Home / মনের জানালা / নিষ্পলক চাহনি

নিষ্পলক চাহনি

nispolok chahoniআজ থেকে নয় বছর আগে ছেলেটা টিউশনের প্রথম বেতন নিবে।মাস শেষ হওয়ার আগে ছেলেটা লিস্ট করা শুরু করেছিল।লিস্টে ছিল একটা মুরগী,পোলাওয়ের চাল,মশলা-পাতি আর একটা এফ এম রেডিও।চৌদ্দ বছরের কিশোর প্রথম টিউশনের বেতন দিয়ে মা-বাবাকে চমকানোর ভালো ব্যবস্থাই করেছিল।পাঁচশ টাকা সম্মানীর টিউশনে যতটুকু সম্ভব আর কী!আর এফ এম রেডিওটা ছিল ছেলেটার শখ।২০০৭ এর হিট আইটেম।যাই হোক যথাসময়ে ছাত্রীর মা এলো সম্মানী নিয়ে।প্রথম বেতন হাতে নিবো।চমৎকার একটা হাসি খেলে ছেলেটার মুখে।ছাত্রীর মায়ের নির্দেশে টাকা গুণে নিতে হলো।ছেলেটা গুণে দেখে তার হাতে সম্মানী বাবদ তিনশত নব্বই টাকা।ছেলের হতবাক দৃষ্টিতে ছাত্রীর মায়ের ঝটপট উত্তর সাতদিন অনুপস্থিত থাকার কারণে বাকী টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।ছেলেটা কিছুই বলল না।হতাশ চোখে ঘরের সাজসজ্জা দেখতে লাগল।একপাশে ঝকঝকে সোফাসেট,বিশাল এক টেলিভিশন, বিশাল ডাইনিং টেবিলের ছোট্ট একটা চেয়ারে বসে ছেলেটার চোখ বারবার লাল টুকটুকে ফ্রিজটার দিকে চলে যায়।একটু পিপাসাও বোধহয় পেয়ে যায়।পাত্তা দেয় না ছেলেটা।তিনশত নব্বই ছেলেটা তার লিস্টের সবটাই কেনে, শুধু শখের জিনিসটা বাদ পড়ে যায় আর কী!
.
ছেলের ছোট্ট হাতে বাজার দেখে ঝিকমিক হাসিতে মা’র প্রথম জিজ্ঞাসা-বাবা রেডিও? ‘দোকানে শেষ হই গেসে,এই মাসে আর পাওয়া যাবে না’-ছেলেটার উত্তর।হয়তো সেটা সচেতনভাবে মায়ের কাছে প্রথম মিথ্যা ছেলেটার অথবা প্রথম শখকে নিজের হাতে কবরস্থ করা!
.
ছেলেটার আর কিছুই মনে নেই।শুধু মনে আছে রাতে পোলাও মাংস খাওয়ার সময় -ছেলেটার বাবা প্লেটে ভাত নিয়ে সিলিংএর দিকে তাকিয়ে আছে।সেই চোখে কি ছিল? হতাশা,অভিযোগ, অভিমান,ক্ষোভ? ছেলেটা আজও জানে না।এরপর দিন যায়,বুড়িগঙ্গায় পানি এদিক সেদিক হয়,নতুন কাকেরা পুরোনো কাকের জায়গা নেয়।কিন্তু ছেলেটা আজও টিউশনের বেতনের খামটা খুলে দেখে একশ দশ টাকা কম দিলো না তো?এরপর ছেলেটা হাজার টাকার দুঃখ কিনেছে।তবু সেই একশ দশ টাকার ক্ষত আজও ছেলেটা পুষে বেড়ায়।কি ছিল সেই দৃষ্টিতে!আহা কি ছিল সেই নিষ্পলক চাহনিতে!

সংগৃহিত

About Ontohin

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …