Home / মনের জানালা / ভালবাসার রঙধনু

ভালবাসার রঙধনু

valobashar rongdonuআবীরের আজ মনটা খুব খারাপ। ওর অসুখ করেছে। অসুখটা ঠান্ডা বা জ্বর এর মত কোন হালকা রোগও না আবার ক্যান্সার বা এইডসের মত প্রাণঘাতিও না। অসুখটা ওর মনের। মনে সুখ নেই বলেই আজ ওর অসুখ। কেনই বা ওর অসুখ হবে না, এ যে টিনএজারদের মহামারি রোগ। মানে আবীর এখন গুরুতর ভাবে প্রেম রোগে আক্রান্ত। নিজের ঘরে বসে বই খুলে পড়বার বৃথা চেষ্টা করছে, এমন সময় হঠাত্‍ করে “dinka chika” গান বেজে উঠল। এটা আবীরের মোবাইলের রিংটোন
এর জন্যে মায়ের কাছে প্রতিদিন বকা খায় কিন্তু মাকে এত সহজে রাগানোর এই সহজ সুযোগ মিস করার মত ছেলে আবীর নয়।তাই এটাই এখন ওর পার্মানেন্ট রিংটোন।
ফোনটা হাতে নিতেই আবীরের মনে 440 volt কারেন্টের শক লাগল। মিথিলা ফোন করেছে। মিথিলা আর আবীর সবচেয়ে ভাল বন্ধু আবার সবচেয়ে বড় শত্রুও।
– হ্যালো
– yes maam, বান্দা আপনার খেদমতে হাজির
– ফাজলামি রাখ।কত যে ঢঙ করতে পারিস
-আমি আবার কি করলাম?
-তুই মনিরকে বলেছিস যে আমার চোখে সমস্যা, আমার চোখ টেরা
– বিশ্বাস কর, আমি এভাবে বলিনি। বলেছি যে আজ কলেজে আসার সময় তুই রাস্তা থেকে নেমে মাঠে ছাগল দেখে ওর দিকে ছুটে গিয়েছিলি। মানুষ না খুঁজে যে ছাগল এর দিকে ছুটে যায়, তাকে টেরা, চোখের problem ছাড়া আর কিবা বলা যায়।
মিথিলা প্রচন্ড রেগে ফোন রেখে দিল। বাংলাদেশে আগ্নেয়গিরি না থাকলেও আবীর ঠিকই বুঝতে পারল আগ্নেয়গিরির লাভার যতই উত্তাপ থাক তার চেয়ে মিথিলার এই রাগের উত্তাপ কোন অংশেই কমনয়। অসুখ হওয়া ছেলেটা এই উত্তাপে গরম অনুভব করে ঘামতে লাগল, যদিও এখন শীতকাল।
আবীর জানে কেন মিথিলা মাঠের দিকে ছুটেগিয়েছিল। মাঠের এক কোণে যে গোলাপ গাছটা আছে, ছাগল যেন তার কাছে না যায় তাই মিথিলা ছাগল তাড়াচ্ছিল।
কত শত ভাবনা ভাবতেই আবীর ঘুমিয়ে পড়ল। সকাল হতে না হতেই ভুমিকম্প। ঘুমথেকে লাফিয়ে উঠল আবীর। মা বিপদে দোয়া ইউনুস পড়তে বলেছেন। আবীর প্রচন্ড ভয়ে তাই পড়তে লাগল। একটু পরভুমিকম্প থামল। কিন্তু একি?এ আবার কোন আযাব !আবারও যে ভুমিকম্প হচ্ছে। ভয় ভয় চোখে আবীর দেখল যে ওর ফোনে ভাইব্রেশন হচ্ছে। কাল যে মিথিলা ফোন রাখার পর ফোনটা পাশেই ছিল বুঝতে পারেনি।
মনির ফোন দিয়েছে। ভয় দেখানোর জন্য ওকে ইচ্ছেমত বকতে চাইল। কিন্তু গতকাল বেলপুরীর বিলটা মনির দেয়াতে আবীর ওকে কিছুই বলল না।
– কিরে কি করছিস
– ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাত্‍ ভুমিকম্প না…..মানে এখনও ঘুমাচ্ছি
– তাড়াতাড়ি ওঠ। সবাই তোর জন্য অপেক্ষা করছে
– আচ্ছা ঠিক আছে। আসছি
সকাল বেলায়ই তৈরী হয়ে আবীর ওদের আড্ডা দেবার জায়গায় যাচ্ছে। বিকেলের বদলে সকালে কেন যেতে বলেছে আবীর ভেবে বের করতে পারল না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই ভুমিকম্পের কারণে যে ভয় পেয়েছে তাতে কোন ভাবনা এখন ওর মাঝে নেই।
আড্ডার জায়গাটা মাঠ, মাঠে ঢুকতেই চোখছানাবড়া। এ যে আজ মেয়েরাও এসে জুটেছে। আজ যদি সবাই ওর কাছে বেলপুরী খেতে চায়, সেই খরচের আসন্ন ভয়ে ওর মুখটা শুকিয়ে পানসে হয়ে গেল।
কিন্তু একি! সবাই মিলে উচ্চাঙ্গ সংগীত শুরু করল কেন? ভাল করে শুনতেই বুঝতে পারল ওরা Happy Birthday গানটা গাইছে। কাল রাতের আগ্নেয়গিরি আর আজ সকালের ভুমিকম্পে ভুলেই গিয়েছিল যে আজ ওর জন্মদিন।
মিথিলা আজ সুন্দর করে সেজেছে। যদিও সাদা জামায় ওকে বিধবা লাগছে। স্লো মোশনে সামনে আসছে, চোখটা নামানো। পুরোপুরি ধীর স্হির। মিথিলা কিছুটা চঞ্চল স্বভাবের।আবীর এমন শান্ত মিথিলাকে এই প্রথমবার দেখছে।
মিথিলা এসে ওকে মোড়ক কাগজে মোড়ানো একটা উপহার দিল। আবীর আগ্নেয়গিরির অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জাতীয় কিছু একটার আশা করছিল। উপহারটা খুলতেই চোখে পড়ল একটা গোলাপ আর একটা চিঠি।চিঠিতে লেখা –
” বুদ্ধু, গাধা, আমি তো ছাগল তাড়াতে গিয়েছিলাম যাতে ছাগল গোলাপটা না খায় আর আমি আজ তোকে গোলাপটা দিতে পারি আমার ভালবাসার প্রথম উপহার হিসেবে, বুঝেছিস? not only ছাগল but also পাগল ”
আবীর কি বলবে বুঝতে পারল না। ওর মনে হল যে ও আলোর বেগে মহাশূণ্যে চলেছে তাই সময়টাও যেন থেমে গেছে।মিথিলা আর থাকতে পারল না, ভাবল আবীর ওকে ভালবাসে না। জন্মদিনের দিনে আবীরকে নিমের জুস খাওয়ানোর মত এমন proposal দেয়াতে ওশকড্ হয়ে গেছে। মিথিলার চোখে পানি এসে গেল আর ও দৌড়ে সেখান থেকে চলে যেতে চাইল।
স্তম্ভিত আবীর। বেচারা এতক্ষণ স্তম্ভের মত দাড়িয়ে ছিল। একটু পর বুঝতে পারল যে মিথিলা অনেক সামনে চলে গেছে। উসাইন বোল্ট স্টাইলে দৌড়িয়ে গিয়ে মিথিলাকে ধরে ফেলল। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আবীর বুঝতে
পারল মিথিলা কাঁদছে। অন্য সময় হলে বলত, আর কাদিস না। মেকাপ নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু তখন সে কেবল মিথিলার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। কিছু বলতে পারল না।
কিছুক্ষণ পর নিরবতা ভেঙে আবীর আস্তে করে মিথিলার হাত ধরল। পাগলীটার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল, ভালবাসি তোমায়।এবার মিথিলার স্তম্ভিত হবার পালা। ও পুরো স্ট্যাচু হয়ে আবীরের দিকে তাকিয়ে রইল।
আর কি বলবে বুঝতে না পেরে বলে উঠল,” ekber jo maine comitment kar diya, uske bad main apne aap ko bhi nahi sunta. ”
প্রচন্ড রাগ করার কথা থাকলেও এই কথা শুনে মিথিলা হেসে উঠল এবং আরও শক্ত করে আবীরের হাত ধরে রইল। —

লিখেছেনঃ Sparking Rayhan

About uddin rokon

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …