Home / মনের জানালা / ভালবাসায় পূর্ণ জীবন

ভালবাসায় পূর্ণ জীবন

valobashay purnoআজকে সূর্যটা প্রচন্ড তাপ দিচ্ছে।মনে হচ্ছে সূর্যের তাপে ছাতাটাই পুড়ে যাবে।ঘড়ির দিকে তাকালাম,অফিস শুরু হতে আর মাত্র ২০ মিনিট বাকি।পায়ের গতি বাড়ালাম।মাথা বেয়ে ঘাম পড়ছে।পায়ে হেঁটেই অফিসে যেতে হয়।আমার মত মধ্যবিত্ত মানুষ তো আর রিকশায় চড়ে প্রতিদিন অফিসে যেতে পারব না।সামান্য বেতনের চাকরি,প্রতিদিন রিকশায় চড়ে অফিসে গেলে মাসশেষে বেতনের অনেক অংশই শেষ হয়ে যাবে।তারপর আবার জিনিসপত্রের যা দাম,সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়।এই হল আমার মত মধ্যবিত্তদের সমস্যা,নদীর এ কূলেও যেতে পারে না ও কূলেও যেতে পারে না সবসময় মাঝখানে পড়ে থেকে ঢেউ এর সাথে যুদ্ধ করতে হয়।…..অফিসে ঢুকেই নিজের চেয়ারে গিয়ে বসলাম।মাথার উপরে ফ্যানের বাতাস পেয়ে কিছুটা ভাল লাগছে।আবার ঘড়ির দিকে তাকালাম।নাহ্ ! দেরী হয়নি ,ঠিক সময়ে এসেই পৌঁছেছি।দেরী না করে নিজের কাজে মন দিলাম।…..কাজ করতে করতে কখন যে দুপুরের খাবারের সময় হয়ে গেছে খেয়ালই করি নি।রহমান সাহেবের কথা শুনে ফাইল থেকে চোখ তুললাম,”কি আরিফ সাহেব ! খাওয়া-দাওয়া করবেন না সারাদিন কাজের মধ্যেই ডুবে থাকবেন?”।”আরে না রহমান সাহেব,খাব।আপনি যান আমি আসছি”আমি বললাম।”চলুন,একসাথে খাই”রহমান সাহেব বললেন।”আমি একটু পরে আসছি”রহমান সাহেবকে এ কথা বলে ফোনটা হাতে নিলাম।বাসায় ফারিয়াকে ফোন দিয়ে দেখি দুপুরের খাবার খেয়েছে কিনা ।দুইবার ফোন দেওয়ার পর ফোন রিসিভ করল,”হ্যালো,ফারিয়া তুমি খেয়েছো?”আমার উত্তর না দিয়েই ফারিয়ার পাল্টা প্রশ্ন “তুমি খেয়েছো,না কাজ নিয়ে পড়ে আছো ?”।”এইতো আমি এখন খাব।তুমি খাও নি?”আমি প্রশ্ন করলাম।”না,আমিও এখন খাব।তুমি কথন আসবে?”ফারিয়া বলল।আমি বললাম”আমার আসতে আসতে ৬টা বাজবে।কেন,কিছু লাগবে?”।”না,কিছু লাগবে না এমনি বললাম”ফারিয়ার উত্তর।”আচ্ছা ঠিক আছে,তুমি খেয়ে নিও।এখন ফোন রাখি?”আমি বললাম।ফারিয়া বলল”আচ্ছা”। আমি”বাই”বলে ফোনটা রেখে খেতে চলে গেলাম।…..ফারিয়া,আমার স্ত্রী।গত বছর ডিসেম্বর এ আমাদের ৩ বছরের ভালবাসা বিয়েতে রূপ নেয়।বিয়েতে ফারিয়ার বড়লোক বাবা রাজি ছিলেন না।উনার কোন ইচ্ছা ছিল না যে উনার এত আদরের মেয়েকে আমার মত সামান্য চাকরিজীবী ছেলের কাছে বিয়ে দিবেন।কিন্তু,আমার প্রতি ফারিয়ার ভালবাসার কাছে তিনি পরাজিত হন।অবশেষে তিনি রাজি হন।বিয়ের পর তিনি আমাকে বলেছিলেন আমি যেন তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি।কিন্তু কারো করুণা আমার পছন্দ না,তাই আমি না করে দিয়েছিলাম।এই কথা শুনার পর উনি আমার উপর রেগে যান এবং আমাকে ও ফারিয়াকে উনার বাড়িতে যেতে নিষেধ করেন।এই কথা শুনার পর ফারিয়া অনেক কেঁদেছিল।কিন্তু আমাকে একটু দোষও দেয় নি,একটা কথাও বলে নি।…..ফারিয়া আমাকে এত ভালবাসে যে আমার জন্য ও সবকিছু করতে পারে,সব কষ্ট সহ্য করতে পারে।আজকে পর্যন্ত আমি ফারিয়াকে একটা ভাল শাড়ি,একটা ভাল গহনা কিনে দিতে পারি নি।ফারিয়াকে ওর পরিবার কোন দিন কোন কিছুর অভাব বুঝতে দেয় নি।কিন্তু আমার ঘরে এসে এত অভাবের মধ্যে থেকেও আমাকে কোনদিন বুঝতে দেয়নি যে ও অভাবের মধ্যে আছে।সবসময় হাসি-খুশি থাকে,খুব সুন্দর করে সবকিছু গুছিয়ে নেয়।মাঝে মাঝে আমি যখন বলি”ফারিয়া,আমাকে ভালবেসে তুমি অনেক ভুল করেছ।আজ তোমাকে এত কষ্ট করতে হচ্ছে শুধু আমাকে ভালবাসার কারণে।”তখন ফারিয়া আমাকে বলে”আরিফ,তুমি কোনদিন আমার এসব কথা বলবে না।তোমার ভালবাসার কাছে আমার এই কষ্ট কিছুই না।”যখন এই কথাটা শুনি তখন আমার কোন কষ্টকেই কষ্ট মনে হয় না।আমার বাবা-মা বেঁচে নেই।কোন ভাই-বোনও নেই।ফারিয়া ই আমার সবকিছু।অনেক ভালবাসি ফারিয়াকে,আমার নিজের জীবন থেকেও ওকে বেশী ভালবাসি।আর কয়েকদিন পর আমাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী।ফারিয়াকে কিছু গিফট করতে না পারলে খুব খারাপ লাগবে।…..

[২মাস পর]…..

আজকে আমার আর ফারিয়ার প্রখম বিবাহবার্ষিকী।কিন্তু আজ আমার মনটা ভীষণ খারাপ।ফারিয়ার জন্য কিছুই কিনতে পারি নি।কিছু টাকা হাতে ছিল।কিন্তু গত কয়েকদিন আগে আমার বৃদ্ধ মামা অসুস্থ হয়ে পড়েন।বাবা-মা মারা যাবার পর উনিই আমাকে বড় করেছেন।উনার চিকিত্‍সা করাতে গিয়ে সব টাকা শেষ হয়ে গেছে।এদিকে,আমার যে মন খারাপ সেটা ফারিয়াকে বুঝতে দেয় নি।সকালে উঠে নাস্তা করে প্রতিদিনের মতই বের হয়েছি অফিসের উদ্দেশ্যে।অনেক দেরি করে আজ অফিসে এসেছি।এসব ভাবছি আর কাজ করছি।এমন সময় হঠাত্‍ বড় স্যারের ডাক পেলাম।ভয় পেয়ে গেলাম,দেরী করে আসার ফলে,চাকরিটা যদি চলে যায়।ভয়ে ভয়ে গিয়ে স্যারের সামনে দাঁড়ালাম।স্যার আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বললেন”আরিফ সাহেব,আপনার জন্য সুসংবাদ আছে।”আমি বললাম”কি সুসংবাদ স্যার?”স্যার আমাকে বললেন,”আপনার প্রমোশন হয়েছে আর বেতন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে!”স্যারের কথা প্রথমে আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না।পরে স্যার আমাকে বুঝিয়ে বললেন যে,গত দুইবছর ধরে আমি অত্যন্ত সুন্দরভাবে নিয়মিত কাজ করেছি।এর ফলে আমার প্রমোশন হয়েছে।তারপর,স্যারকে ধন্যবাদ দিয়ে,অফিসের সবাইকে খবরটা জানিয়ে ছুটি নিয়ে বাসার পথে রওনা হলাম।বাসায় গিয়ে ঢুকতেই ফারিয়া বলল,”তোমার জন্য সুসংবাদ আছে!”আমি আগে ওরটা শুনার জন্য আমার প্রমোশনের কথা বললাম না।ফারিয়া প্রথমে বলতে চাচ্ছিল না পরে জোর করাতে বলে দিল যে”তুমি বাবা হতে চলেছো।আজ মা এর সাথে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম,ডাক্তার বলেছে।”একথা বলেই এক দৌড়ে চলে গেল পাশের রুমে।আমিও ওর পাশে গিয়ে কানে কানে বললাম”আমার প্রমোশন হয়েছে।”ফারিয়া হাসিমুখ নিয়ে প্রশ্ন করল”সত্যি বলছো?”আমি বললাম”হ্যাঁ,সত্যি,সত্যি,সত্যি।”ফারিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরল আর আমিও ফারিয়ার মাথাটা আমার বুকে ধরে ওকে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলাম।এখন অনেক ভাল লাগছে আমার।দুই দুইটা খুশির সংবাদ তাও আজকের এই বিশেষ দিনে !! সত্যিই জীবনটা অনেক সুন্দর,অনেক সুন্দর !!

লিখেছেনঃ Tareq Chowdhury Joy

About Kabir Hossain

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …