Home / মনের জানালা / “অব্যক্ত ভালবাসা” পর্ব-২

“অব্যক্ত ভালবাসা” পর্ব-২

obekto valobasha– ক্যামনে যে তোমাকে উইশ করি তাই ভাবতেছি ! অর্ধেক পাতা দিয়ে , নাকি পুরা একটা দিয়ে .. !
:- হুহ , তোমার আর উইশ করা লাগবে না ।
– আমার উইশতো তোমার এখন ভালো লাগবে না ।
:- আবার সেই গা জ্বালানো কথা । তুমি পারোও বটে ..
ফোনটা বেজে উঠলো ওর হাঠাত্ । “স্যরি অর্পা , মিষ্টি মেয়েটা ফোন দিছে । যাই , পরে কথা হবে” বলে ব্যস্ত ভঙ্গিতে চলে গেল । আমার বাই শোনার অপেক্ষা টুকুও করলো না। আমিও আর দাঁড়াতে পারছিলাম না । পাশে একটা গাছের ছায়ায় বসে পড়লাম। আমার ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার আগে ওর সাথে পরিচয় , ফেসবুকে । তারপর এক সময় ফোনেও কথা বলা শুরু হয় । অনেক সময় ধরে আমরা অনেক কিছু নিয়ে কথা বলতাম । সবসময়ই পরষ্পরের বিপরীতে কথা বলতাম । অনিক আমার ক্লাসমেট না , এক ইয়ার সিনিয়র । আবার বন্ধুও না , হয়তো তার থেকেও বেশি কিছু ভাবতাম । কিন্তু ভালবাসার সাহস কখনোই পাইনি । তবে ও পারতো আমাকে সাহস জোগাতে ।

– ” আফা ও আফা আফনে কাঁনতেছেন ক্যান ?”
কথাটা কানে যেতেই ভীষণ ভাবে চমকালাম ! আমি কাঁদতেছি ! আবারো ! .. আচ্ছা কে বললো কথাটা ? পাশে তাকাতেই দেখি ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে সেই পুচকি মেয়েটা । নাম ময়না । বয়সটা ছয় সাতের মাঝামাঝি হবে । খুব ভাব আমার সাথে ।
:- কি রে , তোর ফুল আজ সব বিক্রি হয়ে গেছে ? আমার জন্য একটা ফুলও আনলি না ?
– আফনার ঐ পাগলা বন্ধুডা সব নিয়ে গেলো তো , আমি ভাবছি আফনেরে দিবো ।
উফ আবারো সেই ব্যথা !
– “কিন্তু আফা আফনে কাঁনতেছেন ক্যান ?”
:- ধ্যাত বোকা মেয়ে, এটাকে কান্না বলে না ।কোত্থেকে যেন একটা ময়লা এসে চোখের মধ্যে পড়েছে । তাইইই পরিষ্কার করছি !
– তয় আমার মায়ের চোখ পরিষ্কার হয় না ক্যান ? হ্যায় তো হারা দিনই কান্দে ।
এখন কী বলবো আমি ! এই মেয়েটার এতো বুদ্ধি , কখন যে কথার প্যাঁচে ফেলে দেয় ..
:- শোন ঐটা আল্লাহ দিছেন , তিনি যা ভাল মনে করেন তাই করেন । ঐটা তুই বুঝবি না ।
– যে ভাল আমি বুঝি না তা আমার লাগবোও না ।
:- নারে ময়না , এভাবে বলতে হয় না । আর এই নে টাকাটা রাখ , আজ না তোর মায়ের ঔষুধ কেনার কথা ।
কিছুক্ষণ বসে থেকে মেয়েটা চলে গেল । কিন্তু আমি বসেই থাকলাম । একটু আগেই মেয়েটাকে বলা কথাটা ভাবতেছি , যা হয় ভালোর জন্যই হয় । কিন্তু আমিতো আমার ভালোটা খুঁজেই পাচ্ছি না । আসলে মন্দ ভাগ্যের কথা মানা যায় কিন্তু সহ্য করা যায় না ..
পড়ন্ত বিকেল । পার্কের এক কোনায় বসে আছি আমি । বাসায় যাওয়ার কথা মনেই ছিলনা । আমাকে দেখতে হয়তো অনেকটা উদভ্রান্তের মতো লাগছে । কেউ কেউ আমাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় আড় চোখে তাকাচ্ছেও । কিন্তু কোন দিকেই মন নেই আমার । সামিহার বাসায়ও যাইনি । মেয়েটা আমাকে অনেক হাসিখুশি আর শক্ত মনে করে । তাই আমার এই ছ্যাঁক খাওয়া চেহারাটা তাকে আর দেখাতে চাই না । ওর কথা ভাবতেই ও ফোন দিল , অনিচ্ছা সত্তেও ফোনটা রিসিভ করলাম ।
:- হ্যালো অর্পা , আসলি না যে ?
– একটু ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম ।
:- কিরে , তোর গলা এমন শোনাচ্ছে ক্যান ? এক্সাম কেমন হইছে ?
– ভাল হইছে । বাট গলা কেমন শোনাচ্ছে ?
:- মনে হচ্ছে রং নাম্বারে ফোন গেছে , কবরের এক বাসিন্দা ধরছে !
– দোস্ত আমি তো তাই ই । আচ্ছা তোর খবর কি ?
:- আরে আমার খবর ! আবিরের রাগ ভাঙ্গাতে ভাঙ্গাতেই তো লাইফ শেষ !
– তোর জন্মই তো হইছে ওর লগে ন্যাকামি করার লাইগা । রাখি ।
:- আররে রাখস ক্যান ! আসল কথাই তো বলা হয় নাই । আবির না ..
– থাম !রাখ তোর আবিরের প্যাঁচাল । ফালতু প্যাঁচাল শোনার টাইম নাই আমার । রাখলাম ।

একটু পর আবার ফোন আসলো । অনিক ! ধরবো ?
:- হ্যালো , মিষ্টি মেয়ের লগে দুষ্টামি চালাইতেছ নি ?
– হুম ।মজায় আছি অর্পা । এতদিন পর মনে হচ্ছে জীবনটা আসলেই সুন্দর !
অথচ আমি এই কথাটা কত বোঝাইতে চেয়েছি । তখন বোঝে নাই । যন্ত্রণা ক্রমে বেড়েই চলেছে আমার । তাড়াতড়ি বললাম ” i am busy right now ” পরে কথা হবে । এনজয় ইউর টাইম ।” বলেই কেটে দিলাম। আর এইবার ফোন সুইচ অফ করে দিলাম । আর নিতে পারতেছি না । আমিওতো একটা রক্ত মাংসে গড়া মানুষ তাইনা ? এইবার অনেকটা জেনে শুনেই কাঁদতে লাগলাম , দু হাতে মুখ ঢেকে । ছোট বেলা থেকেই , প্রাপ্তি থেকে অপ্রাপ্তির হারটাই বেশী । মনের মতো কিছুই পাই না , আবার পেয়েও হারায়া ফেলি । অনিককে কি আমি পেয়েছিলাম ? বুঝতেছি না .. মাঝে মাঝে আমার উপর ওর নির্ভরতা দেখে মনে হতো আমি হয়তো ওর বেশ কিছুটা অংশে আছি । অথচ আজ জানলাম আমি ওর কোথাও নাই, কোথাও ছিলামও না । কখনোই আমাকে বোঝে নাই সে । বুঝবে কিভাবে ও ? আমিই তো বুঝি নাই আমাকে ! আমার দুনিয়ায় কান্নাকাটি করার নিয়ম নাই । আমি বারবার চোখ মুছতেছি , আর বারবার চোখের পাতা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে । চারপাশের অন্ধকার পৃথিবী আমার এই কান্না দেখছে …আমার কষ্টের নীরব সাক্ষী হয়তো তারাই । আমার মনের এই অব্যক্ত কথাগুলো হয়তো সারাজীবন না বলাই থেকে যাবে । আর বুকটা ক্ষত বিক্ষত করে ফেলবে প্রতি মূহুর্তে । এতোটা কষ্ট নিয়ে কি বাঁচা যায় ? না । আর কাঁদবো না । কাউকে নিয়ে স্বপ্নও দেখবো না । আমার পৃথিবীতে আমি আর কারো অস্তিত খুঁজতে যাবো না । বাঁচবো নিজের মতো করে, একা ।

লিখেছেনঃ Gothìc Angel

About Ashiq Mahmud

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …