Home / মনের জানালা / চড়ুই পাখির জীবন

চড়ুই পাখির জীবন

chorui pakhir jibonআমার নাম শুভ্র। শুভ্র রয়। সময়ের হাতে পায় শিকল বেঁধে ফেলে রেখেছি আমি। বন্দি হয়ে আছি নিজের ছোট্ট জগতে। আমার খুব কাছের বন্ধুরাও আজ আমাকে ভুল বোঝে, অবহেলা করে হয়ত। নেশা কি জিনিস আমি আজো বুঝিনা! অনেক চেষ্টা করেছি মাতাল হতে, পারিনি! তাই আজ বুঝি যারা মাতালের মত আচরন করে তারা কেউ আসলে মাতাল নয়! আছে কিছু মাদকতা তবে সে কিছুক্ষনের! শেষ বার যখন সেন্ট- মার্টিন গেলাম, অদ্ভুত মুক্ত লাগছিল নিজেকে! সারা রাত সমুদ্র সৈকতে বসে কাটিয়েছি। আশ্চর্য ঢেউ গুলো যখন পায়ের পাতা ছুঁয়ে যাচ্ছিল, বলে বোঝানো যায় না সেসব অনুভূতি। নারী, সে কখনো আমাকে টানেনি, একবারো না! সব ভালবাসার দ্বারে ঘুরে দেখেছি! লোকে এখন আমাকে অসামাজিক বলে! হয়তো আপনার কাছেও অসঙ্গত লাগছে আমার কথা গুলো, ভাবছেন কি সব আবোল তাবোল! বড় বেশি আশ্চর্যবোধক চিহ্ন আমার জীবন টায়। গতি হারিয়ে ফেলেছি যে! তাই কথায় কথায় থমকে যাই, অবাক হই!
আমি ছোট্ট একটা ঘরে থাকি। এ বাড়িটা বেশ পুরনো, সেই ১৯৫৯ সালের। দেয়াল গুলো ভেঙ্গে ক্ষয়ে গেছে! রঙ নেই কোন, বীভৎস! হঠাত মাঝে মাঝে যখন ঘুমের ঘোরে অন্ধকারে তাকাই, মনে হয় এই বুঝি আমি দেয়াল চাপা পড়লাম। একবার এমন হয়েছিল তো, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, হঠাত ঘুম ভেঙ্গে গেল, আমি লাফিয়ে উঠলাম, আর আমার ঠিক কানের পাশে ঘেঁসে একটা ইটের চাই পরলো। কিভাবে যেনো বেঁচে গেলাম!যদি সেটা আমার মুখের উপর পড়তো, তবে আর বাঁচার উপায় ছিলনা! এই যাহ্‌, আবার ভেবে বসেননি তো এটা একটা ভুতের গল্প! নাহ ভাই, ভুতের গল্প না! আমার কাছে তেমন টাকা নেই, বাবার যা রোজগার তা দিয়ে আমাদের যৌথ পরিবার চালানো খুব কষ্টের। তার মাঝে আমি আবার এখানে পড়াশোনা করি! তাই নিজের টিউশনি করে যে কটা টাকা রোজগার হয়, তাই দিয়ে কোনমতে খেয়ে পড়ে চলছে। এই পুরনো বাড়িটা তে তাই কোনমতে আছি! হোস্টেলে একটা সিট পেলে বেঁচে যেতাম! যাই হোক, এবার বোধহয় আপনারা বিরক্ত হয়ে যাচ্ছেন!
নেশার কথা বলছিলাম না! হুম অনেক নেশায় নিজেকে জড়িয়ে রাখতে চেয়েছি! কিন্তু তার চেয়ে বড় কোন নেশা আমার জীবনে কখনো আসেনি! সে আমায় ঘিরে সারাটি ক্ষণ, তাই আর কিছুই মাতাল করতে পারেনি আমাকে!আমার না হয়েও সে আমার মাঝেই আছে! আমার রুপা!
ওই যে বলিনা আমি অসামাজিক, কেন বলি জানেন? রুপা আমার ছোট চাচার মেয়ে। বয়সে আমার চেয়ে কিছু দিনের বড় হবে। আমরা হিন্দু, তাই চাচাতো মামাতো যাই হোক ভাই বোন সম্পর্কের মাঝে অন্য কোন সম্পর্ক এখানে গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্ম মানলে, ভাই বোনের মাঝে অন্য কিছু ভাবাও পাপ। আমরা যৌথ পরিবার, তাই সবাই একসাথেই থেকেছি। কখনও ভাবিইনি এমন কিছু রুপা কে নিয়ে! যেভাবে অন্যরা সেভাবেই রুপা ছিল। কিন্তু কিভাবে কখন রুপা আমার কাছে আলাদা হয়ে গেল জানিনি, টের পাইনি! নিজের এত বড় একটা আবিষ্কার ছিল সেই ভালোলাগা গুলো, সেসবের যে অন্য কোন মানে হয়, কখনও বুঝিনি! আমরা একি টেবিলে বসে পড়েছি। রুপা পড়েছে আর আমি অপলক তাকিয়ে থেকেছি ওর দিকে! ও যখন খেয়াল করেছে , বলেছে, কিরে ওরকম হ্যাবলার মত করে কি দেখছিস তুই! ও তো আমার বড় ছিল তবু কেন ও কিছু বোঝেনি? আমি হেসেছি। একটু পর বায়না ধরেছি, রুপু দেনা আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে! ভাল লাগছেনা রে! ছোট বেলা থেকে আমার মাথায় সমস্যা ছিল। তাই মাঝে মাঝেই আমি এমন বায়না ধরতাম! ও হাত বুলিয়ে দিত। আমি ওর কাছে কলেজের সব গল্প করতাম। কলেজে কত সুন্দরি মেয়ে জানিস রুপু! কিন্তু কেউ তোর মত এত সুন্দরি নারে!
-ইশ তুই যা বলিস না , আমি আবার সুন্দর নাকি! মা কালির বদলে লোক কিছুদিন পর আমাকেই পুজো করবে।
-যাহ্‌, তুই কি এত্ত কালো নাকি! তোর গাল , তোর ঠোট সব কত্ত সুন্দর! শ্যামলা হতে পারিস, কিন্তু কালো বলিস না নিজেকে! আর তোর চুল, কি সুন্দর!
-রে দাদা, এবার ক্ষেমা দে! এজন্নেই বড়দা তোকে পাগল বলে!
-এহ, বড়দা বললেই হল! তুই জিগ্যেস করে দেখিস বড়দা কে, তোর মত সুন্দর মেয়ে আছে নাকি? বড়দাও তো মেডিকেল এ পড়ছে না?
-এই হয়েছে, আর না। এখন চোখ বন্ধ করে ঘুমা!
এসব কি কোন প্রেমালাপ ছিল? কি এক অদ্ভুত ভালোলাগা ঘিরে রাখতো আমাকে, জানিনি কখনো। সারাক্ষন সবার সাথে রুপা কে তুলনা করতাম! ওর মত সংসারি , ওর মত গুনী, কজন হয়! ও যে আমার মায়া ময়ী ছিল! একবার আমার খুব জ্বর এলো। বহু দিন ছিল। ইশ কি জ্বর! খেতে পারতাম না কিছুই, কিচ্ছু করতে পারতাম না। ও আমাকে খাইয়ে দিত, বাথরুমে নিয়ে যেত, গোসল করিয়ে দিত, রাতের পর রাত জেগে মাথায় পানি ঢেলে দিত, সব তো ওই করেছে! ও পাশে থাকলে আমি ভাল থাকতাম, কিন্তু যখন দেখতাম ও নেই আবার কেমন যেন হয়ে যেতাম।
এইচ এস সি পরীক্ষার সময় নিজের পড়াশোনা বাদ দিয়ে আমার দেখাশোনা করতো। তারপর কি হল, নিজেই ফেল করে বসল। কিন্তু তাতেও ওর মনে বোধ হয় কোন দুঃখ ছিলনা। আমার রেজাল্ট ভালো হয়েছে তাতেই খুব খুশি। আমি ভার্সিটি তে চান্স পেলাম, ও আবার পরীক্ষা দিল। আমি চলে এলাম বাসা থেকে, এখানে থাকি। এই তো এখানেই আছি।
দরজায় শব্দ হচ্ছে, সম্ভবত রাজু। একটু অপেক্ষা করেন, দেখি কে এল!
………
ঘরে এত্ত মশা হয়েছে, আমি কোন রকমে আমার কাথা মুড়ো দিয়ে ঘুমাই। অবশ্য আমার এভাবেই অভ্যেস হয়ে গেছে, আজকাল মশার শব্দ না শুনলে ঘুম আসে না। তখন রাজু আসে নি, বুড়ি মা এসেছিল। পাশেই থাকে, আমাকে খাবার রান্না করে দিয়ে যায়। এতক্ষন খেলাম। কি যেন বলছিলাম আপনাদের কে? ওঃ আমার প্রেমের গল্প!চড়ুই পাখির মত জীবন আমার, তার আবার প্রেম! নিজের কোন ঠিকানা নাই ভাই, বেঁচে থাকার জন্যে বেঁচে আছি।হাসছেন নাকি?নাকি ভাবছেন ঢং করি? আমার তখন সেমিষ্টার ফাইনাল চলছে। ২ দিন পর বায়োকেমিস্ট্রি পরীক্ষা। বাসার থেকে ছোট চাচী ফোন করলেন। করেই বললেন শুভ্র বাড়ীতে আসতে পারবি? বললাম কেনো চাচী?
বললেন রুপার বিয়ে, কেন তোকে বড়দী বলেনি?
চুপ করে রইলাম। মা আমাকে কিছু বলেনি। মা কি তবে আঁচ করেছে কিছু? ভাবছিলাম সে কথা! জানেন তো, মা দের কাছ থেকে কিছু লুকানো যায় না। কিভাবে কিভাবে যেনো সব বুঝে ফেলে। চাচী কে বলেছিলাম চাচী তোমরা কর মজা, আমার পরীক্ষা।
পরীক্ষা দিলাম, কোনরকমে। আমার পরিচিত দের মাঝে কেউ রুপার ব্যপার টা জানে না। কাউকে জানাই নি। এমনিতেই তো আমাকে কেউ দেখতে পারেনা আমাকে। তবে রুপা কে জানিয়েছিলাম।
বাসার ছাদে বসেছিলাম আমি আর ও। সন্ধ্যা হয়ে আসতেই ও নেমে যেতে চাইল। বললাম কেন নামছিস বলতো? থাক না আরো কিছুক্ষন।
রুপা হেসে বলল তুই না কেমন পাল্টে গেছিস রে।
-কেমন পাল্টেছি?
– জানিনা, তোকে দেখলে আমার ভয় হয়।
আমি মাথা নিচু করে রইলাম। রুপার কাছে আমি কখনো কিছু লুকাই নি, যদি কিছু না বলে থাকি ও জিগ্যেস করলে বলে দিই। কিছুক্ষন দুজন চুপ চাপ রইলাম। একটু পর রুপা বলল শুভ্র তুই নেশা টেশা করিস না তো?
চুপ করে রইলাম। কি বলব?
-ওখানে কি ছেলেরা এত খারাপ নাকি রে? বল তো আমাকে?
বললাম, না, কেউ খারাপ না, আমার মাঝে মাঝে খারাপ লাগে, তাই মাঝে মাঝে!
রুপা আমার দিকে তাকিয়ে আছে একদৃষ্টে। বলল , কেন?
আমি তাকালাম, হাসলাম। বললাম তুই কি সত্যি বুঝিস না! তুই কি বুঝিস না আমার কষ্ট হয়! তুই কি বুঝিস না আমি কি চাই? আর তুই কি জানিস না, আমি যা চাই তা হবার না! আমি কি করব বলে দে তুই আমাকে, চুপ করে থাকবি না, ন্যাকা সাজবি না। বল আমি কি করব! কাকে বলব আমি?
রুপা চুপ করে আছে। কাঁদছে। তারপর উঠে চলে গেল।
আমার কি ধারণা জানেন, রুপাও আমাকে ভালোবাসতো। কিজানি, কাঁদছিল কেনো সেদিন তাহলে? ভালই যদি না বাসতো? করুনা করতো কি? সেবার ওকে বলার পরে আমি বাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আর বাসায় যাই নি। পুজোর ছুটি তে একদিন থেকে চলে এসেছিলাম। বাসার কারো সাথে কথা বলতাম না, এখানেও না। একা থাকতাম। রুপার বিয়ের পরে আমি গিয়েছিলাম ওদের বাসায়। বাসা তো না, বাড়ি তে। গ্রামে বিয়ে হয়েছিল রুপার। আমায় যত্ন করে বসাল। খাওয়াল, তারপর বলল তুই কেন এসেছিস শুভ্র? আমার মোবাইল টা তে তখন ছবি তোলা যেত। আমি ওর ক্লান্ত বিষন্ন সিঁদুর মাখা মলিন মুখটার ছবি তুললাম। খাটে বসে ছিলাম আমি, আর ও নিচে। আমার পায়ের কাছে বসেছিল। একটু পরে আমার দিকে তাকিয়ে বলল তুই আর আসিস না। আর কক্ষনো আসিস না। বিশ্বাস কর, এতেই তোর ভাল হবে।
চলে এসেছিলাম সেদিন, কষ্ট লেগেছিল খুব, যেতে বারণ করলো? যাব না। ওর ছবি তো আছে আমার কাছে একটা, মনে পরলে সেটাই দেখে নেব।
কিন্তু তবুও যে ওকে দেখতে ইচ্ছে হয়। ওর একটা ছেলে হয়েছে, ছেলেটাকে দেখতে ইচ্ছে করে। মাঝে মাঝে আসে আমাদের বাড়ি, আমি যাই না। ইচ্ছে করেই যাই না, হয়তো আমাকে দেখে অস্বস্তি লাগতে পারে ওর। সুখে আছে কিনা জানিনা, কেমন স্বামী ওর কে জানে। ওকে দেখে তো বোঝার উপায় নাই, সারাক্ষন মুখে হাসি লেগে থাকে। বুঝিনা আমার কি করা উচিত। এত দিন হয়ে গেছে, তবুও বুঝিনা।
জানেন, আমি এখন আর নেশা করিনা। ওসব ছেড়ে দিয়েছি। বহু আগেই ছেড়েছি। নেশা করিনা বললে ভুল হবে, আমি ওই সব ছাই পাশ আর এখন খাই না, ওসবে আমার নেশা হতনা কোন দিনো। তবু খেতাম, কিছুক্ষন মাথা ঘুরতো।মাঝে মাঝে রাস্তা দিয়ে হাঁটতাম আর চিৎকার করতাম, মাঝে মাঝে চুপ করে বসে থাকতাম। এখন কিছুই করিনা। ঘরের মধ্যে ঘাপ্টি মেরে পড়ে থাকি। কিছুদিন পর লেখাপড়ার পাট চুকবে। একটা কোম্পানির সাথে আলাপ হয়েছে। সেই বান্দরবান এ চাকরী। হয়ত আগামী মাসে চলে যাব।
আচ্ছা আমার কথা শুনে কি পাগলের প্রলাপ মনে হচ্ছে? আমি আমার এই কদিনের জীবন টাতে খুব বড় রকমের একটা ধাক্কা খেয়েছি। নিজের কারণেই, আমি কাউকে দোষী করিনা। আর কাকেই বা দোষ দিব। সমাজ মেনে চলতে হয়, মানুষের তৈরী নিয়ম, এর বাহিরে আমরা যেতে পারিনা। হয়তো আমি যেতাম, কিন্তু রুপা তো যেতোনা। ও কক্ষনো আমার বাবা মা, ওর বাবা মা কাউকে কষ্ট দিতনা। ও যা করেছে, জেনে বুঝেই করেছে। আরো ভালো বিয়ে হতে পারতো ওর, তবু ও রাজী হয়েছে, যত তারাতারী পারে সরে যেতে চেয়েছে। সরে গিয়েছে। কিন্তু এতসব ও কেনো করেছে? আমি এখন মাঝে মাঝে ভাবি জানেন? রুপা কি তাহলে আমাকে ভালবাসতো? সেজন্যে কি ও আমার ক্ষতি করতে চায় নি? সেজন্যে কি চেয়েছে, আমি ভাল থাকি? আচছা আমি কি ভাল আছি? ওকে ছাড়া? আবার মাঝে মাঝে এটাও মনে হয়, আমি কি ভাল থাকতাম, সবার অবহেলা সহ্য করে, পরিবারের সবার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে , শুধু ওকে নিয়ে? ও তো তখন কষ্টে থাকত। রুপু কষ্টে থাকলে কি আমি ভালো থাকতাম?
শুধু নিজেকে সুখী করতে চেয়ে আজো কি কেউ সুখি হতে পেরেছে? অথবা শুধু অন্যকে সুখি রাখতে গিয়ে কি কেউ নিজে সুখি থেকেছে?
বড্ড বেশী ক্যাচাল করছি না? আজকাল সুযোগ পেলেই এসব কথা ভাবি। আজ আপনাকে বলছি, আসলে বলার কেউ নেই তো। জানেন খুব চেষ্টায় আছি, আমার জীবন টাকে একটা ছাঁচে আনতে। পারছিনা। কিভাবে কিভাবে যেন সব কেমন গোলমাল হয়ে যায়। রুপা কে ভুলে গেল ভালো থাকব? ভুলে কি থাকা যায়? আমি তো ইচ্ছে করেই ওর সাথে জড়িয়েছি নিজেকে। ইচ্ছে করেই ওর নেশায় বুদ হয়ে থেকেছি। এ নেশা টা ছাড়তে পারবনা বোধ হয়! আর তাছাড়া ভুলবই বা কেন? ওর জন্যেই তো এখনো চেষ্টা করি নিজেকে ভালো রাখতে। মনে হয় ও চায় আমি ভাল থাকি, এটা তো পুরন হওয়া দরকার, না?
আপনাকে অনেক বিরক্ত করলাম। জানেন এমন কিছু কথা এগুলো, কাউকে বলা টা খুব হয়তো দরকার ছিল। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কিছু আমি, যেগুলো সত্যি শুধুই আমি, সেই কথা গুলো কে আপনাকে জানালাম। আপনি কিছু মনে করবেন না। ভাল থাকবেন। অনেক ভাল থাকবেন।

লিখেছেনঃ মৃন্ময়ী হোসেন

About uddin rokon

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …