Home / মনের জানালা / আনন্দের অশ্রু

আনন্দের অশ্রু

anonder asruশীতের সকালটা খুব মিষ্টি।সকাল বেলা আম্মুর বকা ছাড়া ঘুম ভাঙ্গে না।আজ সকালটা কুয়াশায় পরিপূর্ণ।কুয়াশায় খালি পায়ে ঘাসের ওপর হাটতে আমার ভাল-লাগে।
ধুররর আম্মুর জন্য ঘুমটা ভেঙ্গে গেল।আর এই সময় দেখি আমার এক পাগলি দোস্ত মালিহা কল করে বলে…
দোস্তঃ দোস্ত আজ কলেজ যাব না,তুইও যাবি না,ঠিক আছেত……?
আমিঃঠিক আছে কিন্তু কেন কলেজ যাব না……??
দোস্তঃআমি তোরে নিয়ে জাহান্নামে যাব!!!
আমিঃনা না না !!!!আমি কলেজ যাব…
দোস্তঃতুই হারামি আমার সাথে ঘুরতে যাবি না…?ঠিক আছে, ঠিক আছে।
আমিঃআরে রাগ করস কেন,কই যাবি…?
দোস্তঃবললাম না জাহান্নামে যাব!!!
আমিঃআছা ঠিক আছে,আমার থেকে কোন জায়গাই আসতে হবে।
দোস্তঃতুই কলেজ এর সামনে ঠিক নয়টায় চলে আসবি।দেরি হলে তোর খবর আছে…!
আমিঃঠিক আছে,Bye.

পাগলির জন্য আর ঘুমানো হল না।পাগলিটার সাথে প্রথম পরিচয়টা এখনও মনে পরে। কলেজের প্রথম দিনই পরিচয় তার সাথে।ক্যান্টিনে নাস্তা করতে গিয়ে প্রথম কথা হয়।
ক্যান্টিন থেকে নাস্তা করে ক্লাস গিয়ে দেখি মেয়েটা আমাদের ক্লাস।আমি জিজ্ঞাস করি তুমি আমাদের ক্লাস এ কেন…?
সে বলে এইটা-ত আমার ক্লাস।আমিত অবাক।
ক্লাসে কথা হত।আস্তে আস্তে দুইজনের বন্ধুত্ব গাঢ় হতে লাগলো।তাকে আমি আদর করে পাগলি ডাকি।রাত জেগে চ্যাঁট করা,ক্লাস মিস দিয়ে ঘোরাঘুরি করা,ফুচকা খাওয়া ইত্যাদি ছিল নিত্যদিনের অভ্যাস।
মাঝে মাঝে ভাবি পাগলিটার প্রেমে পড়েছি কি আমি…?
আম্মুর ডাকে ঘোর ভাগল।তাড়াতাড়ি নাস্তা করে গোসল করলাম।তারপর রেডি হয়ে বাহির হইলাম।আজ মেঘলা আকাশ।
গাড়িতে উঠার সাথে সাথে দেখি মালিহা কল দিল।ওই হারামি কয় তুই,এইত আমি গাড়িতে,ok তাড়াতাড়ি আয় বলে কল কেটে দিল।
এই মেয়েটার একটা অভ্যাস আমার ভালো লাগে না।শুধু নিজের কথা বলে কল কেটে দিবে আমার কথাটা শুনতেও চায় না।
গাড়ি থেকে নেমে তাড়াতাড়ি রিকসা নিয়ে কলেজে আসি।দেখি সে আমার আগে হাজির,আমি কখনও তার আগে আসতে পারি না।
তাকে দেখে আমিত অবাক হয়ে গেছি।তাকে আজ এত সুন্দর লাগছে যা আমি কল্পনাতে ও ভাবতে পারছি না।তার প্রেমে কি সত্যি আমি পরেছি…?
ওই হারামি কি দেখছ,চুপ কেন???তার কথায় আমি ভাবনার জগত থেকে ফিরে আসি।
না মানে তোকে দেখছিলাম,কেন আমারে আর দেখছ নাই।
হু দেখছি কিন্ত তোরে আজ এত সুন্দর করে আর দেখি নাই,আরে হইছে থাক আর বলতে হবে না,চল গাড়িতে উঠ।
না আজ তোর গাড়িতে যাব না,কেন……????
আজ আমরা দুইজনে রিকসা নিয়ে ঘুরব,ঠিক আছে চল তাইলে রিকসায় উঠি।
রিকসা উঠলাম দুজনে।আর আমি চুপ করে বসে আছি,ওই তুই চুপ কেন????
না ভাবছিলাম…!!!কি ভাবছ…????
ভাবছি বিয়ে করব;মেয়ে খোজঁ,আরে তোর মত পাগলকে কে বিয়ে করবে শুনি!!!!!
আআআআ!!! আমার মত ভালো ছেলে আর কে আছে???ok গুগলে চার্চ দিই,আরে কোন মেয়ে পাই না-ত।
থাক তোর থেকে আর মেয়ে খুঁজতে হবে না…।আমি তোরে বিয়ে করব,আরে তোর মত রোমান্টিক আমার উথলাই পরে না।
হাহাহা-হাহাহাহা।হাসছ কেন…????
না এমনিতে,ধুর পাগল।
দুইজনে একটা ফাস্ট ফুডের দোকানে নাস্তা করে আবার রিকসাই উঠলাম।
রিকসাই দুজনে কত কথা বলতে লাগলাম,যেন কথার ভাণ্ডার ফুরাই না।
হঠাৎ বাতাসে তার চুলগুলো আমার মুখের সামনে উড়তে থাকে,তখন থাকে নিয়ে আমার স্বপ্নের জগতটা আরও বড় হতে লাগল।আমি কি সত্যি তার প্রেমে পরেছি…?হ্যাঁ আমি তার প্রেমে পরেছি।আজ আমার ভালবাসার কথা থাকে বলতে হবে।
ওই পাগলি চল একটা পার্কে যায়,ঠিক আছে চল।
পার্কে গিয়ে দুজনে একটি বেঞ্চে বসি।
মালিহা আজ মেঘলা আকাশটা খুব সুন্দর,তাই না…?হ্যাঁ খুব সুন্দর,এই রকম আকাশ দেখতে আমার ভাল লাগে।
হ্যাঁ আমারও ভাল লাগে এই রকম আকাশ,কিরে তোর মুখ ফ্যাকাশে হয়ে আছে কেন?
কয় না-ত!!তোকে কিছু কথা বলার ছিল,হ্যাঁ বল।

আমি অনেক ভাবলাম,দেখি যে তোকে ছাড়া আমার জীবন অচল।তোকে ছাড়া আমি থাকতে পারব না।আমি তোকে অনেক অনেক ভালবাসি।হইত তুইও আমাকে ভালবাসস কিংবা ভালবাসস না।কিন্ত আমি তোরে ছাড়া থাকতে পারব না।
জানি না তোর মধ্যে কি আছে??মন চাই তোকে আরও কাছে পেতে,ইচ্ছে করে তোর সাথে সারাক্ষণ কথা বলতে।তোকে আমার ভালবাসার কথা অনেক আগে বলতে চেয়েছি কিন্ত বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে কিছু বলিনি।কিন্ত এখন আর না বলে পারছি না।তাই বলে দিলাম আমার ভালবাসার কথা।

মালিহা আমি তোকে অনেক অনেক ভালবাসি।

ওই পাগল এই কথা বলতে তোর এতদিন লাগে নাকি।তুই না বলতি আমার মনের কথা বুঝছ,আমিও তোকে অনেক অনেক ভালবাসি।কখনও আমাকে দূরে ঠেলে দিস না।আমিও তোকে ছাড়া অচল।

এই কথাগুলো শুনে আমার চোখ দিয়ে আনন্দ অশ্রু জড়তে লাগল। দেখি মালিহাও কাঁদছে।

আর আকাশও দেখি আমাদের এই আনন্দ অশ্রুর সাথে সামিল হচ্ছে…

লিখেছেনঃ Bhalo Pula Rimon.

About Aurthohin

Check Also

ভাত, কাপড়, ভালবাসা

( ভুমিকায় বলে নেই, গল্পের বক্তা চরিত্রটির মত আমিও নারীবাদি নই।আমি মানি নিয়তি নারী পুরুষ …