Home / অন্যান্য / ‘কোনো আক্ষেপ নেই’-মাইকেল ক্লার্ক

‘কোনো আক্ষেপ নেই’-মাইকেল ক্লার্ক

মাইকেল ক্লার্কবর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষে অবসর, ছয় মাসের মধ্যে আবার ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা। মাইকেল ক্লার্ক তাই আবার আলোচনায়। কেমন কাটছিল অবসরজীবন, ফেরার কথাই বা কেন ভাবলেন? ভারতের দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্লার্ক খুলে দিয়েছেন মনের দুয়ার—
* ছয় মাসের মধ্যে আপনি বড় দুটি সিদ্ধান্ত নিলেন। একটা হচ্ছে ক্রিকেটকে বিদায় বলা, অন্যটি ক্রিকেটে ফেরার। প্রথম সিদ্ধান্তটি কি আবেগতাড়িত ছিল?
মাইকেল ক্লার্ক: অবশ্যই আবেগতাড়িত ছিল না। আমি তিনটি কারণে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম—এটা আমার জন্য ভালো হবে, আমার পরিবারের জন্য ভালো হবে এবং অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য ভালো হবে। এখন ফিরে তাকালে বুঝি, আমি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি।
* কিন্তু যে সংবাদপত্রটি প্রথম আপনার ফেরার খবর দিয়েছে, সেটি তো আপনাকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ‘আমি বেশি তাড়াতাড়ি অবসর নিয়ে ফেলেছি।’ তাহলে আমরা কী ভাবব?
ক্লার্ক: এটা আমার কথা নয়। আমি কখনো এটা বলিনি।
* তাহলে ফেরার অনুপ্রেরণা পেলেন কোথায়? সেটাও আপনার একসময়ের ক্লাব ওয়েস্টার্ন সাবার্বসের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগের ক্রিকেট?
ক্লার্ক: দুটি জিনিস কাজ করেছে। প্রথমত, খেলাটির প্রতি আমার ভালোবাসা। এটা আমার রক্তে। আমার বাবার বয়স ৬৩, তিনি এখনো খেলেন। আমিও খেলা শুরু করেছিলাম ছয় বছর বয়সে। দ্বিতীয়ত, ওয়েস্টার্ন সাবার্বস আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ২০-২১ ফেব্রুয়ারি তাদের বার্ষিক ম্যাচে খেলার জন্য।
* আপনি আসলে কী মিস করছিলেন?
ক্লার্ক: ক্রিকেটের মধ্যে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা আছে, সেটা।
* আর ‘অসমাপ্ত কাজ’ রয়ে গেছে বলে যে কথাটা বলেছেন?
ক্লার্ক: এই মুহূর্তে আমি ওয়েস্টার্ন সাবার্বসের হয়ে ওই ম্যাচটার বাইরে কিছু ভাবছি না। তবে যদি ফিটনেস ভালো থাকে, আমি টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর কথা ভাবব। বিশেষ করে আইপিএল, বিগ ব্যাশ—এগুলো। আমি যত দিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছি, টি-টোয়েন্টির অগ্রাধিকার ছিল না আমার কাছে। তবে এখন পরিস্থিতি অন্য রকম। পাঁচ মাস ক্রিকেট থেকে দূরে থাকায় আমার পিঠটাও যথেষ্ট বিশ্রাম পেয়েছে।
* কিন্তু আইপিএলের এবারের নিলাম তো শনিবারেই। আপনার প্রত্যাবর্তন ম্যাচের বেশ আগে…
ক্লার্ক: না না, এবারের আইপিএল নয়। খেললে সেটা ২০১৭ সালের আইপিএল। অবশ্য যদি তারা আমাকে চায়। তার আগেই অবশ্য বিগ ব্যাশও আছে।
* আপনি তো অবসরের পরে টেলিভিশনেও কাজ করেছেন…
ক্লার্ক: হ্যাঁ। তবে ক্রিজ থেকে মাত্র কয়েক শ গজ দূরে বসে ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে, সবাইকে খেলতে দেখে আমি ক্রিকেটকে আরও বেশি মিস করা শুরু করেছি।
* তাহলে কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার কথাও ভাববেন একসময়?
ক্লার্ক: না, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আবার খেলার কথা একদম ভাবিনি। সত্যি বলতে, এখন পর্যন্ত আমার মাথায় শুধু ২০-২১ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটাই।
* ইতিহাসের প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্টের মাত্র কিছুদিন আগে অবসর বলে দিয়েছিলেন—আফসোস হয়?
ক্লার্ক: অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আমার ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। ব্যাগি গ্রিন পরার স্বপ্নটা সফল হয়েছে, আমি নিজেকে ধন্য মনে করি। আসলে কোনো আক্ষেপ নেই। আমি হৃদয় দিয়ে ক্রিকেট খেলেছি।
* টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত। আপনি?
ক্লার্ক: টেস্টই ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় এবং এটা এভাবেই থাকা উচিত। এটা আসলে উইম্বলডনের মতো। উইম্বলডন ছাড়া কি আপনি টেনিস ভাবতে পারেন? তবে তিন ধরনের ক্রিকেটের মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখতে হবে।
* গত মার্চে আপনি ছিলেন সাফল্যের চূড়ায়, বিশ্বকাপের ট্রফি ছিল আপনার হাতে। কয়েক মাসের মধ্যে ফর্ম হারালেন, অস্ট্রেলিয়া অ্যাশেজ হারল। উত্থান-পতন কি খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেখে ফেললেন?
ক্লার্ক: এটাই তো জীবন, তাই না? জীবনে কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। উত্থানও নয়, পতনও না। পালাক্রমে সবই আসে। এখানেই মানব-চরিত্রের পরীক্ষা।
* আপনার উত্তরসূরি স্টিভেন স্মিথ টেস্ট ও ওয়ান ডে অধিনায়ক হিসেবে কেমন করছেন?
ক্লার্ক: স্মিথি খুব ভালো করছে। অস্ট্রেলিয়া দারুণ একটা গ্রীষ্ম কাটিয়েছে, ব্যতিক্রমও বলতে পারেন। যদিও আমরা টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছি ভারতের কাছে।
* শেষ প্রশ্ন, এক বছর পর নিজেকে কোথায় দেখেন?
ক্লার্ক: (হাসি) এক বছর পর আরেকটা সাক্ষাৎকার হোক। তখন বলব।

About Anik

Check Also

অ্যাপলের সিইও টিম কুক এখন ভারতে

অ্যাপল কম্পিউটার ইনকরপোরেটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক ছিলেন চীনে। দেশটির এক নতুন ব্যবসায় …