Home / মনের জানালা / “বৃষ্টি ভেজা রাত” পর্ব-২

“বৃষ্টি ভেজা রাত” পর্ব-২

bristy veja rat(২)
ড্রাইভারের কথাটা শুনে মেজাজটা প্রচণ্ড গরম হয়ে গেল।ড্রাইভার জানাল গাড়ি স্টার্ট নিচ্ছে না।কথাটা শুনে রাস্তায় বের হয়ে আসলাম।চিন্তা করলাম অনেক দিন বাসে চড়া হয়না।আজ বাসে করে বাসায় যাব।হাঁটতে শুরু করলাম।মাথায় খালি বিয়ের চিন্তাটা ঘুরছে।কি জন্য যে হ্যাঁ বলতে গেলাম।অবশ্য আজকে হ্যাঁ না বলে উপায় ছিল না।
বাসে উঠে একটা খালি সিট দেখে বসলাম।বাসটা বেশ ফাঁকা।আমার পাশের সিট এ একটা মেয়ে জানালার দিকে মুখ করে বসে আছে।আমি তার পাশে গিয়ে বসতেই সে আমার দিকে তাকাল।সে যখন আমার দিকে তাকাল আমি চমকে উঠলাম।মেয়েটা অনেকটা দেখতে নউমির মত।আমি তার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি।দেখলাম সেও যেন আমাকে দেখে বেশ অবাক হয়েছে।সে আমার দিকে তাকিয়ে একটা ছোট্ট হাসি দিয়ে আবার বাইরে তাকাল।আশ্চর্য!!!!!মেয়েটার হাসিটাও অনেকটা নউমির মত।কিন্তু মেয়েটা আমাকে দেখে হাসল কেন?আমি কি মিস্টার বিন যে আমাকে দেখে হাসতে হবে।একটু পর কন্টাক্টার ভাড়া নিতে আসল।কন্টাক্টর আমাকে জিজ্ঞেস করল মামা কই যাবেন?আমি জায়গার নাম বলে ভাড়া দিলাম।সে এবার মেয়েটার কাছে জিজ্ঞেস করল আপা কই যাবেন?প্রশ্নটা শুনে মেয়েটি তার ব্যাগ থেকে কাগজ কলম বের করে কি যেন লিখে কন্টাক্টারের দিকে বাড়িয়ে দিল।কন্টাক্টার কাগজটা নিয়ে একটু দেখল “আপা লেখাপড়া জানলে কি আর বাসের কন্টাক্টারি করতাম”বলে সে কাগজটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল “মামা দেখেন তো কি লেখা?আমি কাগজটা হাতে নিয়ে দেখলাম সেখানে একটা জায়গার নাম লেখা।আমি তাকে সেটা বলতে সে ভাড়া নিয়ে সামনের দিকে চলে গেল।মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে মাথাটা একটু নাড়িয়ে আবার ছোট্ট একটা হাসি দিল,মানে আমাকে ধন্যবাদ দিল।বুঝলাম মেয়েটা বোবা।এত সুন্দর একটা মেয়ে বোবা!!!!কেউ দেখলে বিশ্বাস করবে না।একটু পর মেয়েটা বাস থেকে নেমে গেল।নামার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে আবার একই ভঙ্গিতে একটা হাসি দিয়ে চলে গেল।আমি অবাক হয়ে তার যাওয়া দেখলাম।

(৩)
আজ আমার বিয়ে।চারিদিকে খুব হৈ-হুল্লোড় হচ্ছে।আমি আমার রুমে শুয়ে আছি।কিছুই ভাল লাগছে না।অবাক করা বিষয় হচ্ছে আমি এখন মেয়েকে দেখিনি।মা একবার আমাকে ছবি দেখাতে চেয়েছিল,আমি দেখিনি।হটাত দরজায় নক করার আওয়াজ পেলাম।মা আমাকে ডাকছেন।তার মানে আমাকে এখন বিয়ে করতে যাওয়ার জন্য রেডি হতে হবে।ড্রয়ার থেকে নউমির ছবিটা বের করলাম।এটা নউমির সাথে তোলা আমার শেষ ছবি।ছবিটা হাতে নিয়ে দেখতেই চোখে পানি চলে আসল “নউমি আজ তোমার জায়গায় অন্য একজন কে বসাতে যাচ্ছি।আমি এটা চাইনি কিন্তু কি করব বল?বাবা-মার মুখের দিকে তাকিয়ে আমাকে রাজি হতে হল।তুমি আমায় ক্ষমা করে দিও।আমি এখনও তোমায় ভালবাসি,অনেক বেশী ভালবাসি”।ছবিটাতে আলতো করে একটা চুমু খেয়ে ড্রয়ারে রেখে রুম থেকে বের হয়ে আসলাম।

ডাইনিং টেবিল এ বসে এক গ্লাস পানি খেলাম।সবাই শুয়ে পড়েছে।জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম।দেখলাম আকাশে বেশ মেঘ করেছে,যে কোন সময় বৃষ্টি হবে।আমার রুমে একজন আমার জন্য অপেক্ষা করছে।চিন্তা করলাম তাকে আর অপেক্ষা করানো ঠিক হবে না।সেতো কোন দোষ করেনি।তাহলে সে কেন কষ্ট পাবে?আস্তে আস্তে আমার রুমে ঢুকলাম।দেখলাম খাটে একজন বউ সেজে বসে আছে।আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম।“দেখ আমি এই বিয়েটা…………”আমার কথা শেষ হল না মেয়েটা আমার মুখের দিকে তাকাল আর আমি চমকে উঠলাম।আরে!!!এটা তো বাসের সেই বোবা মেয়েটি।বেশ অবাক হলাম যে মা জেনেশুনে আমার জন্য একটা বোবা মেয়ে ঠিক করল? “আমি জানি আপনি কি বলবেন”।আমি আবার চমকে উঠলাম।আরে এ মেয়ে দেখি কথা বলতে পারে।এই মেয়ে খালি আমাকে চমকে দিচ্ছে।একি চমকান লগ্নে জন্মেছিল নাকি?
-আপনি কথা বলতে পারেন?আমার গলার স্বরে বিস্মিত হওয়া স্পষ্ট
-হুম
-তাহলে ওইদিন……
-ওটা আমার একটা শখ বলতে পারেন।আমি মাঝে মাঝে কথা না বলে থাকি,ইশারায় কথা বলি।এটা করতে আমার খুব মজা লাগে।
-আপনি কি জানেন?আমি একটু চুপ থেকে বললাম।
-আমি জানি যে বিয়েটা আপনি করতে চাননি এবং কেন চাননি সেটাও আমি জানি।
-সব জেনেও আপনি বিয়েতে কেন রাজি হলেন?
-জানি না” বলে সে খাট থেকে নেমে আমার টেবিলটার সামনে গেল।তারপর ড্রয়ার খুলে আমার আর নউমির ছবিটা বের করল।
-আমি অনেকটা এনার মত দেখতে তাই না?
আমি আবার অবাক হলাম,ড্রয়ারে ছবি আছে ও কি ভাবে জানলো?আমি কিছু না বলে মাথাটা ওপর নিচে নাড়ালাম।সে বলল “অবাক হচ্ছেন যে আমি কিভাবে জানলাম এখানে ছবি আছে।এজন্য আপনার কাছ থেকে সরি চেয়ে নিচ্ছি।আমি আব্বু-আম্মুর সাথে আপনাদের বাসায় এসছিলাম।তখন ভাবির কাছ থেকে সব কিছু শুনেছি।ওই দিন আপনার রুমে ঢুকে ড্রয়ারটা খুলেছিলাম।তখন ছবিটা দেখি।না বলে আপনার জিনিসে হাত দেওয়ার জন্য আবার সরি বলছি”।কথা শেষ করে সে বাইরের দিকে তাকাল। “বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে,চলেন ভিজি”আমার দিকে তার সেই ছোট্ট হাসিটা দিয়ে বলল।আমি আবার চমকে উঠলাম।মেয়ে বলে কি?এত রাতে বৃষ্টিতে ভিজবে!!!!আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সে আমার হাত ধরে নিঃশব্দে ছাদে নিয়ে গেল।বেশ জোরে বৃষ্টি হচ্ছে।সে দৌড়ে ছাদের মাঝখানে চলে গেল।তার হাত দুটো দুই দিকে দিয়ে মুখটা আকাশের দিকে তুলে ভিজছে সে।আমি তাকে দেখছি।তার প্রতিটা কাজ আমাকে অবাক করে দিচ্ছে।তার ছোটমানুষী দেখে আমার ঠোঁট দুটো একটু প্রসারিত হল।এই পাগলীটা আমার জীবনসঙ্গী।জানি না আমাকে সামনে আর কতবার অবাক হতে হবে…………।

লিখেছেনঃ Ahmed Fayyaz

About Aurthohin

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …