায় যাবো। ফাবিহা আমার বান্ধবী। ও আমাদের ওদের বাসায় নিয়ে যাইতে চাইসে। ওর মা পাপা নাকি অনেক ভালো। রাগ করবেনা। ”
-” এখন ফাবিহা কে? ” -অভি অবাক হয়ে প্রশ্ন করে।
ওর প্রশ্ন শুনে অরন্যার পিছন থেকে একটা ৫/৬ বছরের মেয়ে এসে বলে,
“” ভাইয়া আমি। আপনারা আমাদের বাসায় যাবেন। “”
পিচ্চিটার পরনে লাল গোলাপী ফ্রক। ছোট ছোট ফুলের প্রিন্ট কাপড়। গলায় বড় লেইসের কলার। পায়ে হলুদ রাবার স্যান্ডেল আর মাথায় তেল দেয়া চুলে দুটো ঝুটি। গায়ের রং হলদে। ওর মুখে পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্পাপ হাসি দেখে অভি কিছুক্ষণ সব ভুলে যায়। তারপর বাস্তবে ফিরে এসে অরন্যাকে বলে,
-” ড্রাইভার কাকাকে বলে দে তাহলে কখন নিতে আসবে। আর এই বৃষ্টিতে ওনাকে দাঁড় করাইয়া রাখা ঠিক হবে না। ”
” ঐটার চিন্তা নাই। আমি আগেই মাকে বলে দিসিলাম, যাওয়ার সময় কল করে দিব। এতোটা গাধা না! ”
-” এর চেয়ে বেশি বলেই তো চিন্তা হয়। ”
অরন্যা বাচ্চাদের মতো মুখ ভেংচিয়ে ওদের সাথে হাঁটা শুরু করে। বৃষ্টি এতোক্ষনে পুরোপুরি থেমে গেছে। কিন্তু মেঘগুলো এখনো মুখ ভার করে আছে। পিচ্চিগুলো হাঁটতে হাঁটতেও পোজ দিয়ে যাচ্ছে অরন্যার জন্য। হেসে সবাই গড়াগড়ি খায়। ওদের পেছনে অভি, হাতে বড় প্লাস্টিকের ব্যাগ। ওটার ভেতর ওদের দুজনের ভেজা ছাতা। অরন্যা ওর মতো মিশে গেছে বাচ্চাদের সাথে। কিন্তু অভি হঠাত্ ভেবে দেখল কি হচ্ছে। কেন ও অরন্যার সাথে হেঁটে যাচ্ছে। ও এসেছিল ১০টায়। এখন প্রায় আড়াই ঘন্টা হতে চলেছে। কিন্তু এসময়ের মধ্যে অরন্যার সাথে ওর একবারও ঠিকমত কথা হয়নি। আরেকজন নিজের কাজ সব করে গেছে। ব্রিজ, নদীর ছবি তুলে এখন…..
এর মাঝে বৃষ্টি শুরুতে একটু পড়ে এখন একদম থেমে গেছে। এতসব কথা একসাথে হলে অভি ভুলে যায় সে আসলে কি নিয়ে চিন্তা করছিলো।
“” আম্মু! আব্বু! একটু এসে যান। দেখেন কে আসছে। “” ফাবিহার আওয়াজে অভির ঘোর ভাঙ্গলো। ওরা ফাবিহাদের বাসায় এসে গেছে। সেমি পাকা একটা বাড়ি। টিনশেড। টিয়ে রঙের দেয়াল। বাচ্চাগুলো কোথায় যেন চলে গেছে। অরন্যা আর ফাবিহা একজন আরেকজনের হাত ধরে অভির পাশে দাঁড়ানো। ফাবিহার ডাকে ভেতর থেকে ওর মা বাবা বের হয়ে আসেন। অরন্যার হাতের প্রফেশনাল ডি.এস.এল.আর ক্যামেরা দেখে ওঁরা ওদের দুজনকে সাংবাদিক মনে করে। অরন্যাও হ্যাঁ বলে দিলে অভি ওকে পিছন থেকে চিমটি কাটে। অরন্যা যে ক্যামেরার কেবল লেন্স ঠিক করে ছবি তুলতে জানে তা অভি সবচেয়ে ভালো জানে। কীভাবে যেন ওর তোলা ছবিগুলো অনেক সুন্দর আসে। অভির চিমটি খেয়ে অরন্যা ওর দিকে চোখ দুটো বড় বড় করে তাকিয়ে বুঝিয়ে দেয়, ” i know what i’m doing. ” ঘরের ভিতরে ঢুকে ওরা দেখে ফাবিহাদের তেমন জিনিসপত্র নেই। তিনজন মানুষ। তাই ঘরটাও ছোট। কিন্তু যা আছে সব সুন্দর করে সাজানো। পেশায় জেলে হলেও ফাবিহার বাবা শুদ্ধ বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু চাটগাইয়া ছোঁয়া থেকেই যায় মুদ্রা দোষ হয়ে। অভি নিজের নাম বলে খালি। আর বাকি সব কথা অরন্যা বলে যায়। অভি দেখে ও কিভাবে ওঁদের সাথে গল্প জুড়ে দেয়। ও দেখে যায় কিন্তু শুনতে চেষ্টা করেও পারে না। কোন কথা ওর মাথায় ঢুকছে না। প্রায় এক ঘন্টা হয়ে গেছে। এতক্ষণে সম্বোধনেও পরিবর্তন এসেছে। ফাবিহার বাবা মা অরন্যার কাকা আর কাকিমা। আর ফাবিহার জন্য ও অরো দিদি। কিন্তু ফাবিহা ওকে এখনো ভুলে আপু আর আপনি করে বলে। রান্নাঘর থেকে ফাবিহার মা এসে বললেন
“” খাবার লাগাবো। যা আছে খেয়ে যাবেন। আপনারা হাত ধুয়ে বসেন। “” -তিনি ছাড়া সবাই হাত ধুতে গেলে অভির অস্বস্তি লাগে।
“” সংকোচ করিয়েন না। অনেক সাংবাদিক এসে খেয়ে যায় এই পাড়ায়। নিজের ঘর মনে করেন। “” -ফাবিহার বাবা অভির কাধে হালকা করে চাপ দিয়ে বললেন। হাত ধুয়ে অভিও তাঁর সাথে বসে যায় খেতে। কিন্তু একি! অরন্যা আর ফাবিহা কই?
তখনি হাতে বাটি নিয়ে আসে তিনজন। ফাবিহা, ওর মা আর অরন্যা। সব বাটি আনা হলে ফাবিহা বুঝিয়ে দেয় কোনটায় কি। সেদ্ধ চালের ভাত, আলু টমেটো দিয়ে ছোট মাছ, কুমড়ো শাক ভাজি আর হ্যাঁ, অভি অরন্যার জন্য ডিম ভাজি।
টিপিকালি পিওর বাঙ্গালি আপ্যায়ন। কিন্তু এতে জেলেপাড়ার আন্তরিকতা একটু বেশি। অরন্যা আর ফাবিহা ডিম ভাগ করে খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। অভিও কোনমতে খেতে শুরু করলো। মাঝখানে অনেক কথা হয়ে যায়। কিন্তু অভির মাথায় আবারো কিছু ঢুকে না। খাওয়ার পর, ” প্রায় দুই ঘন্টা হয়ে গেল কাকিমা। এবার আসি? বাসায় মা চিন্তা করবে। ” বলে অরন্যা উঠলো। ফাবিহার মা বারবার বললেন আবার যেতে। ওর বাবাও অরন্যাকে কি কি জানি বললেন। ওর হাতে ফাবিহার মা ক্যামেরার সাইড ব্যাগ আর ছাতার ব্যাগটা গুছিয়ে দিলেন। অবশ্যই আবার আসবে বলে অরন্যা ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। অভি ওকে অনুসরণ করে। ঘরের বাইরে পুরো পরিবারকে দাঁড় করিয়ে অরন্যা ওঁদের ছবি তুলে দেয়। পরেরবার গেলে দিবে। যাওয়ার সময় ফাবিহার বাবা তাদের এগিয়ে দিতে আসলে পেছন ফিরে অরন্যা বড় একটা হাসি দিয়ে বলে, ” কাকা, কাকিমা, আমরা সাংবাদিক না। তবে আরো ছয় বছর পর আমার হওয়ার ইচ্ছা আসে। সরি মিথ্যা বলার জন্য। ”
অভিকে চমকে দিয়ে ফাবিহার বাবা বলে উঠলেন, “” কিচ্ছু হবেনা। আমরা পরেরবার আপনার থেকে এই কাজের গল্পও শুনে নিব। “” -তিনি নিজেও হেসে দিলেন। ওর বাবা একটু এগিয়ে দিলেও ফাবিহা অরন্যার হাত ধরে পাড়ার বাইরে আসে। ওখান থেকে বের হবার সময় আবারো পিচ্চিগুলোর দেখা পাওয়া যায়। ওরা ঢোকার রাস্তায় দাঁড়ানো। সবার হাতে ছোটকাগজে কি যেন লেখা।
“” আপু আপনি যেমন বলসিলেন, ঐরকম করে সবার নাম আর ঠিকানা লিখে আনসি। “” -সবার সামনে দাঁড়নো পিচ্চি ছেলেটা বলে উঠে। অভি ওর কথা শুনে না হেসে পারে না। মহারাণীর আরেকটা পাগলামি। ওদের নাম ঠিকানা নিয়ে বললো পরেরবার সবার বাসায় যাবে। ওদের থেকে বিদায় নেয়ার আগে আবার একটা ছবি তুলে নেয়। ওরা মনে করিয়ে দেয় ছবিগুলো যেন অবশ্যই ওদের দিয়ে আসে পরে। যেতে যেতে পিছনে ফিরে অভি দেখে ফাবিহা এতক্ষণে তারকাবনে গেছে। বাচ্চাগুলো ওকে ওদের প্রশ্নে ঘিরে রেখেছে। কি হল, কি কি করল আরো কত কি!
অভি দেখে অরন্যা কিভাবে অচেনা বাচ্চাগুলোকে সহজেই ওর ক্লোজ আপ টুথপেস্টের এড মার্কা হাসি দিয়ে বিদায় দিলো। অরন্যা অভিকে নিয়ে পাড়া থেকে বেরিয়ে আবার ঐ মাঠ দিয়ে যেতে লাগল। ফেরার পালা এখন। হঠাত অভির পাশে এসে
” চল, কাশফুলের ঐ জায়গাটা একটু ঘুরে আসি। বেশিক্ষণ থাকব না। আর ড্রাইভার কাকাকে কল করে আসতে বলতে হবে। ” -অরন্যা জিজ্ঞেস করে। অভি ছোট্ট করে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে।
নদীর তীরের পাশে ছোটোখাটো কাশবন। শরত্কালে অনেকে যায়। তাই ছাউনি দিয়ে বসার জায়গা করা আছে। ওখান থেকে নদী খুব ভালো দেখা যায়। একদম ছবির মতো।
ছাউনির ওখানে পৌঁছে অরন্যা ড্রাইভারকে কল দিয়ে মাকে কল করে। কথা শেষ করে অভির পাশে এসে বসে। সাইড ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করতে করতে বলে,
” তুই আজকে কোনকিছুতে মন দিস নাই কেন? জানিস, পাপা আজকে আমার চেয়ে বেশি এক্সাইটেড ছিল। ” -বলে অরন্যা হেসে দেয়।
-” কই? নাহ তো! আর আংকেল তো তোর সবকিছুতেই এক্সাইটেড। ”
” ঢঙ্গী কোথাকার। আচ্ছা বল তো তাহলে, ফাবিহার বাবা মার নাম কি? ”
-” হবে কিছু একটা। ” -অভি ধরা পড়ে যায়।
” আমি জানতাম! বাবা সাইফুদ্দিন আর মা নিষাত। ফাবিহা আমাদের ডনবোস্কতে পড়ে। বাকিগুলাও। ছেলেরা তোদেরটায় আর মেয়েরা আমাদেরটায়। ”
-” হুমম। ”
” ওই!! আহ্হা!! কত্ত বড় জিনিস ভুলে গেসি! ”
অভি ভয় পেয়ে যায়।
-” কি হইলো? ”
” তোকে জিজ্ঞেস করি নাই একটা কথা। তুই ভালো আসোস? ” -অরন্যার চোখেমুখে দুষ্ট হাসি।
-” অচেনা মানুষের বাসায় খাওয়া, অচেনা বাচ্চাদের সাথে পুরো দুপুর কেটে গেল। হুমম। মনে তো হয় ভালো। তুই ভালো তো? ” -ছোট একটা হাসির সাথে অভি উত্তর দেয়।
” আমি অনেক অনেক বেশি! ”
-” অনেক খুশি, নাহ? ”
” অনেক! ” -অরন্যার হাসিটাই তার প্রমাণ।
কথায় মাঝখানে আবার নীরবতা এসে পড়ে। অরন্যা ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলো দেখে কি যেন করে। তখন অভির সকল মনোযোগ নদীর দিকে। অরন্যার কাজ হয়ে গেলে ব্যাগ গুছিয়ে অভির মতো সব মনোযোগ নদীকে দেয়। বাতাস অরন্যার লাল ওরনাটাকে এলোমেলো করে দেয়।
” কবে যে ঐদিন আসবে? ”
-” আমিও জানি না। ”
” আমি জানি তুই আমার কে। ”
-” কিন্তু আমি এখনো বুঝতেসিনা তুই আমার কি / কে? ”
” আমার জন্য তুই আমার ইডিয়ট, বেস্ট ফ্রেন্ড। আর মা, পাপা, দাদা, আর ফ্যান্টাস্টিক ফাইভের পর প্রথম ভালোবাসাজজজ! ”
-” কখনোবা সবচেয়ে অন্যরকম পাগলী, কখনোবা এর চেয়ে বেশি। ”
” আমি অপেক্ষায় থাকবো। হয়ত যেদিন ভাগ্য আমার সহায় হবে ঐ দিন তুই দ্বিতীয়বার বলবি , ভালোবাসি।”
-” হয়তো কোন একদিন আমি বুঝবো, সখি, ভালোবাসা কারে কয়। আর কিভাবে হয়। ”
নাহ। কথাগুলো ওরা মুখে বলে না। নিজেদের মনে বলে যায়। কিন্তু কিছুটা ফিল্মি টাইপে ওদের মনের কথা মিলে যায়।
ঠান্ডা বাতাস। আকাশে এখনো কালচে ছাই রঙের মেঘ। নদীর পানি কোনদিকে যাবে বুঝতে না পেরে দুই দিকেই বইতে শুরু করে। তখন প্রায় সাড়ে তিনটা বাজে।
ওহ! আরেকটা অংশ…. অরন্যা মনে মনে ভাবে ঐদিন অবশ্যই আসবে যেদিন ও গাইতে পারবে, সাহানা বাজপাইয়ের গানের শেষ অংশটুকু…..
” বুকভরা আবেগটুকু ঢেকে
হঠাত্ করে হয়ে গেলাম বড়,
বন পাহাড়ি ঝর্ণা বৃষ্টি ফেলে
আমায় বাসলো ভালো, সেই ছেলে। ”

লিখেছেনঃ Rosemary Tomato Bawm

About uddin rokon

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …