Home / মনের জানালা / “বৃষ্টি ভেজা রাত” পর্ব-১

“বৃষ্টি ভেজা রাত” পর্ব-১

bristy veja rat(১)

এই ভাবে আর কত দিন?বয়স তো কম হল না” সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই চিৎকারটা শুনতে পেলাম।এটা মায়ের গলা।প্রতিদিন মায়ের একই কিছু কথা আমাকে শুনতে হয়।প্রথম দিকে বিরক্ত হতাম এখন অভ্যাস হয়ে গেছে,তেমন একটা গায়ে লাগে না।ঘড়ির দিকে তাকালাম,৭.০০ বাজে।৯ টায় আমার অফিস।অফিস বলতে আমাদের এক্সপোর্ট ইম্পরটের ব্যবসা আছে।আগে বাবা দেখত এখন আমি আর আমার এক মাত্র বড় ভাই ব্যবসার দেখাশোনা করি।বিছানা থেকে উঠে বাথরুমে গেলাম ফ্রেশ হতে।ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে গেলাম।টেবিলে গিয়ে বসতেই মা আমার পাশের চেয়ারটায় এসে বসল।মায়ের মুখ দেখে বুঝলাম ব্যাপারটা নিয়ে মা আজ খুব সিরিয়াস।অন্যান্য দিন মা এই একই কথা গুলো বললেও তার এমন মুখের ভাব আমি কোন দিন দেখিনি।আমার পাশে বসে মা বলল
-তুনান তোকে কিছু কথা বলব?
-বল
-আমার আর তোর বাবার তো বয়স কম হল না।আমরা আজ আছি তো কাল নেই।তোর বাবা চাচ্ছিলেন যে যাওয়ার আগে তোর বউয়ের মুখটা দেখে যেতে।খুব ভাল একটা মেয়ের প্রস্তাব এসেছে।তোর বাবার বন্ধু শাহেদ কাকাকে তোর মনে আছে?ওনার মেয়ে।ওর সাথে তুই ছোটবেলায় অনেক খেলেছিস।তোর মনে আছে?
-না
-অবশ্য তোর মনে না থাকারই কথা,তুই তখন অনেক ছোট ছিলি।ওরা তো কুয়েতে চলে গিয়েছিল।কয়েক মাস হল দেশে ফিরেছে।তোর শাহেদ কাকার অনেক আগে থেকেই ইচ্ছা ছিল তোকে ওনার জামাই করবে।কয়েকদিন আগে ওরা বাসায় এসেছিল।তুই তখন অফিসে ছিলি।তোর শাহেদ কাকা চাচ্ছিলেন যে তোদের বিয়েটা দিতে।এখন তোর মতামতটা জানা দরকার।
-মা আমি তো তোমাকে আগেই বলেছি আমার পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব না।তবু কেন আমাকে বারবার বিরক্ত করো?
-তাহলে তুমি কি সারাজীবন এভাবেই কাটাতে চাও?মা বেশ রেগে গেলেন
এবার আমার বড় ভাই কথা বলল-
-দেখ তুনান যে চলে গেছে তাকে তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না।যে আর কোন দিন ফিরে আসবে না তার জন্য নিজের জীবনটাকে এভাবে থামিয়ে রাখা বোকামি ছাড়া আর কিছুই না।তোর উচিৎ নতুন করে জীবনটা শুরু করা।
পাশ থেকে ভাবী বলল “বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে অন্তত রাজি হও ভাই”
আমি বেশ কিছুক্ষন মাথা নিচু করে চুপ করে বসে রইলাম।একটু পর কথা বললাম
-ঠিক আছে তবে আমার একটা শর্ত আছে।
মা বলল “বল”
-আমি বিয়ের কোন কিছুতে থাকতে পারব না।তোমরা মেয়ে দেখবে।আমি মেয়ে দেখতে যেতে পারব না।আমি শুধু বিয়ের দিন উপস্থিত থাকবো।আমাকে ছাড়া যদি বিয়েটা সম্ভব হতো তাহলে আমি বিয়েতেও থাকতাম না।কিন্তু সেটা যেহেতু সম্ভব না তাই আমি শুধু বিয়ের দিনটা থাকবো”। কথাগুলো বলেই আমি উঠে চলে আসলাম।যখন উঠে আসছি তখন মায়ের গলা শুনতে পেলাম “আলহামদুলিল্লাহ্‌”।

গাড়িতে বসে আছি বেশ কিছুক্ষন।জ্যামে আটকে আছি।আজ অফিস পৌছাতে দেরি হয়ে যাবে।যদিও আমি দেরি করে গেলে আমাকে কিছু বলার কেউ নেই।কিন্তু আমি বস হয়ে যদি দেরি করি তাহলে অন্যান্যরা সুযোগ পেয়ে যাবে।যত নষ্টের গোঁড়া হচ্ছে বিয়ে।বিয়ের কথা শুনতে গিয়ে আজ দেরি হয়ে গেল।জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম।আমার গাড়ির পাশেই একটা রিকশা দাড়িয়ে,তাতে দুটো ছেলে-মেয়ে বসা।তারা খুব হাসাহাসি করছে।তাদের দেখে পুরনো স্মৃতি গুলো জেগে উঠলো।নউমিও হাসতে খুব ভালোবাসতো।একটু হাসির কিছু ঘটলেই ও হাসতে হাসতে চোখের কোনে পানি এনে ফেলত।ওর সেই হাসির আওয়াজ এখন আমার কানে বাজে।ওর চোখের কোনে জমা
হওয়া মুক্তোর মত জলের কনা এখনও আমার চোখের সামনে ভাসে।হটাত জানালার কাঁচে আওয়াজ হওয়ায় চিন্তাচ্ছেদ হল।জানালার দিকে তাকিয়ে দেখলাম একটা ৫-৭ বছরের ছেলে হাত পেতে দাড়িয়ে আছে।ছেলেটার চোখ-মুখ বসা।দেখেই বোঝা যায় ঠিক মত খাওয়া হয়না।আমি ছেলেটাকে ভাল করে দেখলাম।মনে হল সেও অসুখী,আমিও অসুখী।কিন্তু দুজনার কষ্টটা সম্পূর্ণ আলাদা।দুজনারই কষ্টটা “না থাকার”।আমার “একজন মানুষ” আর তার “অর্থ”।প্রত্যেক মানুষের কিছু না কিছু কষ্ট থাকে।কারো কষ্ট গুলো বাইরের চোখ দিয়ে দেখা যায় আর কারো কষ্ট গুলো অন্তরের চোখ দিয়ে দেখতে হয়। জানালার কাঁচটা নামিয়ে তার হাতে কিছু টাকা দিলাম।টাকাটা নিয়েই সে আরেকটি গাড়ির দিকে দৌড়ালো।

অফিসে এসে আমার রুমে ঢুকে চেয়ারটায় হেলান দিয়ে বসলাম।১৫ মিনিট দেরি হয়ে গেছে আসতে।আজ অনেক কাজ রয়েছে বেশ কয়েকটা ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলতে হবে।কিন্তু কোন কাজে যেন মন দিতে পারছি না।খালি বিয়ের চিন্তাটা মাথায় ঘুরছে।মাকে কত বার নিষেধ করলাম শুনল না।আজ বাধ্য হয়ে আমাকে হ্যাঁ বলতে হল।আরেকটা মেয়ের সাথে আমার জীবন শুরু করতে হবে।কিন্তু আমার মনের মধ্যে যে শুধু নউমি আছে,তাকে শত চেষ্টা করেও আমি আমার মন থেকে সরাতে পারিনি,আর কোন দিন পারবও না।তার সেই স্মৃতি গুলো বারবার খালি ফিরে আসে।ব্যাগ থেকে ডাইরিটা বের করলাম।অনেকদিন পর আজ ডাইরিটা পড়তে ইচ্ছা হল।তাই বাসা থেকে আসার সময় ডাইরিটা সাথে করে নিয়ে আসলাম।ডাইরির প্রথম পাতাটা বের করলাম—

===আমার সাথে নউমির পরিচয় হয়,যখন আমি কানাডায় পড়তে যাই।একদিন বিকাল বেলা বাজার থেকে আমার কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বাসায় ফিরছিলাম।বাজারের কিছু সামনে একটা চার রাস্তার মোড় আছে।আমি যখন চার রাস্তার মোড়ে আসলাম দেখলাম একটা মেয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে এদিক-ওদিক দেখছে।তার মুখ দেখে বুঝলাম যে সে বেশ চিন্তিত এবং ভীত।তার হাতের দিকে চোখ পড়তে দেখলাম হাতে একটা প্যাকেট।প্যাকেটের একদম নিচে লেখা “বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স,ঢাকা”।বুঝলাম বাংলাদেশী মেয়ে।মনে হল তার সমস্যাটা জানা উচিৎ।আমি তার কাছে এগিয়ে গেলাম।
-Excuse me, কোন সমস্যা?
মেয়েটি আমার দিকে বেশ সন্দেহের চোখে তাকাল।আমি তার মনের ভাব বুঝতে পেরে বললাম “আপনার হাতের প্যাকেট দেখে মনে হচ্ছে আপনি বাংলাদেশি,আমিও বাংলাদেশী। আপনার কোন সমস্যা থাকলে বলতে পারেন”।মেয়েটি এবার একটু সাহস পেল।সে একটা ঠিকানার নাম বলল,যেখানে তার বাসা।কিন্তু কিভাবে যাবে সে বুঝতে পারছে না।সে যে জায়গার নাম বলল সেটা আমার বাসা থেকে হেটে যেতে ৫-১০ মিনিট লাগে।আমি তাকে বললাম“আমার বাসাটাও ওইদিকে আপনি চাইলে আমার সাথে আসতে পারেন”।মেয়েটি কি যেন একটু চিন্তা করল তারপর আমার সাথে যেতে রাজি হল।পথে যেতে যেতে তার কাছ থেকে তার সম্পর্কে বেশ কিছু শুনলাম।কিছুদিন হল সে কানাডায় এসেছে পড়াশোনার জন্য।এখানে কিছুই সে ঠিক মত চেনে না।আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম সে কোন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে।সে নাম বলল।নাম শুনে অবাক হলাম কারন আমিও একই ইউনিভার্সিটিতে পড়ি।কথা কথা বলতে বলতে আমরা পৌঁছে গেলাম।আমি আসার সময় তাকে আমার ফোন নম্বর দিয়ে আসলাম,আর কোন সমস্যা হলে জানাতে বললাম।

এরপর থেকে ইউনিভার্সিটিতে প্রতিদিন আমাদের দেখা হতো।আস্তে আস্তে আমি নউমির উপর দুর্বল হতে শুরু করলাম।ওর সাথে যদি একদিন দেখা না হতো বা একদিন কথা না হতো তাহলে খুব কষ্ট হতো।ও যদি কোন ছেলের সাথে বেশিক্ষন কথা বলত আমি সহ্য করতে পারতাম না।বুঝতে পারলাম আমি ওকে ভালবেসে ফেলেছি।ওকে এই কথাটা জানাতে খুব ইচ্ছা করত কিন্তু ভয়তে জানাতাম না,ও যদি না বলে দেয়।অবশেষে ঠিক করলাম কয়েকদিন পর তো ভ্যালেন্টাইন্স ডে,ওই দিন ওকে আমার ভালবাসার কথা জানাব।দেখতে দেখতে আমার কাঙ্ক্ষিত দিনটি এল।আমি ওকে ফোন করে আমাদের বাসা থেকে কিছুটা দূরে একটা পার্ক আছে সেখানে আসতে বললাম।ও খুব চকলেট পছন্দ করত।আমি কিছু ফুল আর চকলেট নিয়ে পার্কে চলে গেলাম।এই মুহূর্তে আমার হার্টবিটটা অনেক বেশি।আমাকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করিয়ে তিনি এলেন।আমার পাশে এসে বসে বলল“এখানে আসতে বললে কেন?”মনে মনে বেশ রেগে গেলাম।এমন একটা দিনে একটা ছেলে একটা মেয়েকে এইভাবে কি জন্য ডাকে সেটা যে কেউ বুঝতে পারে।আর উনি বুঝেও না বোঝার ভান করছে।আমি চুপ করে আছি দেখে সে বলল “কি ব্যাপার কিছু বলছ না কেন?আমি তার দিকে তাকালাম।পেছন থেকে চকলেটের প্যাকেট আর ফুল গুলো তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম “নউমি আমি তোমাকে ভালবাসি,তুমি কি আমাকে……?উত্তরের জন্য তার দিকে অধির অপেক্ষায় চেয়ে আছি।সে একটু চুপ থেকে বলল “তুনান আমরা অনেক ভাল বন্ধু,আর আমি চাই আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বেরই থাকুক”।তার কথাটা শোনার পর আমার হাত দুটো কেমন অবশ হয়ে গেল।প্যাকেট আর ফুল গুলো হাত থেকে পড়ে গেল।কেমন যেন বিশ্বাস করতে পারছিলাম না মনে হচ্ছিল ও মিথ্যা কথা বলছে।অনেক কষ্টে চোখের পানিটাকে আটকে রেখেছিলাম।কোন কথা না বলে আমি সেখান থেকে উঠে খুব জোরে হাটা শুরু করলাম।আমার চোখ দুটো পুরো ভিঝে গেছে।পেছন ফিরে তাকালাম না।আমি চাই না সে আমার ভেজা চোখদুটো দেখুক।

রাতের বেলা আমার মোবাইলে একটা মেসেজ আসল।নউমি কাল আমাকে একই জায়গায় দেখা করতে বলেছে।প্রথমে ভেবেছিলাম দেখা করব না,কারন দেখা করলে আমাকে কোন কথা গুলো শুনতে হবে তা আমি ভাল করে বুঝতে পেরেছিলাম। আমি জানি কাল সে আমাকে বোঝাবে আমরা অনেক ভাল বন্ধু আমি যেন বন্ধুত্বটা নষ্ট না করি ইত্যাদি ইত্যাদি।পরে অনেক চিন্তা করে ঠিক করলাম যাব।পরেরদিন পার্কে গিয়ে দেখলাম নউমি আগে থেকে বসে আছে।আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম।কেউ কোন কথা বলছি না।একটু পর ও কথা বলল “তুনান তুমি যে মিথ্যা কথা বল তা তুমি জানো”?আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকালাম,কারন তার কাছ থেকে এমন প্রশ্ন আমি আশা করিনি।আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি সে বলল “তোমার মনে আছে তুমি একবার আমাকে বলেছিলে যে তুমি মানুষের চোখ দেখে তার মনের কথা বলে দিতে পার।আসলে তুমি পারো না।তুমি আমাকে মিথ্যা বলেছিলে।তুমি যদি সত্যি মানুষের মুখ দেখে তার মনের কথা বলতে পারতে তাহলে তুমি কাল কাঁদতে কাঁদতে যেতে না”।আমি বেশ অবাক হলাম।আমি তো ওর সামনে কাঁদিনি,তাহলে ও কিভাবে বুঝল।আমার দিকে তাকিয়ে সে একটু হাসল“কি ভাবছ? আমি তোমাকে কাঁদতে না দেখেও কিভাবে বুঝলাম যে তুমি কাঁদছিলে।কারন আমি পারি,কারো চোখ দেখে তার মনের কথা বলতে।কাল তোমার চোখে আমি অনেক মেঘ দেখেছিলাম আর মেঘ হলে বৃষ্টি তো হবেই।তুমি যেহেতু বুঝতে পারলে না তাই আমি তোমাকে সত্যিটা বলি,আমিও তোমাকে ভালবাসি,অনেক বেশি ভালবাসি”।আমি কি করব বুঝতে পারছিলাম না।মনে হচ্ছিল চিৎকার করে এই খুশির খবরটা সবাইকে জানাই,কিন্তু পারলাম না।আমি তার কাছে এগিয়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলাম।মনে হচ্ছিল যদি সারাজীবন ওকে এই ভাবে জড়িয়ে ধরে থাকতে পারতাম।ওই দিনটা ছিল আমার জীবনের সব থেকে আনন্দের দিন।

আমার পড়া নউমির দুই বছর আগে শেষ হয়।তাই তার আগে আমাকে দেশে ফিরতে হয়।আমি যেদিন দেশে ফিরবো সে দিন এয়ারপোর্টে ও আমাকে জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছিল।আমিও আমার চোখের পানি সামলাতে পারিনি।আমিও অনেক কেঁদেছিলাম।ও এত কাঁদা কেঁদেছিল যে আমার শার্টের বুকের কাছে অনেকটা ভিজে গিয়েছিল।আমি যখন প্লেন এ উঠছিলাম তখন এয়ারহস্টেস একবার আমার শার্টের দিকে আর একবার আমার চোখের দিকে তাকাচ্ছিল।সে হয়ত বুঝতে পেরেছিল যে এটা কারো চোখের পানিতে ভেজা।

আমি দেশে ফিরে বাসায় আমার আর নউমির কথাটা জানাই।বাসায় কেউ আপত্তি করেনি।নউমির বাসায় প্রস্তাব পাঠালে তারাও কেউ অমত করেনি।কথা হয় যে নউমি দেশে ফিরলে আমাদের বিয়েটা দেয়া হবে।সব কিছু খুব সুন্দর কোন বাধা ছাড়াই এগিয়ে যাচ্ছিল।কিন্তু সৃষ্টিকর্তা বোধহয় অন্য কিছু চেয়েছিলেন।তিনি বোধহয় মানুষের ইচ্ছাটা অপূর্ণ রাখতে ভালবাসেন।তিনি হয়ত নউমিকে আমার জন্য সৃষ্টি করেননি।নউমি দেশে ফেরার সময় তার প্লেনটা ক্রাশ করে।প্লেনের কাউকে জীবিত পাওয়া যায়নি।সে আমার জীবন থেকে চিরজীবনের জন্য হারিয়ে যায়।

লিখেছেনঃ Ahmed Fayyaz

About Aurthohin

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …