Home / মনের জানালা / “অব্যক্ত ভালবাসা” পর্ব-১

“অব্যক্ত ভালবাসা” পর্ব-১

obekto valobashaমনে মনে কয়েকটা বাংলা শব্দ আউড়িয়ে ঠোঁটে লহ্মী মেয়ের মতো হাসি এনে বললাম “না ম্যাডাম , পরশু পরীহ্মাতে আমার কোন সমস্যা নাই । টপিকগুলো তো খুবই ইজি । সমস্যা হওয়ার কথাও না ।”
কথা শেষ করতে পারলাম না অমনি পিছন থেকে একটা গা জ্বালানো হিহিহি কানে আসলো । চরম বিরক্তি মনে লুক্কায়িত রেখে ম্যাডামকে বললাম “ম্যাডাম শায়লা হয়তো কিছু বলতে চায় ।”
আমাকে বসিয়ে ম্যাডাম ওকে দাঁড় করালেন । ও আমার দিকে একটা ভিলেন মার্কা হাসি দিয়ে ম্যাডামকে বললো “জ্বী ম্যাডাম , অর্পার কাছে যদি এগুলো ইজি হয় তবে আসলেই এগুলো ইজি ।”

আমি পুরা টাশকি খেয়ে গেলাম ! বলে কী মেয়ে ! আমার কাছে ইজি মানে ওর কাছেও ইজি ? ও কি নিজেকে আমার সমান মনে করে নাকি ? আরে গত পরীহ্মায় তো সিক থাকায় তোর চেয়ে কম পেয়েছি , তাই বলে তুই এই বলবি !
মনে মনে ওর ভবিষ্যত চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করতে লাগলাম আর ম্যাডাম ঐদিকে পরীহ্মা নিয়ে বিরক্তিকর প্যাঁচাল পাড়তে লাগলেন । ক্লাস শেষে শায়লার দিকে মারাত্মক এঙ্গেলে একটা বাঁকা দৃষ্টি দিয়ে বের হয়ে আসলাম ।

এইটা কোন কথা হইলো ! পনের দিন পার হওয়ার আগেই আর একটা পরীহ্মা , অসুস্হ থাকার কারণে গত পরীহ্মার পড়াই তো সব কমপ্লিট হয় নাই , নতুন পড়া ক্যামনে পড়ি !

এই টিচাররা কি আমাদের মানুষ মনে করেন নাকি তৃতীয় মাত্রার রোবট মনে করেন ! হুহ .. সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে কখন যেন ভার্সিটির বাইরে বের হয়ে আসছি , হঠাত্‍ সামনে তাকিয়ে দেখি সামিহা আমার দিকে অবাক মুডে তাকিয়ে আছে !

কাছে যেয়ে বললাম “কিরে ? মুখের হা টা আর একটু বড় কর , মাছির ঢুকতে সুবিধা হবে !”
:- আজ্ঞে আমি মাছির কথা ভাবছি না । ভাবছি .. আচ্ছা পাগলরাই তো বিড়বিড় করে , তাইনা দোস্ত ?
-> সাধারণত আর কি , ক্যান কি হইছে ?
:- না মানে তুই .. তো লাগাবো ফোন পাবনায় ?
বুঝলাম মনের চিন্তার প্রতিফলন এতহ্মণ আমার মুখ দিয়ে হচ্ছিল ! হেসে ফেললাম ।

-> নারে দোস্ত , আমি পাগল হই নাই । যখন পাগল হওয়ার কথা ছিল তখনই হই নাই , আর এখন তো আমি আমার দুনিয়ায় বাস করি । আমাকে পাগল বানানোর চান্স নাই কারো । .. আসলে হইছে কি ঐ যে শায়লা , আজ ক্লাসে ..
:- ওহ ঐ হাড়ে বজ্জাতটা ! বাদ দে দোস্ত বাদ দে .. আমার বারোটা বাজছে রে , কাল পরীহ্মা ।

-> আর বলিস না , পরশু আমারও পরীহ্মা । কিচ্ছু পড়া হয় নাই ..
কথা বলতে বলতে বাস স্টপে চলে আসছি । আমার বাসটা আরো কিছুহ্মণ পর আসবে । কিন্তু সামিহার টা চলে আসছে ।

-> যা রে সামিহা , পরশুর আগে আর দেখা হবে না । পরীহ্মাটা দিস ভাল মতো ।
:- আর পরীহ্মা ! আবীর তো .. আচ্ছা চলি রে , পরশু বিকালে আমার বাসায় আসিস ।
কিছুহ্মণ পর আমিও বাসে উঠলাম । সামিহা আমার হাইস্কুল লাইফের ফ্রেন্ড । আজ এই ভার্সিটিতে এসেও আগের সেই বন্ধুত্ব এখনও আছে ।

আবীর ওর বি এফ । সেই এইট থেকে প্রেম চালায়া আসতেছে ! কি যে প্রেম করে তা ওরাই জানে ! আমি তো দেখি বছরে দুই তিনবার ব্রেক আপ হয় কয়েক মাসের জন্য । আসলে আবীর পুরা ফালতু একটা পোলা । সামিহা বুঝেও ছাড়তে পারে না । ফালতু পোলারে পাত্তা দেওয়ার মাঝে কী প্রেম নিহিত তা ওই ভাল জানে । ফুল্লি ফালতু ।

হল থেকে বের হইলাম ।রাত জেগে এক্সামের প্রস্তুতি নিছি । ভাল মার্কস এইবার অবশ্যই পাবো । আমার সাথে লাগতে আসার মজাটা এইবার তুই টের পাবি শায়লা । হাহাহা.. ধুররর ! আবারো মনের কথা গুলা মুখ দিয়ে পূর্ণরূপে প্রতিফলিত হইলো । আর এইবার দেখলো অনিক ! লজ্জা পাইলাম বহুত । এমনিতেই কেন যেন ওর সাথে কথা বলতে গেলে বা ওর পাশে থাকলে মনের একটা অংশ অকেজো হয়ে যায় আমার । তবুও যথেষ্ট খিটখিটে মেজাজেই তার কথা বলি । কিন্তু এইবার যে কি হবে .. কাছে আসতেই বললাম “আসলে হয়েছে কি একটা ব্যাপারে ভাবছিলাম , ঐ যে শায়লা আছে না , ও না .. ”

:- আবারো শায়লা ! তুমি এতো হিংসুটে ক্যান অর্পা ?
কথাটা শুনে বুকের মাঝে কোথায় যেন বিশাল একটা ধাক্কা লাগলো ।
– আমি হিংসুটে ! বুঝলাম না !
:- তা নয়তো কি ! সবসময় ওর পেছনে লেগে থাকো !
– ওর পেছনে লেগে থাকি মানে ?
চরম বিরক্তি নিয়ে বললাম । খিল খিল করে হেসে দিয়ে বললো
:- তুমি খুব সামান্য বিষয়েও হাঠাত্ করে এতো সিরিয়াস হয়ে যাও ক্যান অর্পা ? ফান করছিলাম রে ইয়ার”
– ও আচ্ছা ।
:- ও আচ্ছা বলে মুখটা প্লিজ বাংলার পাঁচের মতো করে রাখবা না । আমার ভাল লাগে না ।
– ও আচ্ছা ।
:- উফফ ! জ্বী আচ্ছা .. বলেই হেসে ফেলল অনিক ।
ইস ,কী মিষ্টি হাসি ! ছেলেদের হাসি কোন এক কারণে আমার সহ্য হয় না । কিন্তু এইটা এত্তো চমত্কার ! হাঠাত্ করেই মনটা অস্বাভাবিক ভাল হয়ে গেল আমার । মনের ভাল লাগাটা হয়তো চেহারায়ও খেলে যাচ্ছিল আমার । তা দেখে ও বলল “কি ব্যাপার ? এই মেঘ এই রোদ্দুর অবস্থায় আছো দেখছি । প্রেমে পড়েছো নাকি ?” কিছুটা অপ্রস্তুত আর নিজের ওপর চরম বিরক্ত হয়ে বললাম “প্রেম বিষয়টা আমার সাথে যায় না অনিক , ইউ নো ।”
:- বাট আমার জন্য হয়তো আছে। অবাক বিস্ময়ে তার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলাম ।
– মানে ?
:- মানে খুব সহজ ।

তোমাকে যে মেয়েটার কথা বলেছিলাম , আমার ছোট বোনের বান্ধবী , আমাকে খুব পছন্দ করে । বোনের চাপে বেশ কয়েক দিন কথা বলতে হলো । খুব ভাল একটা মেয়ে। বেশ ভাল লেগে গেল। অজান্তেই তার জন্য মনের ভেতর একটা ভাললাগা কাজ করছে .. খেয়াল হলো গত এক মাস যাবত প্রায়ই ওর ফোন ওয়েটিং এ থাকতো । পাত্তা দেই নাই ব্যাপারটা । অনিক যে প্রেমে পড়তে পাড়ে তা আমার ভাবনায়ই আসে নাই কখনো ! এক মাস কথা বলে ও প্রেমে পড়ে গেল ! অথচ আমার সাথে তো কয়েক বত্সর ধরে কথা হয় , আমাকে ওর চোখেই পড়লো না !
– কি ভাবছো অর্পা ? খুশি হও নাই তুমি ? তুমিই তো চেয়েছিলে ফালতু অতীত ভুলে আমি যেন নতুন করে জীবন সাজাই ।
এইবার আর মনের চিন্তা মুখে খেলতে দিলাম না। মুখে আঁকা হাসি দিয়ে বললামঃ খুশি মানে…অন্নেক খুশি হয়েছি । টিট্র দিবা না ?
:- অবশ্যই ।

– অতীত আঁকড়ে পড়ে থাকে বেকুবরা । তুমি তো আর বেকুব না অনিক । কিন্তু .. এইটা আসলে কিভাবে সম্ভব হলো ? ও একটু লজ্জা পেলো মনে হচ্ছে
:- আসলে ও খুবই মিষ্টি একটা মেয়ে । কথা বলে ভাল লেগে গেলো তাকে । কয়েকদিনের পরিচয়েই সে আমার অনেক আপন হয়ে গেছে । তবে আমরা এখনো কাউকে লাভ ইউ বলি নাই । অনেকের সাথেই তো কথা বললাম । কিন্তু কখনোই আমার কারো জন্যেই এতোটা ভালোলাগা তৈরী হয়নি । কোথায় যেন খুব সূক্ষ্ম একটা ব্যথা হচ্ছে আমার , অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে । আমার সাথে তোমার তিন বত্সর যাবত্ কথা হচ্ছে অথচ আমাকে তোমার ভাল লাগলো না !
– আমি কি নিম পাতার পাচন অনিক ? হ্যাঁ ,আমি গা জ্বালানো কথা বলি খুব এইটা সত্যি । কিন্তু সেই কথার মাঝে যে কতোটা ভালোবাসা লুকিয়ে ছিলো তা কি তুমি একবারের জন্যেও উপলব্ধি করতে পারোনি ? আমার সব স্বপ্নই কেন এমন দুঃস্বপ্নে রুপান্তরিত হচ্ছে ? আমিও তো তোমায় নিয়ে স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলাম । আমিও তো স্বপ্ন দেখেছিলাম যে তুমি আমাকে আপন করে কাছে টেনে নিবে ।আমার জায়গা হবে তোমার বুকের মাঝখানটাতে । কিন্তু কিসের কি ? এখন সেখানে অন্য কেউ । ভাবতেই বুকটা ফেটে কান্না আসছে । আমি তোমার অপেক্ষায় কতো বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছি তা তো তুমি জানলেই না ।
:- এই অর্পা , কি হলো ? কই হারিয়ে যাচ্ছো একটু পর পর ?
তার কথায় সম্বিত ফিরে পেলাম । জোর করে ভাবনা গুলোকে তাড়ানোর চেষ্টা করলাম ।

লিখেছেনঃ Gothìc Angel

About Ashiq Mahmud

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …